📄 পাঁচ ধরনের ব্যক্তির নামাজ কবুল হয় না
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: خَمْسَةٌ لَيْسَتْ لَهُمْ صَلَاةُ، الْمَرْأَةُ السَّاخِطُ عَلَيْهَا زَوْجُهَا، وَالْعَبْدُ الْآبِقُ مِنْ سَيِّدِهِ، وَالْمُصَارِمُ الَّذِي لَا يُكَلِّمُ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَإِمَامُ قَوْمٍ يُصَلِّي بِهِمْ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ.
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত নবী বলেছেন, পাঁচ ধরনের ব্যক্তির নামায কবুল হয় না। যথা- ১. যে মহিলার উপর তার স্বামী নারায। ২. মনিব থেকে পলাতক গোলাম। ৩. সম্পর্ক ছিন্নকারী, যে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বলে না। ৪. মদ্যপ ব্যক্তি। ৫. এমন ইমাম যাকে মুকতাদীরা পছন্দ করে না।
টিকাঃ
৪৩১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৬০; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৯৭১; আল্লামা বুসিরী যাওয়ায়েদে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করা
নবী বলেন- أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِصَدَقَةٍ يَسِيرَةٍ يُحِبُّهَا اللهُ تَعَالَى قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ : إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ إِذَا تَقَاطَعُوا।
আমি কি তোমাদের এমন সহজ সদকার কথা বলে দিব যা আল্লাহ তা'আলা ভালোবাসেন? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, বলে দিন। রাসূল বললেন, পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন হলে তা স্থাপন করে দেওয়া।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، قَالَ : أَلَا أَخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلِ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ. قَالُوا بَلَى، قَالَ : إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ إِذَا تَقَاطَعُوا.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলব, যা অতি সহজ, কিন্তু রোজা, নামায ও সদকার চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, বলে দিন। রাসূল বললেন, পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করলে, তা স্থাপন করে দেওয়া।
টিকাঃ
৪৩২. মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ : হাদীস-৩৩৫; ত্ববারানী কাবীর : হাদীস-১৪৬১৫; হাদীসটি সহীহ [আত-তারগীব লি-মুনযিরী: খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪০৬; সহীহা: ২৬৩৯]।
৪৩৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫০৯; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৯১৯; হাদীসটি সহীহ [মুসনাদে বাযযার: খণ্ড-১০, পৃষ্ঠা-৪৬; শুয়াইব আরনাউত]।
📄 আটটি মূল্যবান আমল
জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আটটি আমল করতে পারে না, সে যেন অপর আটটি আমল করে। এতে সে না করা ওই আটটি আমলেরও সওয়াব পাবে। যথা- ১. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ صَلَاةِ اللَّيْلِ، وَهُوَ نَائِمٌ فَلَا يَعْصِ بِالنَّهَارِ .. যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে থেকেও তাহাজ্জুদ নামাজের সওয়াব পেতে চায় সে যেন দিনে গুনাহ না করে। ২. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ صِيَامِ التَّطَوُّعِ، وَهُوَ مُفْطِرٌ، فَلْيَحْفَظُ لِسَانَهُ .. যে ব্যক্তি রোযা না রেখেও রোযা রাখার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন তার জবানকে হেফাজত করে। ৩. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْعُلَمَاءِ، فَعَلَيْهِ التَّفَكُرُ .. যে ব্যক্তি আলেমদের মর্যাদা পেতে চায়, সে যেন চিন্তা ফিকির করে। ৪. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْمُجَاهِدِينَ، وَالْغُزَاةِ وَهُوَ قَاعِدٌ فِي بَيْتِهِ، فَلْيُجَاهِدِ الشَّيْطَانَ .. যে ব্যক্তি ঘরে বসে মুজাহিদদের জিহাদের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন শয়তানের সাথে জিহাদ করে। ৫. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الصَّدَقَةِ، وَهُوَ عَاجِزُ، فَلْيُعَلِّمِ النَّاسَ مَا سَمِعَ مِنَ الْعِلْمِ .. যে ব্যক্তি অভাবে থেকেও দান সদকা করার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন শেখা ইলম অন্যকে শেখায়। ৬. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْحَقِّ، وَهُوَ عَاجِزُ، فَلْيَلْزَمِ الْجُمُعَةَ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি হজ্ব করতে অক্ষম হয়েও হজ্ব করার সওয়াব পেতে চায়, সে যেন সর্বদা জুমুআর নামাজ আদায় করে। ৭. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْعَابِدِينَ، فَلْيُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ، وَلَا يُوقِعُ بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আবেদদের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন মানুষের মাঝে আপোষ করে দেয়। ৮. مَنْ أَرَادَ فَضْلَ الْأَبْدَالِ، فَلْيَضَعُ يَدَهُ عَلَى صَدْرِهِ، وَيَرْضَى لِأَخِيهِ مَا يَرْضَى لِنَفْسِهِ .. অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আবদালের সওয়াব পেতে চায়, সে যেন তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।
