📄 আল্লাহর রহমত
عَنِ الْحَسَنِ رَحِمَهُ اللهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : لَا تَزَالُ يَدُ اللَّهِ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ مَا لَمْ يُعَظِّمْ أَبْرَارُهُمْ فُجَّارَهُمْ، وَمَا لَمْ يَرْفُقُ خِيَارُهُمْ بِشِرَارِهِمْ، وَمَا لَمْ يَمِلْ قُرَّاؤُهُمْ إِلَى أُمَرَائِهِمْ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ رَفَعَ اللهُ عَنْهُمُ الْبَرَكَةَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهِمْ جَبَابِرَتَهُمْ، وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِـمُ الرُّعْبَ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِمُ الْفَاقَةَ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত এই উম্মতের ওপর থাকে, যতক্ষণ না তাদের নেককাররা বদকারদের সম্মান দেখায়, তাদের ভালো লোকেরা মন্দ লোকদের সাথে নম্র আচরণ করে এবং যতক্ষণ না তাদের ক্বারীরা আমিরদের দিকে ঝুঁকে যায়। যখন তাদের মধ্যে এসব দেখা দেবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের থেকে বরকত উঠিয়ে নেবেন। তাদের ওপর জালেমদের প্রভাবশালী করে দেবেন; তাদের অন্তরে আতঙ্ক ঢেলে দেবেন এবং তাদেরকে ক্ষুধায় লিপ্ত করবেন।
📄 হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের উক্তি
عَنْ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَوَاتُ اللهُ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِمَا ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْعُلَمَاءِ زُغْتُمْ عَنِ الطَّرِيقِ، وَأَحْبَبْتُمُ الدُّنْيَا، فَكَمَا أَنَّ الْمُلُوكَ تَرَكُوا الْحِكْمَةَ عِنْدَكُمْ، فَاتْرُكُوا مُلْكَهُمْ عَلَيْهِمْ.
হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম ইরশাদ করেন, হে আলেমদের দল! তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে এবং দুনিয়ার প্রেমে পড়ে গেছো। বাদশাহরা ইলম ও হিকমত যেভাবে তোমাদের নিকট ছেড়ে গেছে, তোমরাও সেভাবে তাদের জন্য দুনিয়ার রাজত্ব ছেড়ে দাও।
টিকাঃ
৪৪৩. মুসনাদে ফিরদাউস হাদীস-৭৫৭২; সনদ জয়ীফ [তাখরীজে এহইয়া লিল-ইরাকী: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৮৭]।
📄 হাকিমের হিসাব
عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، اسْتَعْمَلَ بِشَرَ بْنَ عَاصِمٍ الثَّقَفِيَّ عَلَى صَدَقَاتِ هَوَازِنَ، فَتَخَلَّفَ، فَلَقِيَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: مَا خَلَّفَكَ؟ أَمَا تَرَى لَنَا عَلَيْكَ سَمْعًا وَطَاعَةً قَالَ: بَلَى، وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ وَلِيَ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ أُتِيَ بِهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُوقَفَ بِهِ عَلَى جِسْرِ جَهَنَّمَ، فَإِنْ كَانَ مُحْسِنًا نَجَا، وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا انْخَرَقَ بِهِ الْجِسْرُ، فَيَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ خَرِيفًا. فَخَرَجَ عُمَرُ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، حَزِينًا كَثِيبًا، فَلَقِيَهُ أَبُو ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَقَالَ لَهُ: مَالِي أَرَاكَ حَزِينًا كَثِيبًا؟ قَالَ: وَمَا يَمْنَعُنِي، وَقَدْ سَمِعْتُ بِشْرَ بْنَ عَاصِمٍ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، قَالَ أَبُو ذَرّ: أَمَا سَمِعْتَ ذَلِكَ؟ قَالَ عُمَرُ: لَا قَالَ أَبُو ذَرَ: أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ وَلِيَ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ أُتِيَ بِهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُوقَفَ بِهِ عَلَى جِسْرِ جَهَنَّমَ، فَإِنْ كَانَ مُحْسِنًا نَجَا، وَإِنْ كَانَ مُسِيئًا انْخَرَقَ بِهِ الْجِسْرُ، فَيَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ خَرِيفًا، وَهِيَ سَوْدَاءُ مُظْلِمَةٌ.
