📄 আলেমরা হলো রাসূলদের আমানতদার
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْعُلَمَاءُ أُمَنَاءُ الرُّسُلِ مَا لَمْ يُخَالِطُوا السُّلْطَانَ وَلَمْ يَدْخُلُوا فِي الدُّنْيَا، فَإِذَا خَالَطُوا السُّلْطَانَ، وَدَخَلُوا فِي الدُّنْيَا، فَقَدْ خَانُوا الرُّسُلَ فَاعْتَزِلُوهُمْ وَاحْذَرُوهُمْ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আলেমরা হলো রাসূলদের আমানতদার, যতক্ষণ তারা বাদশাহদের সাথে মেলামেশা না করে এবং দুনিয়ায় জড়িয়ে না পড়ে। যদি তারা বাদশাহদের সাথে মেলামেশা করে, বা দুনিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তারা রাসূলদের সাথে খেয়ানত করল। তাই তোমরাও তাদের থেকে দূরে থেকো এবং তাদের থেকে বেঁচে থাকতে চেষ্টা কর।
টিকাঃ
৪৪১. মুসনাদে ফিরদাউস হাদীস-৪২১০; হাফেজ সুযুতী ও ইবনে আররাক হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, পক্ষান্তরে শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন [আল-লাআলী আল-মাসনুয়াহ: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২১৯; আত-তানযীহ: খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৬৭; জয়ীফুল জামে' হাদীস-৩৮৮৩]।
📄 বাদশাহর নৈকট্য
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ : مَا ازْدَادَ رَجُلٌ مِنَ السُّلْطَانِ قُرْبًا إِلَّا ازْدَادَ مِنَ اللهِ بُعْدًا، وَلَا كَثُرَتْ شَيَاطِينُهُ، وَلَا كَثُرَ مَالُهُ، إِلَّا اشْتَدَّ حِسَابُهُ.
উবাইদুল্লাহ ইবনে উমাইর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, ব্যক্তি বাদশাহর যতটা নিকটবর্তী হয়, সে আল্লাহর থেকে ততটা দূরে সরে যায়। আর যার (মন্দ) বন্ধু ও সম্পদ বেশি হবে, তার হিসাব কঠিন হবে।
টিকাঃ
৪৪২. জামে সগীর: হাদীস-৭৭৮৮; হাদীসটি জয়ীফ [জয়ীফুল জামে: হাদীস-৪৯৯৫]।
📄 ফিতনার জায়গা এবং নিফাক
عَنِ حُذَيْفَة رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَمَوَاقِفِ الْفِتَنِ قِيلَ: وَمَا مَوْقِفُ الْفِتَنِ؟ قَالَ : أَبْوَابُ الْأُمَرَاءِ.
হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, তোমরা ফিতনার জায়গা থেকে বেঁচে থাকো। জিজ্ঞাসা করা হলো, ফিতনার জায়গা কী কী? তিনি বললেন, আমির ও হাকিমদের দরজা।
قَالَ الْفَقِيهُ رَحِمَهُ اللهُ : قِيلَ لِابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى السُّلْطَانِ، فَنَتَكَلَّمُ بِالْكَلَامِ فَإِذَا خَرَجْنَا تَكَلَّمْنَا بِخِلَافِهِ، قَالَ : كُنَّا نَعُتُهَا مِنَ النَّفَاقِ.
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, হযরত ইবনে উমর রাযি. কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, আমরা বাদশাহর নিকট যাই এবং কথাবার্তা বলি। আর সেখান থেকে যখন বের হই, তখন তার বিপরীত কথা বলি। (এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?) তিনি বললেন, এটাকে আমরা নিফাক বলতাম।
📄 দীনের ক্ষতি
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ لَيَدْخُلُ عَلَى ذِي سُلْطَانٍ، وَمَعَهُ دِينُهُ، فَيَخْرُجُ وَمَا مَعَهُ دِينُهُ، قِيلَ : وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ : يُرْضِيهِ بِمَا يُسْخِطُ اللَّهَ.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, একব্যক্তি ঈমান নিয়ে রাজ দরবারে প্রবেশ করে। আর যখন সেখান থেকে বের হয়, তখন তার সাথে ঈমান থাকে না। জিজ্ঞাসা করা হলো, তা কীভাবে? তিনি বললেন, সে বাদশাহকে এমন কথা বলে সন্তুষ্ট করে, যার ফলে আল্লাহ তা'আলা তার ওপর অসন্তুষ্ট হন।
প্রাচীন প্রবাদ রয়েছে— ইযাতা রায়াইতাল ক্বারিয়া ইয়াখতালিফু ইলাল আগনিয়া-ই, ফায়লাম আন্নাহু মুরা-উন, ওয়া ইযা রায়াইতা আলিম্যান ইয়াখতালিফু ইলাল উমারা-ই, ফায়লাম আন্নাহু আহমাক্ব। অর্থাৎ, কোনো ক্বারীকে যদি ধনীদের নিকট যেতে দেখ, তাহলে তাকে রিয়াকার মনে কর। আর যখন কোনো আলেমকে বাদশাহর নিকট যেতে দেখ, তখন তাকে নির্বোধ মনে কর।