📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্বামীকে সেজদার হুকুম

📄 স্বামীকে সেজদার হুকুম


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : إِنِّي أَسْلَمْتُ فَأَرِنِي شَيْئًا أَزْدَادُ بِهِ يَقِينًا قَالَ: مَا تُرِيدُ؟ قَالَ : ادْعُ تِلْكَ الشَّجَرَةَ فَلْتَأْتِكَ. قَالَ: اذْهَبْ فَادْعُهَا. فَذَهَبَ فَقَالَ : أَجِيبِي رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَالَتْ عَلَى جَانِبِ مِنْ جَوَانِبِهَا فَقُطَّعَتْ عُرُوقُهَا، ثُمَّ مَالَتْ عَلَى الْجَانِبِ الْآخَرِ، ثُمَّ أَقْبَلَتْ ثُمَّ أَدْبَرَتْ فَقُطَّعَتْ عُرُوقُهَا، ثُمَّ أَقْبَلَتْ تَجُرُّ عُرُوقَهَا، وَفُرُوعَهَا حَتَّى انْتَهَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَلَّمَتْ عَلَيْهِ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: حَسْبِي حَسْبِي، فَأَمَرَهَا فَرَجَعَتْ فَدَلَّتْ عُرُوقَهَا فِي ذلِكَ الْمَوْضِعِ، ثُمَّ اسْتَوَتْ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ : ائْذَنْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأُقَبَلْ رَأْسَكَ، وَرِجْلَيْكَ، فَأَذِنَ لَهُ، فَقَبَّلَ رَأْسَهُ، وَرِجْلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَسْجُدَ لَكَ? قَالَ : لَا تَسْجُدْ لِي وَلَا يَسْجُدُ أَحَدٌ لِأَحَدٍ مِنَ الْخَلْقِ، وَلَوْ كُنْتُ آمُرُ أَحَدًا بِذَلِكَ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا تَعْظِيمًا لِحَقِّهِ.

আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, এক বেদুঈন নবী ﷺ-এর নিকট এসে বলল, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। সুতরাং আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যাতে আমার ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়। নবী বললেন, তুমি কী চাও? বেদুঈন বলল, ঐ বৃক্ষটিকে ডাকুন, যেন চলে আসে। রাসূলুল্লাহ বললেন, যাও, বৃক্ষটিকে ডেকে নিয়ে আস। বেদুঈন ওই গাছটির নিকট গিয়ে বলল, রাসূলুল্লাহ তোমাকে ডেকেছেন। তখন বৃক্ষটি একদিকে ঝুঁকে পড়ল। ফলে তার শেকড় ছিঁড়ে গেল। তারপর আরেক দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারপর সামনে ও পিছনে ঝুঁকে পড়ল। ফলে তার সবগুলো শিকড় ছিঁড়ে গেল। এরপর গাছটি তার শিকড় ও ডালপালার উপর ভর করে রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে তাকে সালাম দিল। বেদুঈন এটা দেখে বলল, ব্যাস! হয়েছে, হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ-এর নির্দেশে বৃক্ষটি আপন জায়গায় চলে গেল। তার শিকড়গুলো যথাস্থানে স্থাপিত হলো। ফলে গাছটি আগের মতো হয়ে গেল। এরপর বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! অনুমতি দিলে আমি আপনার মাথা ও পায়ে চুম্বন করব। রাসূলুল্লাহ অনুমতি দিলেন। সে তার মাথায় ও পায়ে চুম্বন করল। এরপর বেদুঈন বলল, অনুমতি দিলে আমি আপনাকে সেজদা করব। রাসূলুল্লাহ বললেন, কেউ আমাকে সেজদা করবে না। সৃষ্টিজগতের একে অপরকে সেজদা করতে পারবে না। আমি যদি কাউকে সেজদা করার আদেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীর প্রতি সেজদা করার আদেশ দিতাম, তার সম্মানের কারণে।

টিকাঃ
৪১৪. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১১৫৯; মুসনাদে বাযযার : হাদীস-৮০২৩; (গাছের ঘটনাটি অনুল্লিখিত)। হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্বামীর হক বা অধিকারসমূহ

📄 স্বামীর হক বা অধিকারসমূহ


عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الزَّوْجِ عَلَى الْمَرْأَةِ؟ قَالَ: أَنْ لَا تَمْنَعَ نَفْسَهَا وَلَوْ كَانَتْ عَلَى ظَهْرِ قَتَبٍ، وَلَا تَصُومَ يَوْمًا إِلَّا بِإِذْنِهِ إِلَّا رَمَضَانَ، فَإِنْ فَعَلَتْ كَانَ الْأَجْرُ لَهُ وَالْوِزْرُ عَلَيْهَا، وَلَا تَخْرُجَ إِلَّا بِإِذْنِهِ، فَإِنْ خَرَجَتْ لِنَفْسِهَا لَعَنَتْهَا مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ، وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ حَتَّى تَرْجِع.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা নবী ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারসমূহ কী? রাসূল বললেন, হাওদার মাঝে থাকলেও স্বামীর যৌন-কামনা পূরণে বাধা না দেওয়া, রমযান ছাড়া অন্য সময়ে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত রোযা না রাখা। যদি রাখে তাহলে সওয়াব স্বামীর হবে আর গুনাহ হবে স্ত্রীর। স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। যদি বের হয়ে পড়ে, তাহলে ফিরে আসা পর্যন্ত রহমত ও আযাবের ফেরেশতারা তাকে লানত করতে থাকে।