📄 বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী
عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ أَهْلُ الْفَضْلِ، فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ فَيَقُولُونَ: أَيْنَ تُرِيدُونَ? فَيَقُولُونَ: نُرِيدُ الْجَنَّةَ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? فَيَقُولُونَ: نَعَمْ قَبْلَ الْحِسَابِ، فَيَقُولُونَ: مَنْ أَنْتُمْ? فَيَقُولُونَ: نَحْنُ أَهْلُ الْفَضْلِ فَيَقُولُونَ: مَا كَانَ فَضْلُكُمْ فِي الدُّنْيَا? قَالُوا: إِنَّا كُنَّا إِذَا جُهِلَ عَلَيْنَا حَلُمْنَا، وَإِذَا أَسِيءَ إِلَيْنَا عَفَوْنَا، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر: ٧٤) ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ أَيْنَ أَهْلُ الصَّبْرِ? فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَقُولُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ : أَيْنَ تُرِيدُونَ? قَالُوا: نُرِيدُ الْجَنَّةَ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? قَالُوا: نَعَمْ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: مَنْ أَنْتُمْ? قَالُوا: نَحْنُ أَهْلُ الصَّبْرِ، فَتَقُولُ: وَمَا كَانَ صَبْرُكُمْ? فَيَقُولُونَ: صَبَّرْنَا أَنْفُسَنَا عَلَى طَاعَةِ اللهِ، وَصَبَّرْنَاهَا عَنْ مَعَاصِي اللهِ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ. فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر : ٧٤) ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ أَيْنَ جِيرَانُ اللَّهِ فِي دَارِهِ، فَيَقُومُ عُنُقٌ مِنَ النَّاسِ يُرِيدُونَ الْجَنَّةَ، فَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ : أَيْنَ تُرِيدُونَ? فَيَقُولُونَ : نُرِيدُ الْجَنَّةَ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: أَقَبْلَ الْحِسَابِ? فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ: مَنْ أَنْتُمْ? فَيَقُولُونَ: نَحْنُ جِيرَانُ اللهِ فِي أَرْضِهِ. فَيَقُولُونَ: وَمَا كَانَ جِوَارُكُمْ? فَيَقُولُونَ: كُنَّا نَتَحَابُّ فِي اللَّهِ، وَكُنَّا نَتَبَادَلُ فِي اللهِ، وَكُنَّا نَتَبَادَلُ فِي اللهِ، وَكُنَّا نَتَزَاوَرُ فِي اللهِ، فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ. فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ (الزمر : ٧٤)
আলী ইবনে হুসাইন রহ. থেকে বর্ণিত। কিয়ামতের ময়দানে যখন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন, তখন জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবেন, অধিক নেককার বান্দারা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা তাদের নিকট এসে জিজ্ঞেস করে বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ, হিসাবের পূর্বেই। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা অতিরিক্ত নেক আমলকারী বান্দাগণ। ফেরেশতারা বলবেন, দুনিয়াতে আপনাদের অতিরিক্ত নেক আমল কী ছিল? তারা বলবেন, আমাদের সাথে অন্যায় ও রূঢ় আচরণ করা হলে, আমরা তা সহ্য করতাম এবং আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হলে আমরা তা ক্ষমা করে দিতাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেক আমলকারীদের পুরস্কার!
তারপর জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবেন, ধৈর্যশীল ব্যক্তিরা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা তাদের বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা ধৈর্যশীল ব্যক্তি। ফেরেশতারা বলবেন, দুনিয়াতে আপনাদের ধৈর্য কী ছিল? তারা বলবেন, আমরা আল্লাহর আনুগত্য, আল্লাহর ইবাদত এবং গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল ছিলাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেক আমলকারীদের পুরস্কার!
তারপর জনৈক ঘোষক ঘোষণা করে বলবেন, আল্লাহর পড়শীরা কোথায়? তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবেন। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবেন, জান্নাতে। ফেরেশতারা বলবেন, হিসাবের পূর্বেই কি? তারা বলবেন, হ্যাঁ। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কারা? তারা বলবেন, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহর পড়শী ছিলাম। ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা কীভাবে পড়শী ছিলেন? তারা বলবেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে মুহব্বত করতাম এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে দেখতে যেতাম। তখন ফেরেশতারা বলবেন, আপনারা জান্নাতে প্রবেশ করুন। কতই না উত্তম নেককারদের পুরস্কার!
টিকাঃ
৪০৮. হাদীসটি হুবহু আমরা পাইনি তবে ইমাম বাইহাকী কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন [শোয়াবুল ঈমান: হাদীস-৮০৮৬]।