📄 এই উম্মতের সম্মান
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَكْرَمَ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ كَمَا أَكْرَمَ بِهَا أَنْبِيَاءَهُ: أَحَدُهَا أَنَّهُ جَعَلَ كُلَّ نَبِيَّ شَاهِدًا عَلَى قَوْمِهِ، وَجَعَلَ هَذِهِ الْأُمَّةَ شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ لِلرُّسُلِ : يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا (المؤمنون : ٥١) وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ (البقرة : ٥٧) وَقَالَ لِكُلِّ نَبِيَّ دَعْوَةً مُسْتَجَابَةٌ، وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ : ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ (غافر : ٦٠)
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতকে নবীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন—
১. প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মতের ওপর সাক্ষী হবেন; আর এই উম্মত সকল মানুষের ওপর সাক্ষী হবে।
২. রাসূলদের জন্য আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন— 'হে রাসূলগণ! পবিত্র খাবার গ্রহণ কর এবং সৎকর্ম কর।' তদ্রূপ এই উম্মতের জন্য বলেছেন— 'আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, সেখান থেকে হালাল খাবার গ্রহণ কর।'
৩. প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ দোয়া কবুল হয়। আর এই উম্মতকে বলা হয়েছে— 'তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর; আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব।'
কেউ কেউ বলেন, এই উম্মতকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে। যথা—
১. আন্নাহু খালাক্বাহুম দুআফাআ হাত্তা লা ইয়াতাকাব্বারু—অর্থাৎ, এই উম্মতকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তাদের মধ্যে অহংকার না আসে।
২. খালাক্বাহুম সিগারান ফী আনফুসিহিম হাত্তা তাকুনা মাউনাতুত ত্বাআমি ওয়াশ শারাবি ওয়াত তিয়াবি আলাইহিম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদেরকে দৈহিকভাবে আগেকার উম্মত থেকে ছোট করা হয়েছে, যেন পানাহার ও পোশাক-আশাকের বোঝা বহন করতে না হয়।
৩. জায়ালা উমুরাহুম কাসীরান হাত্তা তাকুনা যুনুবুহুম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের আয়ু কম রাখা হয়েছে, যেন গুনাহ কম হয়।
৪. জায়ালাহুম ফুকারাআ হাত্তা ইয়াকুনা হিসাবুহুম ফিল আখিরাতি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের দরিদ্র বানানো হয়েছে, যেন পরকালের হিসাব সহজ হয়;
৫. জায়ালাহুম আখিরাল উমামি হাত্তা ইয়াকুনা বাক্বাউহুম ফিল ক্বাবরি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, সর্বশেষ উম্মত বানানো হয়েছে, যেন কবরে কম থাকতে হয়।
বর্ণিত আছে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম বলেছিলেন, উম্মতে মুহাম্মদীকে চারটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা আমাকে দেওয়া হয়নি। যথা—
১. আমার তাওবা মক্কায় কবুল হয়েছে। আর এদের তাওবা যেখানেই হোক, তা কবুল হয়।
২. গোনাহ করার কারণে আমার পরিহিত পোশাক খুলে নেওয়া হয়েছে; আর এরা যদি উলঙ্গ অবস্থায়ও গুনাহ করে, এদের পাপ আল্লাহ তা'আলা পর্দার আড়ালে রাখেন।
৩. আমার পাপের কারণে আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। আর এরা গুনাহ করা সত্ত্বেও তাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা হতে হয় না।
৪. জান্নাতে পাপ করার কারণে আমাকে সেখান থেকে বের হতে হয়েছে। আর তারা পাপ করার পর তাওবা করলে জান্নাতে যেতে পারবে।
📄 নবীজীর দরবারে ইয়াহুদির দল
