📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আটটি মূল্যবান আমল

📄 আটটি মূল্যবান আমল


জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আটটি আমল করতে পারে না, সে যেন অপর আটটি আমল করে। এতে সে না করা ওই আটটি আমলেরও সওয়াব পাবে। যথা- ১. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ صَلَاةِ اللَّيْلِ، وَهُوَ نَائِمٌ فَلَا يَعْصِ بِالنَّهَارِ .. যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে থেকেও তাহাজ্জুদ নামাজের সওয়াব পেতে চায় সে যেন দিনে গুনাহ না করে। ২. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ صِيَامِ التَّطَوُّعِ، وَهُوَ مُفْطِرٌ، فَلْيَحْفَظُ لِسَانَهُ .. যে ব্যক্তি রোযা না রেখেও রোযা রাখার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন তার জবানকে হেফাজত করে। ৩. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْعُلَمَاءِ، فَعَلَيْهِ التَّفَكُرُ .. যে ব্যক্তি আলেমদের মর্যাদা পেতে চায়, সে যেন চিন্তা ফিকির করে। ৪. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْمُجَاهِدِينَ، وَالْغُزَاةِ وَهُوَ قَاعِدٌ فِي بَيْتِهِ، فَلْيُجَاهِدِ الشَّيْطَانَ .. যে ব্যক্তি ঘরে বসে মুজাহিদদের জিহাদের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন শয়তানের সাথে জিহাদ করে। ৫. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الصَّدَقَةِ، وَهُوَ عَاجِزُ، فَلْيُعَلِّمِ النَّاسَ مَا سَمِعَ مِنَ الْعِلْمِ .. যে ব্যক্তি অভাবে থেকেও দান সদকা করার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন শেখা ইলম অন্যকে শেখায়। ৬. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْحَقِّ، وَهُوَ عَاجِزُ، فَلْيَلْزَمِ الْجُمُعَةَ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি হজ্ব করতে অক্ষম হয়েও হজ্ব করার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন সর্বদা জুমুআর নামাজ আদায় করে। ৭. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْعَابِدِينَ، فَلْيُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ، وَلَا يُوقِعُ بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আবেদদের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন মানুষের মাঝে আপোষ করে দেয়। ৮. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْأَبْدَالِ، فَلْيَضَعُ يَدَهُ عَلَى صَدْرِهِ، وَيَرْضَى لِأَخِيهِ مَا يَرْضَى لِنَفْسِهِ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আবদালের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী

📄 বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী


عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ أَهْلُ الْفَضْلِ، فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ فَيَقُولُونَ: أَيْنَ تُرِيدُونَ? فَيَقُولُونَ: نُرِيدُ الْجَنَّةَ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? فَيَقُولُونَ: نَعَمْ قَبْلَ الْحِسَابِ، فَيَقُولُونَ: مَنْ أَنْتُمْ? فَيَقُولُونَ: نَحْنُ أَهْلُ الْفَضْلِ فَيَقُولُونَ: مَا كَانَ فَضْلُكُمْ فِي الدُّنْيَا? قَالُوا: إِنَّا كُنَّا إِذَا جُهِلَ عَلَيْنَا حَلُمْنَا، وَإِذَا أَسِيءَ إِلَيْنَا عَفَوْنَا، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر: ٧٤) ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ أَيْنَ أَهْلُ الصَّبْرِ? فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَقُولُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ : أَيْنَ تُرِيدُونَ? قَالُوا: نُرِيدُ الْجَنَّةَ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? قَالُوا: نَعَمْ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: مَنْ أَنْتُمْ? قَالُوا: نَحْنُ أَهْلُ الصَّبْرِ، فَتَقُولُ: وَمَا كَانَ صَبْرُكُمْ? فَيَقُولُونَ: صَبَّرْنَا أَنْفُسَنَا عَلَى طَاعَةِ اللهِ، وَصَبَّرْنَاهَا عَنْ مَعَاصِي اللهِ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ. فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر : ٧٤) ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ أَيْنَ جِيرَانُ اللَّهِ فِي دَارِهِ، فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ : أَيْنَ تُرِيدُونَ? فَيَقُولُونَ : نُرِيدُ الْجَنَّةَ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: مَنْ أَنْتُمْ? فَيَقُولُونَ: نَحْنُ جِيرَانُ اللهِ فِي أَرْضِهِ. فَيَقُولُونَ: وَمَا كَانَ جِوَارُكُمْ? فَيَقُولُونَ: كُنَّا نَتَحَابُّ فِي اللَّهِ، وَكُنَّا نَتَبَادَلُ فِي اللهِ، وَكُنَّا نَتَبَادَلُ فِي اللهِ، وَكُنَّا نَتَزَاوَرُ فِي اللهِ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ. فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر : ٧٤)

আলী ইবনে হুসাইন রহ. থেকে বর্ণিত। কিয়ামতের ময়দানে যখন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবেন, অধিক নেককার বান্দারা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা তাদের নিকট এসে জিজ্ঞেস করে বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ, হিসাবের পূর্বেই। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা অতিরিক্ত নেক আমলকারী বান্দাগণ। ফেরেশতারা বলবেন, দুনিয়াতে আপনাদের অতিরিক্ত নেক আমল কী ছিল? তারা বলবেন, আমাদের সাথে অন্যায় ও রূঢ় আচরণ করা হলে, আমরা তা সহ্য করতাম এবং আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হলে আমরা তা ক্ষমা করে দিতাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেক আমলকারীদের পুরস্কার!