শাকীক রহ. থেকে বর্ণিত। বনী হাওয়াযেনের সদকা আদায় করার জন্য বিশর বিন আছেম সাকাফি রাযি. কে হযরত উমর রাযি. দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সে গেল না। এরপর তার সাথে হযরত উমর রাযি.-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী কারণে গেলে না? তুমি কি মনে কর না যে, তোমাকে আমার আনুগত্য করতে হবে? তিনি বললেন, তা মনে করি। কিন্তু আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কেউ যদি দুনিয়ায় কারো হাকিম হয়, কিয়ামতের দিন তাকে পুলসিরাতের ওপর দাঁড় করানো হবে। এরপর সে ভালো করে থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। আর যদি মন্দ করে থাকে, তা হলে পুলসিরাত তাকে নিয়ে ভেঙে যাবে এবং সত্তর বছর পর্যন্ত সে নিচের দিকে যেতে থাকবে।
এ হাদীস শুনে হযরত উমর রাযি. চিন্তিত হয়ে পড়লেন। হযরত আবু যর রাযি. এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি তাঁকে চিন্তার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমি বিশর বিন আসেমকে এই কথা বলতে শুনেছি। হযরত আবু যর রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এই হাদীস শুনেননি? হযরত উমর রাযি. বললেন, না। হযরত আবূ যর রাযি. বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কেউ যদি দুনিয়ায় একজনেরও আমির হয়, তাকে কিয়ামতের দিন পুলসিরাতের ওপর দাঁড় করানো হবে। সে যদি নেককার হয়ে থাকে, তাহলে মুক্তি পাবে। আর যদি পাপ করে থাকে, তা হলে তাকে নিয়ে পুলসিরাত ভেঙে যাবে। এবং সত্তর বছর পর্যন্ত নিচের দিকে পড়তে থাকবে। আর জাহান্নাম হলো কালো, অন্ধকার।
টিকাঃ
৪৪৪. আত-তারগীব লি-মুনযিরী: ৩/১৮১; হাদীসটি নিতান্তই জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২০৮; জয়ীফুত তারগীব: ১৩১১]।
📄 ন্যায়পরায়ণ কাজি ও কাজির পদ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : يُجَاءُ بِقَاضِي الْعَدْلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَلْقَى مِنْ شِدَّةِ الْحِسَابِ مَا يَوَدُّ، أَنْ لَمْ يَكُنْ قَضَى بَيْنَ اثْنَيْنِ قَطُّ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবীজী ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন ন্যায়-পরায়ণ কাজিকে উপস্থাপন করা হবে। সে হিসাব-কিতাবের কঠোরতা দেখে বলবে, হায়! যদি দু'ব্যক্তির মধ্যেও ফয়সালা না করতাম!
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ جُعِلَ عَلَى الْقَضَاءِ، فَكَأَنَّمَا ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, যাকে কাজির পদে বসানো হয়েছে, তাকে ছুরি ছাড়াই জবাই করা হয়েছে।
عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِي جَعْفَرَ الدَّوَانِيقِيِّ، فَقَالَ : يَا أَبَا حَنِيفَةَ أَعِنَّا عَلَى أَمْرِنَا، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ : أَنَا لَا أَصْلُحُ لِهَذَا الْأَمْرِ فَقَالَ لَهُ : سُبْحَانَ اللَّهِ أَعِنَّا عَلَى أَمْرِنَا، فَقَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ كُنْتُ صَادِقًا، فَقَدْ أَخْبَرْتُكَ، وَإِنْ كُنْتُ كَاذِبًا فَلَا يَحِلُّ لَكَ أَنْ تُولِّيَنِي هُذَا الْأَمْرَ.
ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, তিনি একবার আবূ জা'ফর দাওয়ানেকির নিকট গেলেন। তিনি বললেন, আবু হানিফা! তুমি আমাদেরকে আমাদের কাজে সহায়তা কর। আবূ হানিফা রহ. বললেন, আমি এর যোগ্য নই। তখন তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমাদেরকে আমাদের কাজে একটু সহযোগিতা কর। তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনীন! আমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকি, তাহলে তা তো আপনাকে জানিয়েছি। আর যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকি, তাহলে আমাকে নিয়োগ দেওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না।
টিকাঃ
৪৪৫. হাদীসটি আহমাদ ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন [বুদুরুস সাফিরাহ লি-সুযুতী: পৃষ্ঠা: ২০৩]
৪৪৬. সুনানে আবূ দাউদ হাদীস-৩৫৭১; সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৩২৫; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ হাসান গরীব বলেছেন।