📄 চাশতের নামায
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَوْصِنِي يَا عَمُّ: قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ: مَنْ صَلَّى الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُكْتَبْ بَيْنَ الْغَافِلِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا أَرْبَعًا كُتِبَ مِنَ الْعَابِدِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا سِتًّا، لَمْ يَتْبَعْهُ يَوْمَئِذٍ ذَنْبٌ، وَمَنْ صَلَّاهَا ثَمَانِيًا كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً، بُنِي لَهُ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু যর রাযি. কে বললাম, হে চাচা! আমাকে কিছু নসীহত করুন। তিনি বললেন, তোমার মতোই আমি রাসূল ﷺ কে বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি চাশতের দুই রাকাআত নামায আদায় করবে, তার নাম গাফেলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে চার রাকাআত আদায় করবে তার নাম আবেদদের মাঝে লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে ছয় রাকাআত আদায় করবে, তার ওই দিনের কোনো গুনাহ বাকী থাকবে না। আর যে আট রাকাআত আদায় করবে, তার নাম বিনয়ীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে বারো রাকাআত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করা হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ لِلْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ بَابُ الضُّحَى، فَإِذَا كَانَ يَوْমُ الْقِيَامَةِ، نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يُدِيمُونَ عَلَى صَلَاةِ الضُّحَى، هُذَا بَابُكُمْ فَادْخُلُوهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, তার নাম হলো, বাবুদ-দুহা। কিয়ামতের দিন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, ঐসব লোকেরা কোথায় যারা সর্বদা চাশতের নামায আদায় করত। এটা তোমাদের দরজা তোমরা তা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর।
টিকাঃ
৪৭৩. হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৪০] হাদীসটি হাসান পর্যায়ের [ফাতহুল বারী লি-ইবনে হাজার: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৬৫; তারগীব মুনযিরী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩২০]।
৪৭৪. হাদীসটি জাল বলে প্রতীয়মান হয় [তালখীসুল ইলাল লি-যাহাবী: পৃষ্ঠা-১৬১]।
📄 আল্লাহর দরজায় করাঘাত
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا كَانَ الرَّجُلُ فِي صَلَاتِهِ، فَإِنَّمَا يَقْرَعُ بَابَ الْمَلِكِ، وَمَنْ يُدِمْ عَلَى قَرْعِ بَابِ الْمَلِكِ يُوشِكُ أَنْ يُفْتَحَ لَهُ، وَيُقَالُ: فَضْلُ صَلَاةِ اللَّيْلِ عَلَى صَلَاةِ النَّهَارِ، كَفَضْلِ صَدَقَةِ السِّرِّ عَلَى صَدَقَةِ الْعَلَانِيَةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ যখন নামাযে মগ্ন থাকে, তখন সে মহান রাব্বুল আলামীনের দরজায় করাঘাত করে। আর যে অব্যাহতভাবে মহান রাব্বুল আলামীনের দরজায় করাঘাত করতে থাকে, আশা করা যায়, তার জন্য দরজা খোলা হবে।
বর্ণিত আছে, দিনের নামাযের চেয়ে রাতের নামাযের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, প্রকাশ্য সদকা করার চেয়ে গোপন সদকা করার শ্রেষ্ঠত্ব যেমন।
📄 জমিনের গৌরব
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ بُقْعَةٍ يُصَلِّي فِيهَا صَلَاةٌ أَوْ ذُكِرَ اللهُ عَلَيْهَا إِلَّا اسْتَبْشَرَتْ بِذَلِكَ إِلَى مُنْتَهَاهَا، إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ، وَفَخَرَتْ عَلَى مَا حَوْلَهَا مِنَ الْبِقَاعِ، وَمَا مِنْ عَبْدٍ يَقُومُ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ، يُرِيدُ الصَّلَاةَ إِلَّا تَزَخْرَفَتْ لَهُ الْأَرْضُ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, যে স্থানে নামায আদায় করা হয় অথবা যিকির করা হয়, সে স্থান তার নিম্নবর্তী সপ্তম স্তরসহ খুশি থাকে এবং পার্শ্ববর্তী স্থানসমূহের উপর সে গর্ব করতে থাকে। আর যখন কোনো বান্দা কোনো খালি স্থানে নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করে, তখন জমিন তার জন্য সুসজ্জিত হয়ে যায়।
টিকাঃ
৪৭৫. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-৪১১০; হাদীসটি জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৭৯]।
📄 ফেরেশতাদের সঙ্গে আল্লাহ তা'আলার গর্ব
عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَبَّكَ يُبَاهِي الْمَلَائِكَةَ بِثَلَاثَةِ نَفَرٍ: رَجُلٌ يَكُونُ بِأَرْضِ قَفْرٍ، فَيُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ، ثُمَّ يُصَلِّي وَحْدَهُ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي يُصَلِّي وَحْدَهُ لَا يَرَاهُ أَحَدٌ غَيْرِي، لِيَنْزِلْ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، وَلْيُصَلُّوا وَرَاءَهُ، وَرَجُلٌ قَامَ بِاللَّيْلِ فَيُصَلِّي وَحْدَهُ، فَيَسْجُدُ، فَيَنَامُ وَهُৱা سাজেদুন, ফায়াকুলু: উনযুরু ইলা আবদি রুহুহু ইন্দি ওয়া জাসাদুহু সাজিদুন ইলাইয়া, ওয়া রাজুলুন ফী যাহফি গাযওয়িন ফা সাবাতা হাত্তা ক্বতিলা।
হযরত খালেদ ইবনে মা'দান রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এ হাদীস পৌঁছেছে যে, তিন ধরনের মানুষের কারণে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। যথা-
১. ওই ব্যক্তি যে জনমানবহীন অঞ্চলে আযান ইকামত দিয়ে নামায আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তখন ফেরেশতাদেরকে বলেন, দেখ আমার বান্দার দিকে, সে একাকী নামায আদায় করছে। আমি ছাড়া কেউ তাকে দেখছে না। যাও সত্তর হাজার ফেরেশতা গিয়ে তার পিছনে নামায আদায় কর।
২. ওই ব্যক্তি যে রাত জেগে নামায আদায়কালে সেজদাবস্থায় ঘুমিয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা তখন ফেরেশতাদেরকে বলেন, দেখ আমার বান্দার দিকে, তার রূহ আমার নিকট চলে এসেছে, আর তার দেহ আমার সেজদায় পড়ে আছে।
৩. ওই ব্যক্তি যে ভয়াবহ যুদ্ধের সময় অবিচল থেকে যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যায়।
টিকাঃ
৪৭৬. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১২০৩; হাদীসটি মুরসাল হলেও শক্তিশালী মাওকুফ বর্ণনা বিদ্যমান আছে [শরহে উমদাহ লি-ইবনে তাইমিয়া: ১/৩০৩; আল-বাদরুল মুনীর: ২/৪৪৪]।