عَنْ عَلَيَّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : بَيْنَمَا النَّبِيُّ ﷺ جَالِسٌ مَعَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ إِذْ أَقْبَلَ إِلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالُوا : يَا مُحَمَّدُ إِنَّا نَسْأَلُكَ عَنْ كَلِمَاتٍ أَعْطَاهُنَّ اللَّهُ تَعَالَى لِمُوسَى بْنِ عِمْرَانَ، لَا يُعْطِيهَا إِلَّا نَبِيًّا مُرْسَلًا أَوْ مَلَكًا مُقَرَّبًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَلُوا، فَقَالُوا : يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنَا عَنْ هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ الَّتِي افْتَرَضَهَا اللَّهُ عَلَى أُمَّتِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَّا صَلَاةُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ يُسَبِّحُ كُلُّ شَيْءٍ لِرَبِّهِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَصْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي أَكَلَ فِيهَا آدَمُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنَ الشَّجَرَةِ وَأَمَّا صَلَاةُ الْمَغْرِبِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تَابَ اللهُ عَلَى آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيهَا، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ مُحْتَسِبًا، ثُمَّ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَتْمَةِ فَإِنَّهَا الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّاهَا الْمُرْسَلُونَ قَبْلِي، وَأَمَّا صَلَاةُ الْفَجْرِ فَإِنَّ الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ، وَيَسْجُدُ لَهَا كُلُّ كَافِرٍ مِنْ دُونِ اللَّهِ. قَالُوا لَهُ : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَمَا ثَوَابُ مَنْ صَلَّى؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَّا صَلَاةُ الظُّهْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تُسَخَّرُ فِيهَا جَهَنَّمُ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ لَفَحَاتِ جَهَنَّمَ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَصْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي أَكَلَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيهَا مِنَ الشَّجَرَةِ فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَّا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ. ثُمَّ تَلَا قَوْلَهُ تَعَالَى : حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى ( البقرة : ٢٣٨) وَأَمَّا صَلَاةُ الْمَغْرِبِ، فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تَابَ اللهُ فِيهَا عَلَى آدَمَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ مُحْتَسِبًا، ثُمَّ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَتْمَةِ، فَإِنَّ الْقَبْرَ ظُلْمَةٌ، وَيَوْমَ الْقِيَامَةِ ظُلْمَةٌ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ مَشَى فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ إِلَى صَلَاةِ الْعَتْمَةِ إِلَّا حَرَّমَ اللهُ عَلَيْهِ وَقُودَ النَّارِ، وَيُعْطَى نُورًا يُجَوِّزُهُ عَلَى الصِّرَاطِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْفَجْرِ فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي الْفَجْرَ أَرْبَعِينَ يَوْমًا فِي الْجَمَاعَةِ إِلَّا أَع্টাহু اللَّهُ بَرَاءَتَيْنِ : بَرَاءَةً مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةً مِنَ التَّفَاقِ. قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، وَلِمَ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى أُمَّتِكَ الصَّوْمَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا؟ قَالَ : إِنَّ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا أَكَلَ مِنَ الشَّجَرَةِ بَقِيَ فِي بَطْنِهِ مِقْدَارَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا، فَافْتَرَضَ اللهُ عَلَى ذُرِّيَتِهِ الْجُوعَ ثَلَاثِينَ يَوْমًا، وَيَأْكُلُونَ بِاللَّيْلِ تَفَضُّلًا مِنَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى خَلْقِهِ. قَالُوا: صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَأَخْبِرْنَا مَا ثَوَابُ صِيَامٍ أُمَّتِكَ؟ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يَوْمًا مُحْتَسِبًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ تَعَالَى سَبْعَ خِصَالٍ، يُذَوِّبُ اللَّحْمَ الْحَرَامَ مِنْ جَسَدِهِ، وَيُقَرِّبُهُ مِنْ رَحْمَتِهِ، وَيُعْطِيهِ خَيْرَ الْأَعْمَالِ، وَيُؤْمِنُهُ مِنَ الْجُوعِ، وَالْعَطَشِ، وَيُهَوِّنُ عَلَيْهِ عَذَابَ الْقَبْرِ، وَيُعْطِيهِ اللهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُجَاوِزَ بِهِ الصِّرَاطَ، وَيُعْطِيهِ الْكَرَامَاتِ فِي الْجَنَّةِ. قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَأَخْبِرْنَا مَا فَضْلُكَ عَلَى النَّبِيِّينَ؟ قَالَ: فَمَا مِنْ نَبِيَّ إِلَّا دَعَا عَلَى قَوْمِهِ بِالْهَلَاكِ، وَأَنَا ادَّخَرْتُ دَعْوَتِي لِأُمَّتِي يَعْنِي الشَّفَاعَةَ، قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، نَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, হুজুর ﷺ-এর দরবারে মুহাজির ও আনসাররা বসা ছিলেন। এই সময় ইয়াহুদিদের একটি দল এল। বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা আপনাকে কয়েকটি কথা জিজ্ঞাসা করব, যা আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামকে দান করেছিলেন। সেগুলো কোনো নবী বা ফেরেশতা ব্যতীত আর কেউ জানে না। নবীজী বললেন, জিজ্ঞাসা কর! তারা বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তা'আলা আপনার উম্মতের ওপর যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, সে সম্বন্ধে কিছু বলুন! তিনি বললেন—
যোহরের নামায পড়া হলো সূর্য ঢলে যাওয়ার পর। এই সময় প্রত্যেক বস্তুই আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে। আর আসরের নামায এ কারণে পড়া হয় যে, এই সময় হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছিলেন। আর মাগরিবের সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর তাওবা কবুল করেছিলেন। কাজেই যে মুমিন সওয়াবের নিয়তে এই নামায আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা'আলা তার দোয়া কবুল করেন। আর ইশার নামায ফরয হওয়ার কারণ হলো, এই সময় আগেকার নবীরা নামায পড়তেন। আর ফজরের নামায এ কারণে পড়া হয় যে, সূর্য শয়তানের দু'শিংয়ের মাঝখানে উদিত হয়। আর সে সময় কাফেররা শয়তানের পূজা করে।
ইয়াহুদিরা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। এখন বলুন! এই সব নামায আদায় করলে কী সওয়াব পাওয়া যাবে? তিনি বললেন—
যোহরের নামাযের সময়ে জাহান্নামের আগুন উস্কে দেওয়া হয়। তাই যে মুমিন ব্যক্তি এই নামায আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর জাহান্নামের আগুনের শিখা হারাম করে দিবেন। আর আসরের সময় আদম আলাইহিস্ সালাম জান্নাতের নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন। তাই যে ব্যক্তি এই নামায আদায় করবে, সে তার জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে। এ কথা বলে তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন— 'হাফিযূ আলাস সালাওয়াতি ওয়াস সালাতিল উসতা'। আর মাগরিবের সময় আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস্ সালামের তাওবা কবুল করেছিলেন। তাই যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়তে এই নামায আদায় করবে, এবং এরপর আল্লাহ তা'আলার নিকট কিছু চাইবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রার্থনা অবশ্যই কবুল করবেন। আর ইশার নামায পড়া হয় রাতের অন্ধকারে। কবরও অন্ধকার; কিয়ামতের দিনও অন্ধকার। তাই যে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে হেঁটে ইশার নামায পড়তে যায়, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন এবং তাঁকে নূর দান করেন, যেটার আলোয় সে পুলসিরাত পেরিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায চল্লিশ দিন জামাআতের সাথে আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে দুটি মুক্তিসনদ দেবেন: একটি হলো জাহান্নাম হতে মুক্তির সনদ; আরেকটি হলো নিফাক হতে মুক্তির সনদ।
তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন। এখন বলুন, আপনার উম্মতের রোযার সওয়াব কী? তিনি বললেন, যে বান্দা সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সাতটি দয়া করেন: তাঁর দেহ থেকে হারাম গোশত গলে যায়। আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী হয়। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ভালো আমল করার তাওফিক দান করেন। ক্ষুৎপিপাসা হতে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে নিরাপত্তা দান করেন। কবরের আযাব থেকে তাঁকে মুক্তি দান করেন। তাঁকে এমন একটি নুর দান করবেন, যা দিয়ে সে পুলসিরাত পেরিয়ে যাবে। আর তাকে জান্নাতে সম্মানিত করবেন।
তারা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। এখন বলুন, অন্য সব নবীর ওপর আপনার কী মর্যাদা রয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক নবীই তার উম্মতের জন্য বদদোয়া করেছেন। কিন্তু আমি আমার দোয়া উম্মতের জন্য জমা করে রেখেছি। অর্থাৎ, আল্লাহর নিকট সুপারিশ। তারা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর আপনি আল্লাহর রাসূল।
📄 উম্মতে মুহাম্মদির ফযীলত
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَرَأْتُ فِي بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَا مُوسَى رَكْعَتَانِ يُصَلِّيهِمَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الْغَدَاةِ، مَنْ يُصَلِّيهِمَا غَفَرْتُ لَهُ مَا أَصَابَ مِنَ الذُّنُوبِ مِنَ لَيْلِهِ وَيَوْمِهِ ذَلِكَ، وَيَكُونُ فِي ذِمَّتِي يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الظُّهْرِ أُعْطِيهِمْ بِأَوَّلِ رَكْعَةٍ مِّنْهَا الْمَغْفِرَةَ، وَبِالثَّانِيَةِ أُتْقِلُ مِيزَانَهُمْ، وَبِالثَّالِثَةِ أُوَكَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ وَيَسْتَغْفِرُونَ لَهُمْ وَبِالرَّابِعَةِ أَفْتَحُ عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ السَّمَاءِ وَيَشْرُقْنَ عَلَيْهِمُ الْحُوْرُ الْعِينُ يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ، وَهِيَ صَلَاةُ الْعَصْرِ، فَلَا يَبْقَى مَلَكُ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا اسْتَغْفَرَ لَهُمْ، وَمَنِ اسْتَغْفَرَتْ لَهُ الْمَلَائِكَةُ لَمْ أُعَذِّبْهُ، يَا مُوسَى ثَلَاثُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ حِينَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ أَفْتَحُ لَهُمْ أَبْوَابَ السَّمَاءِ، لَا يَسْأَلُونَ مِنْ حَاجَةٍ إِلَّا قَضَيْتُهَا لَهُمْ، يَا مُوسَى أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ حِيْنَ يَغِيْبُ الشَّفَقُ، وَهِيَ خَيْرٌ لَهُمْ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا، وَيَخْرُجُونَ مِنْ ذُنُوبِهِمْ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُمْ أُمُّهُمْ، يَا مُوسَى يَتَوَضَّأُ أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ كَمَا أَمَرْتُهُمْ أُعْطِيهِمْ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تَقْطُرُ مِنَ الْمَاءِ جَنَّةً عَرْضُهَا، كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. يَا مُوسَى يَصُومُ أَحْمَدُ وَأُمَّتُهُ شَهْرًا فِي كُلِّ সَنَةٍ، وَهُوَ شَهْرُ رَمَضَانَ أُعْطِيهِمْ بِصِيَامٍ كُلِّ يَوْمٍ مَدِيْنَةً فِي الْجَنَّةِ، وَأُعْطِيهِمْ بِكُلِّ خَيْرٍ يَعْمَلُونَ فِيْهِ مِنَ التَّطَوُّعِ أَجْرَ فَرِيْضَةٍ، وَأَجْعَلُ فِيْهِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ مَنِ اسْتَغْفَرَ مِنْهُمْ فِيهَا مَرَّةً وَاحِدَةً نَادِمًا صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ إِنْ مَاتَ مِنْ لَّيْلِهِ أَوْ شَهْرِهِ، أَعْطَيْتُهُ أَجْرَ ثَلَاثِيْنَ شَهِيْدًا، يَا مُوسَى إِنَّ فِي أُمَّةٍ مُحَمَّدٍ رِجَالًا يَقُومُونَ مِنْ كُلِّ شَرَفٍ، يَشْهَدُونَ بِشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَجَزَاؤُهُمْ بِذلِكَ جَزَاءُ الْأَنْبِيَاءِ، عَلَيْهِمُ السَّلَامُ وَرَحْمَتِي عَلَيْهِمْ وَاجِبَةٌ، وَغَضَبِي بَعِيدٌ مِّنْهُمْ، وَلَا أَحْجُبُ بَابَ التَّوْبَةِ عَنْ وَاحِدٍ مِّنْهُمْ مَّا دَامُوا يَشْهَدُونَ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ.
