📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রত্যেকেই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে

📄 প্রত্যেকেই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে


عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.

ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী বলেন, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরস্থ সকল কিছুর দায়িত্বশীল, কাজেই সে তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের প্রতি দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

টিকাঃ
৪২০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৮৯৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮২৯।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মহর আদায় না করা

📄 মহর আদায় না করা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةً بِصَدَاقِ مِثْلِهَا، وَهُوَ يَنْوِي أَنْ لَا يُؤَدِّيَهُ إِلَيْهَا، فَهُوَ زَانٍ، وَمَنِ اسْتَدَانَ دَيْنًا، وَهُوَ يَنْوِي أَنْ لَا يَقْضِيَهُ فَهُوَ سَارِقُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীকে মহরে মেছেল (কন্যার নিকটাত্মীয় মহিলাদের সমপরিমাণ মহর) দিয়ে বিয়ে করে, কিন্তু তা পরিশোধ করে না, সে যিনাকারী। আর যে ব্যক্তি পরিশোধ না করার নিয়তে ঋণ নেয়, সে চোর।

عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ رَحِمَهُ اللهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُنَّ عِنْدَكُمْ لَا يَمْلِكْنَ لِأَنْفُسِهِنَّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ تَعَالَى.

হযরত হাসান বসরী রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী বলেন, নারীদের ব্যাপারে তোমরা আমার উপদেশ গ্রহণ কর। তারা তোমাদের দায়িত্বে আছে। তোমাদের মত তারা স্বাধীন ইচ্ছার অধিকার রাখে না। আল্লাহর যিম্মায় তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ, তারই হুকুমের বদৌলতে তোমরা তাদেরকে উপভোগ করার অধিকার পেয়েছো।

টিকাঃ
৪২১. মুসনাদে বাযযার হাদীস-৮৭২১; আল-মাজরুহীন: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৯৫; সনদ জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/১৩১]।
৪২২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১২১৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৯০৫।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর পাঁচটি হক

📄 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর পাঁচটি হক


ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, স্বামীর উপর স্ত্রীর পাঁচটি হক রয়েছে। যথা-
১. স্ত্রীকে পর্দায় রাখা এবং পর্দার বাইরে যেতে না দেওয়া। কারণ, তা গুনাহ ও অশোভনীয়।
২. প্রয়োজনীয় ইলম শিক্ষাদান করা। যেমন উযু, নামাজ, রোযা, ইত্যাদির বিধি-বিধান সম্পর্কে শিক্ষাদান করা।
৩. তার জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা করা। কারণ, হারাম মালে উৎপন্ন শরীর জাহান্নামেরই বেশি উপযুক্ত।
৪. জুলুম না করা। কেননা, স্ত্রী আল্লাহর আমানত।
৫. স্ত্রী স্বামীর উপর বাড়াবাড়ি করলে নম্রতার দ্বারা সহ্য করে নেওয়া, যাতে এর চেয়ে বড় অন্যায় করে না বসে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্ত্রীর প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হওয়া

📄 স্ত্রীর প্রতি ক্ষমাপরায়ণ হওয়া


বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর ফারুক রাযি.-এর নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অহঙ্কারিনী হওয়ার অভিযোগ নিয়ে এলো। দরজায় পৌঁছে লোকটি শুনতে পেল উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর স্ত্রী উম্মে কুলসুম তার স্বামী উমর রাযি.-এর উপর অহঙ্কার প্রকাশ করছেন। তখন লোকটি মনে মনে বলল, আমি তাঁর নিকট আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অহঙ্কারের অভিযোগ নিয়ে এলাম, অথচ তাঁর স্ত্রীও তো তাঁর উপর অহঙ্কার করছেন। লোকটি ফিরে চলল। উমর রাযি. তাকে ফিরে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি বলল, আমি আপনার নিকট আমার স্ত্রীর অহঙ্কারিনী হওয়ার অভিযোগ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আপনার স্ত্রীও অহঙ্কার করছেন, তাই ফিরে যাচ্ছি। উমর রাযি. বললেন, আমার উপর তার কয়েকটি হক রয়েছে। সেগুলোর কারণে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। যথা-
১. সে আমার ও জাহান্নামের মাঝের প্রাচীর। তার সাথে মিলনের কারণেই আমার প্রবৃত্তি হারাম কাজ থেকে বিরত থাকে।
২. আমি যখন ঘর থেকে বের হয়ে যাই, তখন সে আমার ধন-সম্পদের হেফাজত করে। আমার পার্থিব সম্পদের প্রতি নজর রাখে।
৩. সে আমার কাপড় পরিষ্কার করে।
৪. আমার সন্তানাদি প্রতিপালন করে।
৫. সে আমার জন্য রুটি ও খাবার তৈরি করে।
লোকটি বলল, আপনার স্ত্রীর ন্যায় আমার স্ত্রীও তো আমার সেবা করে। কিন্তু আমি কখনো তাকে ক্ষমা করিনি। আজ থেকে আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করব।

ফন্ট সাইজ
15px
17px