📄 আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিকে দুনিয়াতেই শাস্তি দেন
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ : الْحُمَّى حِفْظُ كُلِّ مُؤْمِنٍ مِنَ النَّارِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, জ্বর হলো, প্রতিটি মুমিনের দোযখের অংশ।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، قَالَ: قَالَ رَبُّكُمْ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي، لَا أُخْرِجُ عَبْدًا مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَرْحَمَهُ، حَتَّى أُنَقِّيَهُ مِنْ خَطِيئَتِهِ عَمِلَهَا بِسُقْمٍ فِي جَسَدِهِ، أَوْ ضِيقٍ فِي مَعِيشَتِهِ، فَإِنْ بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْهَا شَيْءٍ شَدَدْتُ عَلَيْهِ الْمَوْتَ، حَتَّى يَجِيءَ إِلَيَّ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ، وَلَا أُخْرِجُ عَبْدًا مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُعَذِّبَهُ، حَتَّى أُوَفِّيهِ كُلَّ حَسَنَةٍ عَمِلَهَا، بِصِحَةٍ فِي جَسَدِهِ، أَوْ سِعَةٍ فِي رِزْقِهِ، فَإِنْ بَقِيَ مِنْهَا شَيْءٌ هَوَّنْتُ عَلَيْهِ الْمَوْتَ حَتَّى يَجِيءَ إِلَيَّ وَلَيْسَتْ لَهُ حَسَنَةٌ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, তোমাদের আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জত ও প্রতাপের শপথ! যে বান্দার প্রতি আমি দয়া করতে চাই, তাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে আসার পূর্বে গুনাহ থেকে মুক্ত করি, চাই দৈহিক মসীবত দিয়ে কিংবা জীবিকার অভাব দিয়ে। যদি তারপরও কোনো গুনাহ বাকী থাকে, তাহলে মৃত্যুকে কঠিন করে দেই। ফলে সে জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে আমার নিকট আসে। আর যাকে আযাব দিতে চাই, তাকে নেক-কাজের বিনিময় দুনিয়াতে দিয়ে দেই। তার দৈহিক সুস্থতা ও আর্থিক সচ্ছলতা তার নেককাজের বিনিময় হিসেবে দেই। এরপরও যদি প্রতিদান দেওয়া বাকি থাকে, তাহলে তার জন্য মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করে দেই। ফলে আমার নিকট এমন অবস্থায় আসে যে, তার কোনো নেক আমলই বাকি থাকে না।
টিকাঃ
৪৬১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২০৮৮; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩৪৭০; সনদ হাসান [ফাতহুল বারী: খণ্ড-১০, পৃষ্ঠা-১৮৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩০৯; তারগীব মুনযিরী: খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৩৬]।
৪৬২. মুসনাদে ফিরদাউস: হাদীস-৪৫০৯; সনদ অত্যন্ত জয়ীফ [তারগীব মুনযিরী: ৪/২৯৭]
📄 অসুস্থ ব্যক্তি গুনাহ-মুক্ত হয়ে যায়
عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: كُنَّا نُحَدِّثُ مُنْذُ خَمْسِينَ سَنَةً، أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَرِضَ مَرَضًا يُشْرِفُ مِنْهُ عَلَى نَفْسِهِ، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ، وَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: اكْتُبُوا لِعَبْدِي مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحَّتِهِ حَتَّى أَقْبِضَهُ أَوْ أُخْلِي سَبِيلَهُ
হযরত আবুল আলিয়া রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর যাবত আমরা আলোচনা করতাম, মানুষ অসুস্থ হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দার জন্য ওসব আমলের সওয়াব লিখে দাও, যেগুলো সে সুস্থ অবস্থায় করত, যে পর্যন্ত না সে সুস্থ হয়ে ওঠে অথবা মৃত্যুবরণ করে।
📄 অসুস্থ ব্যক্তির ইবাদত
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ عَادَ مَرِيضًا لَمْ يَزَلْ يَخُوضُ فِي الرَّحْمَةِ فَإِذَا جَلَسَ عِنْدَهُ انْغَمَسَ فِيهَا.
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে যেন আল্লাহর রহমতে ঢুকে পড়ে। আর যখন সে তার নিকট বসে যায়, তখন সে যেন আল্লাহর রহমতে ডুবে যায়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ عَادَ مَرِيضًا فَكَأَنَّمَا صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى الْيَوْمُ بِسُبْعُ مِائَةِ يَوْمٍ، وَمَنْ تَبِعَ جِنَازَةً فَكَأَنَّمَا صَامَ يَوْমًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْيَوْمُ بِسَبْعِ مِائَةِ يَوْمٍ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেল, সে যেন আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখল। আর ওই এক দিন সওয়াবের দিক দিয়ে সাতশত দিনের সমান। যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সাথে কবরস্থানে গেল, সে যেন আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখল। আর ওই এক দিন সওয়াবের দিক দিয়ে সাতশত দিনের সমান।
টিকাঃ
৪৬৩. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১৪২৬০; আল-আদাবুল মুফরাদ হাদীস-৫২২; হাদীসটি সহীহ [হাকেম, যাহাবী ও শুয়াইব আরনাউত]। সহীহ মুসলিমে (২৫৬৮) এসেছে, রোগীর সেবাদানকারী বেহেশতের ফলমূল আহরণে রত থাকে যতক্ষণ না ফেরত আসে।
৪৬৪. মুসনাদে হুমাইদী: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৬৯; সনদ নিতান্তই জয়ীফ।
📄 অন্তরের কঠোরতার চিকিৎসা
বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি উম্মে দারদা রাযি.-এর নিকট গেল এবং অন্তরের কাঠিন্যের অভিযোগ করল। তখন উম্মে দারদা রাযি. বললেন, এটা তো গুরুতর রোগ। এর চিকিৎসা হলো, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষা করা, মৃত ব্যক্তির সাথে কবরস্থানে যাওয়া, আর কবরসমূহ অবলোকন করা। লোকটি তা করার পর তার অন্তরের কঠোরতা দূর হয়ে গেল ও কোমলতা অনুভব করল এবং উম্মে দারদা রাযি.-এর নিকট ফিরে এসে বলল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।