📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর পাঁচটি হক

📄 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর পাঁচটি হক


ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, স্বামীর উপর স্ত্রীর পাঁচটি হক রয়েছে। যথা-
১. স্ত্রীকে পর্দায় রাখা এবং পর্দার বাইরে যেতে না দেওয়া। কারণ, তা গুনাহ ও অশোভনীয়।
২. প্রয়োজনীয় ইলম শিক্ষাদান করা। যেমন উযু, নামাজ, রোযা, ইত্যাদির বিধি-বিধান সম্পর্কে শিক্ষাদান করা।
৩. তার জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা করা। কারণ, হারাম মালে উৎপন্ন শরীর জাহান্নামেরই বেশি উপযুক্ত।
৪. জুলুম না করা। কেননা, স্ত্রী আল্লাহর আমানত।
৫. স্ত্রী স্বামীর উপর বাড়াবাড়ি করলে নম্রতার দ্বারা সহ্য করে নেওয়া, যাতে এর চেয়ে বড় অন্যায় করে না বসে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্ত্রীর প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হওয়া

📄 স্ত্রীর প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হওয়া


বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর ফারুক রাযি.-এর নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অহঙ্কারিনী হওয়ার অভিযোগ নিয়ে এলো। দরজায় পৌঁছে লোকটি শুনতে পেল উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর স্ত্রী উম্মে কুলসুম তার স্বামী উমর রাযি.-এর উপর অহঙ্কার প্রকাশ করছেন। তখন লোকটি মনে মনে বলল, আমি তাঁর নিকট আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অহঙ্কারের অভিযোগ নিয়ে এলাম, অথচ তাঁর স্ত্রীও তো তাঁর উপর অহঙ্কার করছেন। লোকটি ফিরে চলল। উমর রাযি. তাকে ফিরে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি বলল, আমি আপনার নিকট আমার স্ত্রীর অহঙ্কারিনী হওয়ার অভিযোগ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আপনার স্ত্রীও অহঙ্কার করছেন, তাই ফিরে যাচ্ছি। উমর রাযি. বললেন, আমার উপর তার কয়েকটি হক রয়েছে। সেগুলোর কারণে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। যথা-
১. সে আমার ও জাহান্নামের মাঝের প্রাচীর। তার সাথে মিলনের কারণেই আমার প্রবৃত্তি হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে।
২. আমি যখন ঘর থেকে বের হয়ে যাই, তখন সে আমার ধন-সম্পদের হেফাজত করে। আমার পার্থিব সম্পদের প্রতি নজর রাখে।
৩. সে আমার কাপড় পরিষ্কার করে।
৪. আমার সন্তানাদি প্রতিপালন করে।
৫. সে আমার জন্য রুটি ও খাবার তৈরি করে।
লোকটি বলল, আপনার স্ত্রীর ন্যায় আমার স্ত্রীও তো আমার সেবা করে। কিন্তু আমি কখনো তাকে ক্ষমা করিনি। আজ থেকে আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করব।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চার ধরনের ব্যয়

📄 চার ধরনের ব্যয়


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : أَرْبَعُ نَفَقَاتٍ لَا يُحَاسَبُ الْعَبْدُ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، نَفَقَةٌ عَلَى أَبَوَيْهِ، وَنَفَقَتُهُ عَلَى إِفْطَارِهِ، وَنَفَقَتُهُ عَلَى سَحُورِهِ، وَنَفَقَتُهُ عَلَى عِيَالِهِ.

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, কিয়ামতের দিন চার প্রকার ব্যয়ের হিসাব হবে না। ১. পিতা-মাতার জন্য করা ব্যয়। ২. ইফতারের জন্য করা ব্যয়। ৩. সেহরীর জন্য করা ব্যয়। ৪. পরিবার পরিজনের জন্য করা ব্যয়।

টিকাঃ
৪২৩. মুসনাদে ফেরদাউস: হাদীস-১৫১৫

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চার ধরনের দিনার

📄 চার ধরনের দিনার


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي رَقَبَةٍ وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, (দীনার বা স্বর্ণমুদ্রা চার প্রকার। যথা-)
১. ওই দীনার, যা তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।
২. ওই দীনার যা তুমি মিসকিনদের জন্য ব্যয় করেছ।
৩. ওই দীনার, যা তুমি গোলাম মুক্ত করার জন্য ব্যয় করেছ।
৪. ওই দীনার, যা তুমি পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ। তবে পরিবার পরিজনের জন্য যে দীনার ব্যয় করবে, তার সওয়াব সর্বাধিক।

টিকাঃ
৪২৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৯৯৫; মুসনাদে আহমাদ খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-১১৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px