📄 কল্যাণের খাজানা
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثُ مِنْ كُنُوزِ الْبِرّ، كِتْمَانُ الْمَرَضِ، وَكِتْمَانُ الصَّدَقَةِ، وَكِتْمَانُ الْمُصِيبَةِ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, তিনটি বিষয় খাজানা স্বরূপ। যথা-
১. অসুস্থতা গোপন করা।
২. দান সদকা গোপন করা।
৩. বিপদাপদ গোপন করা।
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। সালমান ফারসী রাযি. অসুস্থ হলে রাসূল ﷺ তাঁকে দেখতে গেলেন। অতঃপর বললেন, তোমার বিছানার তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যথা- ১. তোমার প্রতিপালকের কথা স্মরণ করা। ২. অসুস্থ ব্যক্তির পাপসমূহ মাফ হয়ে যাওয়া। ৩. অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়া। সুতরাং তুমি যতটুকু সম্ভব আল্লাহর নিকট দোয়া কর।
টিকাঃ
৪৫৯. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৭/১১৭; কিতাবুল মাজরুহীন: ১/২৫৭; হাদীসটি জয়ীফ [আত-তানযীহ: ২/৩৫৪; তাখরীজুল এহইয়া: ১/২৮৯]।
৪৬০. ইবনে আসাকীর বর্ণনা করেছেন [কানযুল উম্মাল হাদীস-২৫১৯৯]
📄 অসুস্থতা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ السَّقِيمَ لَا يُكْتَبُ لَهُ أَجْرُ، إِنَّمَا الْأَجْرُ في الْعَمَلِ، وَلَكِنْ يُكَفِّرُ بِهِ الْخَطَايَا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কোনো নেকি লেখা হয় না। কারণ, নেকি তো আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তবে অসুস্থতার কারণে গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, অসুস্থতার কারণে কোনো নেকি লেখা হয় না। কিন্তু সুস্থ অবস্থায় সে যে সব নেকির কাজ করত, তার অনুরূপ সওয়াব তার আমলনামায় লিখে দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। অর্থাৎ, যদি সে তাওবা করে। আর যদি তাওবা না করে। বরং আগের পাপগুলো আবার করার নিয়ত থাকে তাহলে তার গুনাহসমূহ মাফ করা হয় না।
📄 আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তিকে দুনিয়াতেই শাস্তি দেন
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ : الْحُمَّى حِفْظُ كُلِّ مُؤْمِنٍ مِنَ النَّارِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, জ্বর হলো, প্রতিটি মুমিনের দোযখের অংশ।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، قَالَ: قَالَ رَبُّكُمْ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي، لَا أُخْرِجُ عَبْدًا مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَرْحَمَهُ، حَتَّى أُنَقِّيَهُ مِنْ خَطِيئَتِهِ عَمِلَهَا بِسُقْمٍ فِي جَسَدِهِ، أَوْ ضِيقٍ فِي مَعِيشَتِهِ، فَإِنْ بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْهَا شَيْءٍ شَدَدْتُ عَلَيْهِ الْمَوْتَ، حَتَّى يَجِيءَ إِلَيَّ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ، وَلَا أُخْرِجُ عَبْدًا مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُعَذِّبَهُ، حَتَّى أُوَفِّيهِ كُلَّ حَسَنَةٍ عَمِلَهَا، بِصِحَةٍ فِي جَسَدِهِ، أَوْ سِعَةٍ فِي رِزْقِهِ، فَإِنْ بَقِيَ مِنْهَا شَيْءٌ هَوَّنْتُ عَلَيْهِ الْمَوْتَ حَتَّى يَجِيءَ إِلَيَّ وَلَيْسَتْ لَهُ حَسَنَةٌ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, তোমাদের আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জত ও প্রতাপের শপথ! যে বান্দার প্রতি আমি দয়া করতে চাই, তাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে আসার পূর্বে গুনাহ থেকে মুক্ত করি, চাই দৈহিক মসীবত দিয়ে কিংবা জীবিকার অভাব দিয়ে। যদি তারপরও কোনো গুনাহ বাকী থাকে, তাহলে মৃত্যুকে কঠিন করে দেই। ফলে সে জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে আমার নিকট আসে। আর যাকে আযাব দিতে চাই, তাকে নেক-কাজের বিনিময় দুনিয়াতে দিয়ে দেই। তার দৈহিক সুস্থতা ও আর্থিক সচ্ছলতা তার নেককাজের বিনিময় হিসেবে দেই। এরপরও যদি প্রতিদান দেওয়া বাকি থাকে, তাহলে তার জন্য মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করে দেই। ফলে আমার নিকট এমন অবস্থায় আসে যে, তার কোনো নেক আমলই বাকি থাকে না।
টিকাঃ
৪৬১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২০৮৮; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩৪৭০; সনদ হাসান [ফাতহুল বারী: খণ্ড-১০, পৃষ্ঠা-১৮৫; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩০৯; তারগীব মুনযিরী: খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৩৬]।
৪৬২. মুসনাদে ফিরদাউস: হাদীস-৪৫০৯; সনদ অত্যন্ত জয়ীফ [তারগীব মুনযিরী: ৪/২৯৭]
📄 অসুস্থ ব্যক্তি গুনাহ-মুক্ত হয়ে যায়
عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: كُنَّا نُحَدِّثُ مُنْذُ خَمْسِينَ سَنَةً، أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَرِضَ مَرَضًا يُشْرِفُ مِنْهُ عَلَى نَفْسِهِ، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ، وَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: اكْتُبُوا لِعَبْدِي مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحَّتِهِ حَتَّى أَقْبِضَهُ أَوْ أُخْلِي سَبِيلَهُ
হযরত আবুল আলিয়া রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর যাবত আমরা আলোচনা করতাম, মানুষ অসুস্থ হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দার জন্য ওসব আমলের সওয়াব লিখে দাও, যেগুলো সে সুস্থ অবস্থায় করত, যে পর্যন্ত না সে সুস্থ হয়ে ওঠে অথবা মৃত্যুবরণ করে।