📄 নফল নামাযের সওয়াব
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : لَوْ أَنَّ أَحَدُكُمْ رَأَى ثَوَابَ رَكْعَتَيْنِ مِنَ التَّطَوُّعِ، لَرَأَى ذَلِكَ أَعْظَمَ مِنَ الْجِبَالِ الرَّوَاسِي، فَأَمَّا الْمَكْتُوبَةُ فَهِيَ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُقَالَ فِيهَا.
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, যদি দু'রাকাত নফল নামাযের সওয়াব চোখে দেখা যেত, তাহলে দেখতে, বড় বড় পাহাড়ের তুলনায় তা বৃহৎ দেখা যেত। ফরয নামাযের সওয়াব বর্ণনাতীত।
📄 ঘরে নফল নামায আদায়
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ، وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا.
হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরে নামায আদায় কর। ঘরকে কবর বানিয়ো না।
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : تَطَوُّعُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ، يَزِيدُ عَلَى تَطَوُّعِهِ عِنْدَ النَّاسِ، كَفَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ
হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, ঘরে নফল নামায আদায় করা মানুষের মাঝে নফল আদায় করার চেয়ে অধিক সওয়াবের কাজ। যেমন একাকী নামায আদায় করার চেয়ে জামাতে নামায আদায় করা অধিক সওয়াবের কাজ।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ تَطَوُّعًا نُورٌ فَنَوَّرُوا بُيُوتَكُمْ.
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, ঘরে নফল নামায আদায় করা নূর। সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরকে নূর দ্বারা আলোকিত কর।
টিকাঃ
৪৬৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-১১৮৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৭৭।
৪৭০. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস-৬৫১৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস-৪৮৩৫; হাদীসটি সহীহ [মুনযিরী, আহমাদ শাকের ও আলবানী]
৪৭১. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-১৩৭৫; মুসনাদে আহমাদ খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৪; হাদীসটি হাসান [জামে সগীর: ১৫৯৬; আত-তারগীব, মুনযিরী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১২]।
📄 আওয়াবীন ও ইশরাকের নামায
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَلَّى بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ عِشْرِينَ رَكْعَةً، حَفِظَ اللَّهُ لَهُ أَهْلَهُ وَمَالَهُ، وَدِينَهُ، وَدُنْيَاهُ، وَآخِرَتَهُ، وَمَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فَقَعَدَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার নামাযের মাঝে বিশ রাকাআত নামায আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার পরিবার পরিজন, ধন-সম্পদ, দীন-দুনিয়া ও পরকালকে হেফাজত করবেন। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত নামাযের সে স্থানে বসে থাকবে, তারপর দু'রাকাত নফল নামায আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ও জাহান্নামের মাঝে একটি আড়াল তৈরি করে দিবেন।
টিকাঃ
৪৭২. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৩৭৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪৩৫; হাদীসটি জাল বলেই প্রতীয়মান হয় [মীযানুল এতেদাল: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৭৭; আত-তানযীহ: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১২২; জয়ীফাহ: ৪৬৭]।
📄 চাশতের নামায
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَوْصِنِي يَا عَمُّ: قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ: مَنْ صَلَّى الضُّحَى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُكْتَبْ بَيْنَ الْغَافِلِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا أَرْبَعًا كُتِبَ مِنَ الْعَابِدِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا سِتًّا، لَمْ يَتْبَعْهُ يَوْمَئِذٍ ذَنْبٌ، وَمَنْ صَلَّاهَا ثَمَانِيًا كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ، وَمَنْ صَلَّاهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً، بُنِي لَهُ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু যর রাযি. কে বললাম, হে চাচা! আমাকে কিছু নসীহত করুন। তিনি বললেন, তোমার মতোই আমি রাসূল ﷺ কে বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, যে ব্যক্তি চাশতের দুই রাকাআত নামায আদায় করবে, তার নাম গাফেলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে চার রাকাআত আদায় করবে তার নাম আবেদদের মাঝে লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে ছয় রাকাআত আদায় করবে, তার ওই দিনের কোনো গুনাহ বাকী থাকবে না। আর যে আট রাকাআত আদায় করবে, তার নাম বিনয়ীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে বারো রাকাআত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করা হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ لِلْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ بَابُ الضُّحَى، فَإِذَا كَانَ يَوْমُ الْقِيَامَةِ، نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يُدِيمُونَ عَلَى صَلَاةِ الضُّحَى، هُذَا بَابُكُمْ فَادْخُلُوهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, তার নাম হলো, বাবুদ-দুহা। কিয়ামতের দিন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, ঐসব লোকেরা কোথায় যারা সর্বদা চাশতের নামায আদায় করত। এটা তোমাদের দরজা তোমরা তা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর।
টিকাঃ
৪৭৩. হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৪০] হাদীসটি হাসান পর্যায়ের [ফাতহুল বারী লি-ইবনে হাজার: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৬৫; তারগীব মুনযিরী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩২০]।
৪৭৪. হাদীসটি জাল বলে প্রতীয়মান হয় [তালখীসুল ইলাল লি-যাহাবী: পৃষ্ঠা-১৬১]।