📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 উম্মতে মুহাম্মদির ফযীলত

📄 উম্মতে মুহাম্মদির ফযীলত


عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَرَأْتُ فِي بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَا مُوسَى رَكْعَتَانِ يُصَلِّيهِمَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الْغَدَاةِ، مَنْ يُصَلِّيهِمَا غَفَرْتُ لَهُ مَا أَصَابَ مِنَ الذُّنُوبِ مِنَ لَيْلِهِ وَيَوْمِهِ ذَلِكَ، وَيَكُونُ فِي ذِمَّتِي يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الظُّهْرِ أُعْطِيهِمْ بِأَوَّلِ رَكْعَةٍ مِّنْهَا الْمَغْفِرَةَ، وَبِالثَّانِيَةِ أُتْقِلُ مِيزَانَهُمْ، وَبِالثَّالِثَةِ أُوَكَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ وَيَسْتَغْفِرُونَ لَهُمْ وَبِالرَّابِعَةِ أَفْتَحُ عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ السَّمَاءِ وَيَشْرُقْنَ عَلَيْهِمُ الْحُوْرُ الْعِينُ يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الْعَصْرِ، فَلَا يَبْقَى مَلَكُ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا اسْتَغْفَرَ لَهُمْ، وَمَنِ اسْتَغْفَرَتْ لَهُ الْمَلَائِكَةُ لَمْ أُعَذِّبْهُ، يَا مُوسَى ثَلَاثُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ حِينَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ أَفْتَحُ لَهُمْ أَبْوَابَ السَّمَاءِ، لَا يَسْأَلُونَ مِنْ حَاجَةٍ إِلَّا قَضَيْتُهَا لَهُمْ، يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ حِيْنَ يَغِيْبُ الشَّفَقُ، وَهِيَ خَيْرٌ لَهُمْ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا، وَيَخْرُجُونَ مِنْ ذُنُوبِهِمْ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُمْ أُمُّهُمْ، يَا مُوسَى يَتَوَضَّأُ أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ كَمَا أَمَرْتُهُمْ أُعْطِيهِمْ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تَقْطُرُ مِنَ الْمَاءِ جَنَّةً عَرْضُهَا، كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. يَا مُوسَى يَصُومُ أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ شَهْرًا فِي كُلِّ সَنَةٍ، وَهُوَ شَهْرُ رَمَضَانَ أُعْطِيهِمْ بِصِيَامٍ كُلِّ يَوْمٍ مَدِيْنَةً فِي الْجَنَّةِ، وَأُعْطِيهِمْ بِكُلِّ خَيْرٍ يَعْمَلُونَ فِيْهِ مِنَ التَّطَوُّعِ أَجْرَ فَرِيْضَةٍ، وَأَجْعَلُ فِيْهِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ مَنِ اسْتَغْفَرَ مِنْهُمْ فِيهَا مَرَّةً وَاحِدَةً نَادِمًا صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ إِنْ مَاتَ مِنْ لَّيْلِهِ أَوْ شَهْرِهِ، أَعْطَيْتُهُ أَجْرَ ثَلَاثِيْنَ شَهِيْدًا، يَا مُوسَى إِنَّ فِي أُمَّةٍ مُحَمَّدٍ رِجَالًا يَقُومُونَ مِنْ كُلِّ شَرَفٍ، يَشْهَدُونَ بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَجَزَاؤُهُمْ بِذلِكَ جَزَاءُ الْأَنْبِيَاءِ، عَلَيْهِمُ السَّلَامُ وَرَحْمَتِي عَلَيْهِمْ وَاجِبَةٌ، وَغَضَبِي بَعِيدٌ مِّنْهُمْ، وَلَا أَحْجُبُ بَابَ التَّوْبَةِ عَنْ وَاحِدٍ مِّنْهُمْ مَّا دَامُوا يَشْهَدُونَ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ.

হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামের নিকট যা নাযিল হয়েছে, তাতে আমি পড়েছি— হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা দু'রাকাত নামায পড়ে। যে ব্যক্তি সে দু'রাকআত পড়ে, আমি তাঁর দিন ও রাতে করা গুনাহগুলো মাফ করে দেই। আর সে আমার তত্ত্বাবধানে থাকে। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মত চার রাকআত নামায পড়ে। তা হলো যোহরের নামায। তাদের প্রথম রাকআতে আমি ক্ষমা করে দেই। দ্বিতীয় রাকআতে মিযানের পাল্লা ভারী করে দেই। তৃতীয় রাকআতে ফেরেশতা নির্ধারণ করে দেই, যারা তাসবিহ পাঠ করে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; আর চতুর্থ রাকআতে আসমানের দরজা খুলে দেই এবং জান্নাতের হুররা তাদের দেখতে থাকে। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা চার রাকআত আসরের নামায পড়ে। তাদের এই নামাযের ফলে আসমান ও জমিনের সকল ফেরেশতা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর ফেরেশতারা যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আমি তাঁকে শাস্তি দেই না। সূর্যাস্তের পর আহমদ ও তাঁর উম্মতরা তিন রাকআত নামায পড়ে। এতে আমি তাদের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেই; আর তারা যে প্রার্থনাই করে, তা আমি কবুল করি। হে মূসা! আকাশের লালিমা ডুবে যাওয়ার পর আহমদ এবং তাঁর উম্মতরা চার রাকআত নামায পড়ে। তা তাদের জন্য দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু হতে উত্তম। এর ফলে তারা জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হে মুসা! আহমদ এবং তাঁর উম্মতরা উযূ করে। এতে তাদের দেহ হতে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি ফোঁটা পানির পরিবর্তে জান্নাত দান করি, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার সমান। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা প্রতি বছর রমযানে এক মাস রোজা রাখে। প্রতিটি রোযার পরিবর্তে তাদের আমি জান্নাতে একটি করে শহর দেই। তখনকার প্রতিটি নফল ইবাদতে ফরযের সওয়াব দেই। রমযানে লাইলাতুল কদর রয়েছে। সে রাতে যে ব্যক্তি লজ্জিত হয়ে সত্যভাবে একবার ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর সে ওই রাতে বা ওই মাসে মৃত্যুবরণ করে, তাঁকে আমি ত্রিশজন শহীদের সওয়াব দান করি। হে মূসা! উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে, যারা প্রত্যেক টিলায় উঠবে, আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেবে, তারা তাদের এই আমলের পরিবর্তে নবীদের মত সওয়াব পাবে; তাদের জন্য আমার রহমত ওয়াজিব হবে; তাদের থেকে আমার ক্রোধ দূরে থাকবে; যতদিন পর্যন্ত তারা আমার একত্বের সাক্ষ্য দেবে, ততদিন তাদের কারো জন্য তাওবার দরজা বন্ধ করব না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মদীর সাক্ষ্য

📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মদীর সাক্ষ্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَوَّلَ مَنْ يُدْعَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأُمَّتُهُ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ مَا أُرْسِلْتَ بِهِ؟ فَيَقُولُ : نَعَمْ يَا رَبُّ، ثُمَّ يُقَالُ لِقَوْمِهِ : هَلْ بَلَغَكُمْ نُوحٌ رِسَالَةَ اللَّهِ؟ فَيَقُولُونَ : لَا وَاللَّهُ وَلَئِنْ كُنْتَ أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا، لَتَتَّبِعَ آيَاتِكَ، وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، فَمَا بَلَغَنَا مَا أَمَرْتَهُ بِهِ فَقَالَ لِنُوحٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ : إِنَّ هَؤُلَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لَمْ تُبَلِّغْهُمْ، فَهَلْ لَكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَهِيدٍ؟ فَيَقُولُ : نَعَمْ فَيُقَالُ مَنْ هُمْ؟ فَيُقَالُ : هُمْ أُمَّةٌ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُدْعَوْنَ، وَيُسْأَلُونَ فَيَقُولُونَ : نَعَمْ نَشْهَدُ أَنَّ نُوحًا عَلَيْهِ السَّلَامُ قَدْ بَلَغَ قَوْمَهُ فَيَقُولُ قَوْمُ نُوحٍ : كَيْفَ تَشْهَدُونَ عَلَيْنَا، وَنَحْنُ أَوَّلُ الْأُمَمِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الْأُمَمِ؟ فَيَقُولُونَ : نَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَ إِلَيْنَا رَسُولًا وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، وَكَانَ فِيمَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ خَبَرُكُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম নূহ আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর উম্মতকে ডাকা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাকে যা পৌঁছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা কি তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রভু! এরপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, নূহ কি আল্লাহর রিসালাত তোমার নিকট পৌঁছিয়েছে? তারা বলবে, না! খোদার কসম! খোদা! তুমি যদি আমাদের নিকট তোমার রেসালাত পৌঁছানোর জন্য কাউকে পাঠাতে, তাহলে আমরা তার হুকুম মোতাবেক চলতাম এবং মুমিন হতাম। তুমি তাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছ, সে তা আমাদের নিকট পৌঁছায়নি। তখন আল্লাহ তা'আলা নূহ আলাইহিস্ সালামকে বলবেন, তারা বলছে, তুমি তাদের নিকট পৌঁছাওনি। এখন তাদের বিরুদ্ধে তোমার কি কোনো সাক্ষ্য আছে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। তাঁকে বলা হবে, তারা কারা? তিনি বলবেন, তারা হলো উম্মতে মুহাম্মদ। তখন তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তারা বলবে, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নূহ আলাইহিস্ সালাম তাঁর গোত্রের নিকট তোমার পয়গাম পৌঁছিয়েছেন। তখন নুহ আলাইহিস্ সালামের উম্মতরা বলবে, তোমারা কীভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছ? আমরা হলাম সর্বপ্রথম উম্মত, আর তোমরা হলে সর্বশেষ উম্মত। তারা বলবে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলেন। আর তাঁর ওপর একটি কিতাবও নাযিল করেছিলেন। সে কিতাবে তোমাদের কথা উল্লেখ ছিল।

নাহনু আখিরূনা ওয়া নাহনুল আওয়ালূনা ইয়াওমাল কিয়ামতি।
অর্থাৎ, আমরা সবার শেষে এসেছি। আর কিয়ামতের দিন সবার আগে থাকব।

টিকাঃ
৪১৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩৩৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস- ৪২৮৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px