📄 মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা
عَنْ زَاذَانَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَلَى سَطْحٍ لَهُ، وَلَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ صُحْبَةً، فَرَأَى النَّاسَ يَتَحَمَّلُونَ وَيَنْتَقِلُونَ، فَقَالَ: مَا بَالُهُمْ؟ قِيلَ: يَفِرُّونَ مِنَ الطَّاعُونِ، فَقَالَ: يَا طَاعُونُ خُذْنِي يَا طَاعُونُ خُذْنِي، فَقِيلَ لَهُ: لِمَ تَدْعُو بِالْمَوْতِ، وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ، وَقَدْ سَمِعْتَهُ يَنْهَى عَنْهُ. فَقَالَ: أَسْأَلُ اللهَ الْمَوْتَ لِخِصَالِ سِتَّ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَخَوَّفُهُنَّ عَلَى أُمَّتِهِ، قُلْنَا : مَا هُنَّ؟ قَالَ: إِمَارَةُ الصِّبْيَانِ، وَكَثْرَةُ الشَّرْطِ، وَالرَّشْوَةُ فِي الْحُكْمِ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ، وَاسْتِخْفَافُ بِالذِّمَّةِ، وَنَشْءُ يَتَّخِذُونَ هَذَا الْقُرْآنَ مِزْمَارًا مَهْجَرًا، يُقَدِّمُونَ الرَّجُلَ، وَمَا هُوَ بِأَفْضَلِهِمْ، وَلَا بِأَفْقَهِهِمْ إِلَّا لِيُغَنِّيَهُمْ بِالْقُرْآنِ غِنَاءً.
যাযান রহ. বলেন, আমরা হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি.-এর সাথে তাঁর একটি ছাদে ছিলাম। তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ-এর সাহাবী। তিনি দেখতে পেলেন, লোকজন বোঝা বয়ে স্থানান্তর হয়ে যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এদের কী হলো? তাঁকে জানানো হলো, এরা মহামারীর ভয়ে পলায়ন করছে। তখন তিনি বললেন, হে মহামারী, আমাকে ধরো! হে মহামারী, আমাকে ধরো! তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি মৃত্যু কামনা করছেন কেন? আপনি রাসূলের সাহাবী; তাঁকে এর থেকে নিষেধ করতে শুনেছেন। তিনি বললেন, ছয়টি কারণে আমি মৃত্যু কামনা করছি, যেগুলো থেকে নবীজী উম্মতকে ভয় দেখিয়েছেন। আমরা বললাম, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, সেগুলো হলো, বাচ্চাদের [তথা ছোটদের] হাকিম হওয়া; বাজি বেশি হওয়া; ফয়সালের ব্যাপারে ঘুষ লেনদেন হওয়া; আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা; জিম্মাদারী এবং অঙ্গীকারে পরোয়া না করা; আর সর্বশেষ বিষয় হলো কুরআনকে গানের মত গ্রহণ করা। এক ব্যক্তি, যে কিনা তাদের থেকে জ্ঞানে-মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ নয়, তাকে এজন্য আগে বাড়িয়ে দেওয়া হবে যে, সে কুরআনকে গানের মতো করে শোনাবে।
টিকাঃ
৪৪৯. তুবারানী আউসাত: ২/১০৫; শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসটির শাওয়াহেদ বিদ্যমান থাকায় শক্তিশালী সাব্যস্ত হয়। [তাখরীজে সিয়ার: ২/৪৭৬]।
📄 দরবারী আলেম আর বাজারী ক্বারী
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ مَرَّ عَلَى بَابِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، فَرَأَى قَوْمًا مِنَ الْقُرَّاءِ قَالَ : مَا ظَنُّكُمْ يَا هَؤُلَاءِ الْقُرَّاءِ، لَيْসَ هَذَا مِنْ مَجَالِسِ الْأَنْقِيَاءِ।
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে হুবাইরার দরবারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ক্বারীদের একটি দল দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, হে ক্বারী সাহেবরা, তোমাদের কী ধারণা? এটা মুত্তাকীদের মজলিস নয়। নবীজী ইরশাদ করেছেন—
إِيَّاكُمْ وَجِيرَانَ الْأَفْنِيَاءِ، وَعُلَمَاءَ الْأُمَرَاءِ وَقُرَّاءَ الْأَسْوَاقِ.
তোমরা সম্পদশালী, দরবারি আলেম এবং বাজারি ক্বারীদের প্রতিবেশী হয়ো না।
📄 হাকিমের সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি
عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ، قَالَ : إِنِّي لَأَتَقَلَّبُ اللَّيْلَةَ كُلَّهَا عَلَى فِرَاشِي، أَلْتَمِسُ كَلِمَةً أُرْضِي بِهَا سُلْطَانِي، وَلَا أُسْخِطُ بِهَا خَالِقِي، فَلَا أَقْدِرُ عَلَيْهَا.
জাহ্হাক বিন মুযাহিম রহ. বলেন, আমি সারারাত বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে ভাবতে থাকি, এমন কিছু যদি পাই, যার ফলে হাকিমও খুশি হবেন, আর আল্লাহও নারাজ হবেন না। কিন্তু আমি বিফল থেকে যাই।
📄 বাদশাহদের দরজা থেকে বেঁচে থাকো
কথিত আছে, ঈসা বিন মূসা কাজী রহ. ইবনে শুবরুমা রহ.কে বললেন, কী ব্যাপার, তুমি আমার নিকট আসছ না যে? তিনি বললেন, তোমার নিকট এসে আমি কী করব? তুমি যদি আমাকে তোমার নৈকট্য দান কর, তাহলে তা আমার জন্য ফিতনা হবে। আর যদি দূরে সরিয়ে দাও, আমাকে কষ্ট দেওয়া হবে। আমার নিকট এমন কিছু নেই, যার ফলে তোমাকে ভয় করব। আর তোমার নিকটও আমার আশা করার মত কিছু নেই।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন—
اجْتَنِبُوا أَبْوَابَ الْمُلُوكِ، فَإِنَّكُمْ لَا تُصِيبُونَ مِنْ دُنْيَاهُمْ شَيْئًا إِلَّا أَصَابُوا مِنْ آخِرَتِكُمْ، مَا هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ.
বাদশাহদের দরজা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তোমরা তাদের থেকে দুনিয়া যা-ই লাভ করবে, তারা তোমাদের আখেরাতের তার চেয়ে ভালোটা নষ্ট করে দেবে।
আগেকার লোকদের কেউ বলেছেন, বাদশাহর নিকট তোমার গমন তিনটি বিষয়ের দিকে আহ্বান করে। যথা—
১. তাদের সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া;
২. তাদের দুনিয়াকে সম্মান দেখানো
৩. এবং তাদের পাপকর্মকে ভালো বলা। এসব যদি কর, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।