📄 প্রতি জোড়ার জন্য সদকা
عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ بَنِي آدَمَ كُلَّ يَوْمٍ صَدَقَةً، ثُمَّ قَالَ : أَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةً، وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ . صَدَقَةً، وَذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى صَدَقَةً، وَمُبَاضَعَتُكَ أَهْلِكَ صَدَقَةً قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَِيَقْضِي الرَّجُلُ شَهْوَتَهُ، وَيَكُونُ لَهُ صَدَقَةً؟ قَالَ: أَرَأَيْتَ لَوْ فَعَلَ ذَلِكَ فِيمَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ، أَلَيْسَ كَانَ عَلَيْهِ إِثْمٌ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: فَإِذَا فَعَلَهَا فِيمَا أَحَلَّ اللَّهُ كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً، قَالَ: وَيُجْزِئُ عَنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَا الضُّحَى.
হযরত আবূ যর রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, আদম সন্তানের শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর প্রত্যেক দিন সদকা (ওয়াজিব) হয়। তারপর বললেন, সৎকাজের আদেশ একটি সদকা। অসৎকাজ থেকে বারণ করা একটি সদকা। আল্লাহর যিকির একটি সদকা। স্ত্রীর সাথে মিলন একটি সদকা। আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! কেউ তার যৌন কামনা পূরণ করল, তাও কি তার জন্য সদকা হবে? রাসূল বললেন, তোমরা কি চিন্তা করে দেখনি, যদি সে তা হারাম স্থানে করত, তবে কি তার গুনাহ হতো না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, সে যদি তা হালাল স্থানে করে তাহলে অবশ্যই তা তার জন্য সদকা ও সওয়াবের কারণ হবে। তারপর রাসূল বললেন, চাশতের দু'রাকাত নামায আদায় করা ঐ সব কিছু থেকেও উত্তম।
টিকাঃ
৪৬৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭২০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৯৫৬।
📄 সালাতুত তাসবীহ
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ لِلْعَبَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: يَا عَمُّ، أَلَا أَصِلُكَ أَلَا أَحْبُوكَ أَلَا أَنْفَعُكَ؟ قَالَ: بَلَى فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، قَالَ: قُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكْعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ، فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ قُلْ : سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا ، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ، فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقُومَ فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، وَهِيَ ثَلاثُ مِائَةٌ فِي أَرْبَعِ رَকْعَاتٍ، فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ غَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ। قَالَ: وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَفْعَلَهَا فِي كُلِّ يَوْমٍ؟ قَالَ: يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ جُمْعَةٍ। قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ : يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ شَهْرٍ قَالَ : فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ : يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ سَنَةٍ.
আবু রাফে রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল আব্বাস রাযি. কে বললেন, হে আমার চাচা! আমি কি আপনার প্রতি অনুগ্রহ করব না! আমি কি আপনার উপকার করব না! আব্বাস রাযি. বললেন, হ্যাঁ। আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক। রাসূল বললেন, আপনি চার রাকাআত নামায আদায় করুন। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়বেন এবং আরেকটি সূরা মিলিয়ে পড়বেন। প্রত্যেক রাকাতে কেরাত পড়ার পর ১৫ বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' পড়বেন এবং রুকুতে ১০ বার, কওমাতে ১০ বার, সিজদায় ১০ বার, জলসায় ১০ বার, দ্বিতীয় সিজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সিজদা থেকে ওঠার পর বসে ১০ বার পড়বেন। এভাবে প্রত্যেক রাকাতে ৭৫ বার এবং পুরো ৪ রাকাআত নামাযে সর্বমোট ৩০০ বার এই তাসবীহ পড়া হবে। এই নামায আদায় করলে আপনার গুনাহ যদি মরুভূমির বালির সমানও হয়, তবুও আল্লাহ তা'আলা তা মাফ করে দিবেন। এরপর বললেন, সম্ভব হলে দৈনিক একবার, না হয় সপ্তাহে একবার, না হয় মাসে একবার, না হয় বছরে একবার হলেও এ নামায পড়ে নিবেন।
টিকাঃ
৪৬৮. সুনানে আবূ দাউদ হাদীস-১২৯৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪৮২; হাদীসটি সহীহ।
📄 নফল নামাযের সওয়াব
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : لَوْ أَنَّ أَحَدُكُمْ رَأَى ثَوَابَ رَكْعَتَيْنِ مِنَ التَّطَوُّعِ، لَرَأَى ذَلِكَ أَعْظَمَ مِنَ الْجِبَالِ الرَّوَاسِي، فَأَمَّا الْمَكْتُوبَةُ فَهِيَ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُقَالَ فِيهَا.
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, যদি দু'রাকাত নফল নামাযের সওয়াব চোখে দেখা যেত, তাহলে দেখতে, বড় বড় পাহাড়ের তুলনায় তা বৃহৎ দেখা যেত। ফরয নামাযের সওয়াব বর্ণনাতীত।
📄 ঘরে নফল নামায আদায়
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ، وَلَا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا.
হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরে নামায আদায় কর। ঘরকে কবর বানিয়ো না।
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : تَطَوُّعُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ، يَزِيدُ عَلَى تَطَوُّعِهِ عِنْدَ النَّاسِ، كَفَضْلِ صَلَاةِ الْجَمَاعَةِ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ
হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, ঘরে নফল নামায আদায় করা মানুষের মাঝে নফল আদায় করার চেয়ে অধিক সওয়াবের কাজ। যেমন একাকী নামায আদায় করার চেয়ে জামাতে নামায আদায় করা অধিক সওয়াবের কাজ।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ تَطَوُّعًا نُورٌ فَنَوَّرُوا بُيُوتَكُمْ.
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, ঘরে নফল নামায আদায় করা নূর। সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরকে নূর দ্বারা আলোকিত কর।
টিকাঃ
৪৬৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-১১৮৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৭৭।
৪৭০. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস-৬৫১৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস-৪৮৩৫; হাদীসটি সহীহ [মুনযিরী, আহমাদ শাকের ও আলবানী]
৪৭১. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-১৩৭৫; মুসনাদে আহমাদ খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৪; হাদীসটি হাসান [জামে সগীর: ১৫৯৬; আত-তারগীব, মুনযিরী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১২]।