📄 আমির হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : خَرَجْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَحِبَنِي رَجُلَانِ، فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَعْمِلْنَا عَلَى بَعْضِ أَعْمَالِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّا لَا نَسْتَعْمِلُ عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ وَطَلَبَهُ.
হযরত আবূ মূসা আশআরি রাযি. বলেন, আমি নবীজীর দরবারে যাওয়ার জন্য বের হলাম। তখন দু' ব্যক্তি আমার সাথে যোগ দিল। সেখানে পৌঁছলে তারা দু'জন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে কোনো কাজে নিয়োগ দিন। তিনি ইরশাদ করলেন, আমরা আমাদের কাজে এমন লোক নিয়োগ দেই না, যারা নিজেরা তা চায়।
টিকাঃ
৪৪৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-২২৬১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭৩৩।
📄 নির্বোধ আমীর
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : قَالَ لِكَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ : يَا كَعْبُ أُعِيذُكَ بِاللَّهِ مِنْ إِمَارَةِ السُّفَهَاءِ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، أُمَرَاءُ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي، فَمَنْ صَدَّقَهُمْ عَلَى كَذِبِهِمْ، وَأَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ، فَأُولَئِكَ مِنِّي بَرَاءُ، وَأَنَا مِنْهُمْ بَرِيءٌ يَا كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ، كُلُّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنَ السُّحْتِ، فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ، يَا كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ، وَالصَّلَاةُ قُرْبَانٌ، يَا كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ النَّاسُ غَادِيَانِ، فَمُبْتَاعُ نَفْسَهُ، فَمُعْتِقُهَا، وَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُوبِقُهَا.
হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত। নবীজী হযরত কা'ব বিন আজরা রাযি.কে বললেন, হে কা'ব! নির্বোধ আমীরদের থেকে আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিচ্ছি, এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন, যারা আমার পরে আসবে। যারা মিথ্যার ওপর তাদের সত্যায়ন করবে, তাদের অত্যাচারে সহযোগিতা করবে, তারা আমার সম্পর্কহীন; আমি তাদের থেকে দায়মুক্ত। হে কা'ব! হারাম দ্বারা যে গোশত সৃষ্টি হয়, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত স্থান। হে কা'ব! রোযা হলো ঢাল-স্বরূপ। সদকা পাপ মোচন করে। নামায দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়। হে কা'ব! মানুষ দু'ভাবে ভোর করে। কেউ নিজের আত্মাকে ক্রয় করে। ফলে সে তা মুক্ত করে। আর কেউ তা বিক্রয় করে। ফলে তা ধ্বংস করে দেয়।
টিকাঃ
৪৪৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৬১৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস- ১৮১২৬; হাদীসটি সহীহ।
📄 মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা
عَنْ زَاذَانَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَلَى سَطْحٍ لَهُ، وَلَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ صُحْبَةً، فَرَأَى النَّاسَ يَتَحَمَّلُونَ وَيَنْتَقِلُونَ، فَقَالَ: مَا بَالُهُمْ؟ قِيلَ: يَفِرُّونَ مِنَ الطَّاعُونِ، فَقَالَ: يَا طَاعُونُ خُذْنِي يَا طَاعُونُ خُذْنِي، فَقِيلَ لَهُ: لِمَ تَدْعُو بِالْمَوْতِ، وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ، وَقَدْ سَمِعْتَهُ يَنْهَى عَنْهُ. فَقَالَ: أَسْأَلُ اللهَ الْمَوْتَ لِخِصَالِ سِتَّ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَتَخَوَّفُهُنَّ عَلَى أُمَّتِهِ، قُلْنَا : مَا هُنَّ؟ قَالَ: إِمَارَةُ الصِّبْيَانِ، وَكَثْرَةُ الشَّرْطِ، وَالرَّشْوَةُ فِي الْحُكْمِ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ، وَاسْتِخْفَافُ بِالذِّمَّةِ، وَنَشْءُ يَتَّخِذُونَ هَذَا الْقُرْآنَ مِزْمَارًا مَهْجَرًا، يُقَدِّمُونَ الرَّجُلَ، وَمَا هُوَ بِأَفْضَلِهِمْ، وَلَا بِأَفْقَهِهِمْ إِلَّا لِيُغَنِّيَهُمْ بِالْقُرْآنِ غِنَاءً.
যাযান রহ. বলেন, আমরা হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি.-এর সাথে তাঁর একটি ছাদে ছিলাম। তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ-এর সাহাবী। তিনি দেখতে পেলেন, লোকজন বোঝা বয়ে স্থানান্তর হয়ে যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এদের কী হলো? তাঁকে জানানো হলো, এরা মহামারীর ভয়ে পলায়ন করছে। তখন তিনি বললেন, হে মহামারী, আমাকে ধরো! হে মহামারী, আমাকে ধরো! তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি মৃত্যু কামনা করছেন কেন? আপনি রাসূলের সাহাবী; তাঁকে এর থেকে নিষেধ করতে শুনেছেন। তিনি বললেন, ছয়টি কারণে আমি মৃত্যু কামনা করছি, যেগুলো থেকে নবীজী উম্মতকে ভয় দেখিয়েছেন। আমরা বললাম, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, সেগুলো হলো, বাচ্চাদের [তথা ছোটদের] হাকিম হওয়া; বাজি বেশি হওয়া; ফয়সালের ব্যাপারে ঘুষ লেনদেন হওয়া; আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা; জিম্মাদারী এবং অঙ্গীকারে পরোয়া না করা; আর সর্বশেষ বিষয় হলো কুরআনকে গানের মত গ্রহণ করা। এক ব্যক্তি, যে কিনা তাদের থেকে জ্ঞানে-মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ নয়, তাকে এজন্য আগে বাড়িয়ে দেওয়া হবে যে, সে কুরআনকে গানের মতো করে শোনাবে।
টিকাঃ
৪৪৯. তুবারানী আউসাত: ২/১০৫; শুয়াইব আরনাউত বলেন, হাদীসটির শাওয়াহেদ বিদ্যমান থাকায় শক্তিশালী সাব্যস্ত হয়। [তাখরীজে সিয়ার: ২/৪৭৬]।
📄 দরবারী আলেম আর বাজারী ক্বারী
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ مَرَّ عَلَى بَابِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، فَرَأَى قَوْمًا مِنَ الْقُرَّاءِ قَالَ : مَا ظَنُّكُمْ يَا هَؤُلَاءِ الْقُرَّاءِ، لَيْসَ هَذَا مِنْ مَجَالِسِ الْأَنْقِيَاءِ।
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে হুবাইরার দরবারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে ক্বারীদের একটি দল দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, হে ক্বারী সাহেবরা, তোমাদের কী ধারণা? এটা মুত্তাকীদের মজলিস নয়। নবীজী ইরশাদ করেছেন—
إِيَّاكُمْ وَجِيرَانَ الْأَفْنِيَاءِ، وَعُلَمَاءَ الْأُمَرَاءِ وَقُرَّاءَ الْأَسْوَاقِ.
তোমরা সম্পদশালী, দরবারি আলেম এবং বাজারি ক্বারীদের প্রতিবেশী হয়ো না।