📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নামাযী ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য

📄 নামাযী ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لِلْمُصَلِّي ثَلَاثُ خِصَالٍ تَحْفُ بِهِ الْمَلَائِكَةُ، مِنْ قَدَمِهِ إِلَى عَنَانِ السَّمَاءِ، وَيَسْقُطُ عَلَيْهِ الْبِرُّ مِنْ عَنَانِ السَّمَاءِ، إِلَى مَفْرِقِ رَأْسِهِ، وَمَلَكُ يُنَادِي لَوْ يَعْلَمُ هُذَا الْمُصَلِّي مَنْ يُنَاجِي مَا انْفَتَلَ.
হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, নামাযী ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। যথা-
১. তার পা থেকে আসমান পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে বেষ্টন করে নেয়।
২. আসমান থেকে তার মাথার উপর বরকত বর্ষণ হতে থাকে।
৩. নামাযে আল্লাহর সাথে কথোপকথন হয়। একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকে, যদি এই নামাযী ব্যক্তি জানত যে, নামাযে কার সাথে তার কথোপকথন হয়, তাহলে সে কখনো নামায শেষ করতো না।

টিকাঃ
৪৬৫. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদীস-১৫০; জামে সগীর হাদীস-৭৩৩১; হাদীসটি মুরসাল জয়ীফ [সিলসিলা জয়ীফাহ: হাদীস-৪৩৩৩]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ফজরের নামাযের পর থেকে ইশরাক পর্যন্ত যিকিরে মশগুল থাকা

📄 ফজরের নামাযের পর থেকে ইশরাক পর্যন্ত যিকিরে মশগুল থাকা


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ بَعَثَ سَرِيَّةً، فَعَجَّلَتِ الْكَرَّةَ وَأَعْظَمَتِ الْغَنِيمَةَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْنَا سَرِيَّةً قَطُّ أََعْجَلَ كَرَّةً، وَلَا أَعْظَمَ غَنِيمَةً مِنْ سَرِيَّتِكَ هَذِهِ قَالَ: أَفَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَعْجَلِ كَرَّةً، وَأَعْظَمِ غَنِيمَةً مِنْ سَرِيَّتِي هَذِهِ. قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ: أَقْوَامٌ يُصَلُّونَ الصُّبْحَ، ثُمَّ يَجْلِسُونَ فِي مَجَالِسِهِمْ، يَذْكُرُونَ اللهَ تَعَالَى حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ يُصَلُّونَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَرْجِعُونَ إِلَى أَهَالِيهِمْ، فَهَؤُلَاءِ أَعْجَلُ كَرَّةً وَأَعْظَمُ غَنِيمَةً.
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী একটি যোদ্ধা বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারা যুদ্ধ থেকে দ্রুত ফিরে এলো এবং বহু গনীমতের মাল নিয়ে এলো। তখন সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কখনো এমন যোদ্ধা বাহিনী দেখিনি, যারা এই যোদ্ধা বাহিনীর চেয়ে দ্রুত গনীমতের মাল নিয়ে ফিরে এসেছে। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এদের চেয়েও দ্রুত অনেক গনীমতের মাল নিয়ে ফিরে আসা বাহিনীর কথা বলব না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ বলুন। রাসূলুল্লাহ বললেন, যারা ফজরের নামায আদায় করে নিজ নিজ স্থানে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকিরে লিপ্ত থাকে, অতঃপর দু'রাকাত নামায আদায় করে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যায়, তারা এ বাহিনীর চেয়েও অধিক গনীমতের মাল নিয়ে অতি দ্রুত ফিরে যায়।

টিকাঃ
৪৬৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৫৬১; সনদ জয়ীফ [ইবনে কাসীর মুসনাদে ফারুক খণ্ড-১, পৃষ্ঠা- ১৮৮]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রতি জোড়ার জন্য সদকা

