📄 পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْمَلُ إِيمَانًا؟ قَالَ : أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا مَعَ أَهْلِهِ.
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ? রাসূল ইরশাদ করলেন, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে।
টিকাঃ
৪১৯. তুবারানী আওসাত: হাদীস-৮/১১০; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/৪০৯; সহীহ।
📄 প্রত্যেকেই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী বলেন, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরস্থ সকল কিছুর দায়িত্বশীল, কাজেই সে তার অধীনস্থদের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের প্রতি দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
টিকাঃ
৪২০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৮৯৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮২৯।
📄 মহর আদায় না করা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ تَزَوَّجَ امْرَأَةً بِصَدَاقِ مِثْلِهَا، وَهُوَ يَنْوِي أَنْ لَا يُؤَدِّيَهُ إِلَيْهَا، فَهُوَ زَانٍ، وَمَنِ اسْتَدَانَ دَيْنًا، وَهُوَ يَنْوِي أَنْ لَا يَقْضِيَهُ فَهُوَ سَارِقُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীকে মহরে মেছেল (কন্যার নিকটাত্মীয় মহিলাদের সমপরিমাণ মহর) দিয়ে বিয়ে করে, কিন্তু তা পরিশোধ করে না, সে যিনাকারী। আর যে ব্যক্তি পরিশোধ না করার নিয়তে ঋণ নেয়, সে চোর।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيُّ رَحِمَهُ اللهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّهُنَّ عِنْدَكُمْ لَا يَمْلِكْنَ لِأَنْفُسِهِنَّ شَيْئًا، وَإِنَّمَا أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ تَعَالَى.
হযরত হাসান বসরী রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত। নবী বলেন, নারীদের ব্যাপারে তোমরা আমার উপদেশ গ্রহণ কর। তারা তোমাদের দায়িত্বে আছে। তোমাদের মত তারা স্বাধীন ইচ্ছার অধিকার রাখে না। আল্লাহর যিম্মায় তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ, তারই হুকুমের বদৌলতে তোমরা তাদেরকে উপভোগ করার অধিকার পেয়েছো।
টিকাঃ
৪২১. মুসনাদে বাযযার হাদীস-৮৭২১; আল-মাজরুহীন: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১৯৫; সনদ জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/১৩১]।
৪২২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১২১৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৯০৫।
📄 স্বামীর প্রতি স্ত্রীর পাঁচটি হক
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, স্বামীর উপর স্ত্রীর পাঁচটি হক রয়েছে। যথা-
১. স্ত্রীকে পর্দায় রাখা এবং পর্দার বাইরে যেতে না দেওয়া। কারণ, তা গুনাহ ও অশোভনীয়।
২. প্রয়োজনীয় ইলম শিক্ষাদান করা। যেমন উযু, নামাজ, রোযা, ইত্যাদির বিধি-বিধান সম্পর্কে শিক্ষাদান করা।
৩. তার জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা করা। কারণ, হারাম মালে উৎপন্ন শরীর জাহান্নামেরই বেশি উপযুক্ত।
৪. জুলুম না করা। কেননা, স্ত্রী আল্লাহর আমানত।
৫. স্ত্রী স্বামীর উপর বাড়াবাড়ি করলে নম্রতার দ্বারা সহ্য করে নেওয়া, যাতে এর চেয়ে বড় অন্যায় করে না বসে।