টিকাঃ
৪১৫. মুসনাদে তুয়ালিসী : হাদীস-২০৬৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ৪/৩০৩; সনদ জয়ীফ [মীযানুল এতেদাল: ৩/৪২১]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 স্বামীর হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ

📄 স্বামীর হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ


عَنْ قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: ذُكِرَ لَنَا أَنَّ كَعْبًا قَالَ : أَوَّلُ مَا تُسْأَلُ الْمَرْأَةُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَنْ صَلَاتِهَا ثُمَّ عَنْ حَقٌّ زَوْجِهَا

হযরত কাতাদা রহ. বর্ণনা করেন, আমরা কাব রাযি. কে বলতে শুনেছি কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম মহিলাদেরকে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে স্বামীর হক সম্পর্কে।

عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : إِذَا هَرَبَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا لَمْ تُقْبَلْ لَهَا صَلَاةٌ حَتَّى تَرْجِعَ وَتَضَعَ يَدَهَا فِي يَدِهِ وَإِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا صَلَّتْ وَلَمْ تَدْعُ لِزَوْجِهَا رُدَّتْ عَلَيْهَا صَلَاتُهَا حَتَّى تَدْعُوَ لِزَوْجِهَا.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, স্ত্রী যদি স্বামীর গৃহ থেকে পলায়ন করে এবং ফিরে এসে স্বামীর হাতে নিজেকে সোপর্দ না করে তাহলে তার নামাজ কবুল হয় না। নামায পড়ে স্ত্রী যদি তার স্বামীর জন্য দোয়া না করে, তাহলে তার দোয়া কবুল হয় না, যতক্ষণ পুনরায় স্বামীর জন্য দোয়া না করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হক সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবা

📄 হক সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবা


عَنْ قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : ذُكِرَ لَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِمِنّى : أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ فُرُشَكُمْ، وَلَا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِأَحَدٍ تَكْرَهُونَهُ، وَلَا يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ، فَإِنْ هُنَّ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَقَدْ أُحِلَّ لَكُمْ أَنْ تَضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّجٍ، وَإِنَّ مِنْ حَقَّهِنَّ عَلَيْكُمُ الْكُسْوَةُ وَالنَّفَقَةُ بِالْمَعْرُوفِ.

হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ মিনায় খুতবা প্রদানকালে ইরশাদ করেন, হে লোক সকল! স্ত্রীর উপর তোমাদের কিছু হক রয়েছে এবং তোমাদের উপরও স্ত্রীদের কিছু হক রয়েছে। তাদের উপর তোমাদের হক হলো, তারা তোমাদের বিছানায় অন্য কাউকে স্থান দেবে না, তোমাদের গৃহে এমন ব্যক্তির প্রবেশের অনুমতি দেবে না, যাকে তোমরা পছন্দ কর না। প্রকাশ্য নির্লজ্জ কাজ করবে না। যদি করে, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন যে, তোমরা তাদেরকে হালকা প্রহার করবে। আর তোমাদের উপর তাদের হক হলো, তাদের জন্য পোশাক পরিচ্ছদ ও উত্তমরূপে ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَأَحْصَنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، فَلْتَدْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ.

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, কোনো মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমাযানের রোযা রাখে, লজ্জাস্থান হিফাজত করে আর স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : لَوْ أَنَّ الزَّوْجَ سَالَ مِنْ أَحَدٍ مِنْخَرَيْهِ دَمٌ وَمِنَ الْآخَرِ صَدِيدٌ، فَلَحَسَتْهُ الْمَرْأَةُ مَا أَدَّتْ حَقَّ زَوْجِهَا.

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেছেন, যদি স্বামীর নাকের এক ছিদ্র দিয়ে রক্ত আর অপর ছিদ্র দিয়ে পুঁজ পড়ে, আর স্ত্রী তা চেটে পরিষ্কার করে, তবুও স্বামীর হক আদায় হবে না।

টিকাঃ
৪১৬. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১২১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১১৬৩। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন।
৪১৭. সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৪১৬৩; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/৩০৮; হাদীসটি সহীহ [আত-তারগীব লিল-মুনযিরী: ৩/২৬৮; আদাবুয যিফাফ: পৃষ্ঠা-২১৪]।
৪১৮. মুসনাদে বাযযার: হাদীস-৮৬৩৪; মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-২৭৬৮; হাদীসটি সহীহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px