📄 প্রতি জোড়ার জন্য সদকা


عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ بَنِي آدَمَ كُلَّ يَوْمٍ صَدَقَةً، ثُمَّ قَالَ : أَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةً، وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ . صَدَقَةً، وَذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى صَدَقَةً، وَمُبَاضَعَتُكَ أَهْلِكَ صَدَقَةً قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَِيَقْضِي الرَّجُلُ شَهْوَتَهُ، وَيَكُونُ لَهُ صَدَقَةً؟ قَالَ: أَرَأَيْتَ لَوْ فَعَلَ ذَلِكَ فِيمَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ، أَلَيْسَ كَانَ عَلَيْهِ إِثْمٌ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: فَإِذَا فَعَلَهَا فِيمَا أَحَلَّ اللَّهُ كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً، قَالَ: وَيُجْزِئُ عَنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَا الضُّحَى.
হযরত আবূ যর রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, আদম সন্তানের শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর প্রত্যেক দিন সদকা (ওয়াজিব) হয়। তারপর বললেন, সৎকাজের আদেশ একটি সদকা। অসৎকাজ থেকে বারণ করা একটি সদকা। আল্লাহর যিকির একটি সদকা। স্ত্রীর সাথে মিলন একটি সদকা। আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! কেউ তার যৌন কামনা পূরণ করল, তাও কি তার জন্য সদকা হবে? রাসূল বললেন, তোমরা কি চিন্তা করে দেখনি, যদি সে তা হারাম স্থানে করত, তবে কি তার গুনাহ হতো না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, সে যদি তা হালাল স্থানে করে তাহলে অবশ্যই তা তার জন্য সদকা ও সওয়াবের কারণ হবে। তারপর রাসূল বললেন, চাশতের দু'রাকাত নামায আদায় করা ঐ সব কিছু থেকেও উত্তম।

টিকাঃ
৪৬৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭২০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৯৫৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সালাতুত তাসবীহ

📄 সালাতুত তাসবীহ


عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ لِلْعَبَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: يَا عَمُّ، أَلَا أَصِلُكَ أَلَا أَحْبُوكَ أَلَا أَنْفَعُكَ؟ قَالَ: بَلَى فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، قَالَ: قُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكْعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ، فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ قُلْ : سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً، ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا ، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ، فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا قَبْلَ أَنْ تَقُومَ فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، وَهِيَ ثَلاثُ مِائَةٌ فِي أَرْبَعِ رَকْعَاتٍ، فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ غَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ। قَالَ: وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَفْعَلَهَا فِي كُلِّ يَوْমٍ؟ قَالَ: يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ جُمْعَةٍ। قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ : يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ شَهْرٍ قَالَ : فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ : يَفْعَلُهَا فِي كُلِّ سَنَةٍ.
আবু রাফে রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল আব্বাস রাযি. কে বললেন, হে আমার চাচা! আমি কি আপনার প্রতি অনুগ্রহ করব না! আমি কি আপনার উপকার করব না! আব্বাস রাযি. বললেন, হ্যাঁ। আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক। রাসূল বললেন, আপনি চার রাকাআত নামায আদায় করুন। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়বেন এবং আরেকটি সূরা মিলিয়ে পড়বেন। প্রত্যেক রাকাতে কেরাত পড়ার পর ১৫ বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' পড়বেন এবং রুকুতে ১০ বার, কওমাতে ১০ বার, সিজদায় ১০ বার, জলসায় ১০ বার, দ্বিতীয় সিজদায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সিজদা থেকে ওঠার পর বসে ১০ বার পড়বেন। এভাবে প্রত্যেক রাকাতে ৭৫ বার এবং পুরো ৪ রাকাআত নামাযে সর্বমোট ৩০০ বার এই তাসবীহ পড়া হবে। এই নামায আদায় করলে আপনার গুনাহ যদি মরুভূমির বালির সমানও হয়, তবুও আল্লাহ তা'আলা তা মাফ করে দিবেন। এরপর বললেন, সম্ভব হলে দৈনিক একবার, না হয় সপ্তাহে একবার, না হয় মাসে একবার, না হয় বছরে একবার হলেও এ নামায পড়ে নিবেন।

টিকাঃ
৪৬৮. সুনানে আবূ দাউদ হাদীস-১২৯৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪৮২; হাদীসটি সহীহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px