তারপর জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবেন, ধৈর্যশীল ব্যক্তিরা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা তাদের বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা ধৈর্যশীল ব্যক্তি। ফেরেশতারা বলবেন, দুনিয়াতে আপনাদের ধৈর্য কী ছিল? তারা বলবেন, আমরা আল্লাহর আনুগত্য, আল্লাহর ইবাদত এবং গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল ছিলাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেক আমলকারীদের পুরস্কার!

তারপর জনৈক ঘোষক ঘোষণা করে বলবেন, আল্লাহর পড়শীরা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহর পড়শী ছিলাম। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কীভাবে পড়শী ছিলেন? তারা বলবেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে মুহব্বত করতাম এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে দেখতে যেতাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেককারদের পুরস্কার!

টিকাঃ
৪০৮. হাদীসটি হুবহু আমরা পাইনি তবে ইমাম বাইহাকী কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন [শোয়াবুল ঈমান: হাদীস-৮০৮৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি স্থাপন

📄 পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি স্থাপন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ فِيَّ؟ فَوَعِزَّتِي وَجَلَالِي الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ بِظِلِّي يَوْمَ لَا ظلَّ إِلَّا ظلّى.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করিম বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন ঘোষণা করবেন, আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর মুহাব্বতকারীগণ কোথায়? আমার ইজ্জতের ও আমার মর্যদার কসম! আজ আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয়দান করলাম, যখন আমার ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া নেই।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: امْشِ مِيلًا، وَعُدْ مَرِيضًا، وَامْشِ مِيلَيْنِ وَزُرْ أَخَاً فِي اللَّهِ، وَامْشِ ثَلَاثَةَ أَمْيَالٍ، وَأَصْلِحْ بَيْنَ اثْنَيْنِ

হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কোনো রোগীর সেবার জন্য এক মাইল হেটে যাও, কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের জন্য দুই মাইল হেঁটে যাও, দুই ব্যক্তির দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়ার জন্য তিন মাইল হেঁটে যাও।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَنْ أَصْلَحَ بَيْنَ اثْنَيْنِ، أَعْطَاهُ اللَّهُ بِكُلِّ كَلِمَةٍ عِتْقَ رَقَبَةٍ.

হযরত আনাস রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি দু'জনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দিবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রত্যেক কথার বিনিময়ে একশ'টি গোলাম আযাদ করার সওয়াব দান করবেন।

টিকাঃ
৪০৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৬; মুয়াত্তা মালেক: হাদীস-২৭৪১।
৪১০. আত-তারগীব লিল-আসবাহানী: হাদীস-১৮৪; ফাইযুল কাদীর লি-মুনাবী: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৯৫; সনদ জয়ীফ [মীযানুল এতেদাল: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৬২]।।
৪১১. আত-তারগীব লিল-আসবাহানী ১৮৫; হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল [আত-তারগীব লি-মুনযিরী: খণ্ড- ৩, পৃষ্ঠা-৪৮৯]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নবীদের চারটি দাবী

📄 নবীদের চারটি দাবী


হযরত আবূ বকর ওয়ারাক রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা মানুষকে তাঁর দিকে আহ্বান করার জন্য নবীদেরকে প্রেরণ করেছেন। আর নবীগণ তাদের থেকে চারটি বিষয় চেয়েছেন। যথা- ১. হৃদয়। ২. জিহ্বা। ৩. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। ৪. চরিত্র। আর এ চারটির প্রত্যেকটি থেকে দু'টি করে আমল চেয়েছেন। হৃদয়ের আমল দু'টি। যথা- ১. আল্লাহর হুকুম ও নির্দেশের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করা। ২. আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা। জিহ্বার আমল দু'টি। যথা- ১. সর্বদা আল্লাহর যিকির করা। ২. মানুষের সাথে সৌজন্যমূলক কথা বলা। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল দু'টি। যথা- ১. আল্লাহর ইবাদত করা। ২. মুসলমানের সাহায্য সহায়তা করা। চরিত্রের আমল দু'টি। যথা- ১. আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। ২. মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকা এবং তাদের কষ্ট দূর করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px