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামের নিকট যা নাযিল হয়েছে, তাতে আমি পড়েছি— হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা দু'রাকাত নামায পড়ে। যে ব্যক্তি সে দু'রাকআত পড়ে, আমি তাঁর দিন ও রাতে করা গুনাহগুলো মাফ করে দেই। আর সে আমার তত্ত্বাবধানে থাকে। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মত চার রাকআত নামায পড়ে। তা হলো যোহরের নামায। তাদের প্রথম রাকআতে আমি ক্ষমা করে দেই। দ্বিতীয় রাকআতে মিযানের পাল্লা ভারী করে দেই। তৃতীয় রাকআতে ফেরেশতা নির্ধারণ করে দেই, যারা তাসবিহ পাঠ করে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; আর চতুর্থ রাকআতে আসমানের দরজা খুলে দেই এবং জান্নাতের হুররা তাদের দেখতে থাকে। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা চার রাকআত আসরের নামায পড়ে। তাদের এই নামাযের ফলে আসমান ও জমিনের সকল ফেরেশতা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর ফেরেশতারা যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আমি তাঁকে শাস্তি দেই না। সূর্যাস্তের পর আহমদ ও তাঁর উম্মতরা তিন রাকআত নামায পড়ে। এতে আমি তাদের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেই; আর তারা যে প্রার্থনাই করে, তা আমি কবুল করি। হে মূসা! আকাশের লালিমা ডুবে যাওয়ার পর আহমদ এবং তাঁর উম্মতরা চার রাকআত নামায পড়ে। তা তাদের জন্য দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু হতে উত্তম। এর ফলে তারা জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। হে মুসা! আহমদ এবং তাঁর উম্মতরা উযূ করে। এতে তাদের দেহ হতে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি ফোঁটা পানির পরিবর্তে জান্নাত দান করি, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার সমান। হে মূসা! আহমদ ও তাঁর উম্মতরা প্রতি বছর রমযানে এক মাস রোজা রাখে। প্রতিটি রোযার পরিবর্তে তাদের আমি জান্নাতে একটি করে শহর দেই। তখনকার প্রতিটি নফল ইবাদতে ফরযের সওয়াব দেই। রমযানে লাইলাতুল কদর রয়েছে। সে রাতে যে ব্যক্তি লজ্জিত হয়ে সত্যভাবে একবার ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর সে ওই রাতে বা ওই মাসে মৃত্যুবরণ করে, তাঁকে আমি ত্রিশজন শহীদের সওয়াব দান করি। হে মূসা! উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে, যারা প্রত্যেক টিলায় উঠবে, আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেবে, তারা তাদের এই আমলের পরিবর্তে নবীদের মত সওয়াব পাবে; তাদের জন্য আমার রহমত ওয়াজিব হবে; তাদের থেকে আমার ক্রোধ দূরে থাকবে; যতদিন পর্যন্ত তারা আমার একত্বের সাক্ষ্য দেবে, ততদিন তাদের কারো জন্য তাওবার দরজা বন্ধ করব না।
📄 কিয়ামতের দিন উম্মতে মুহাম্মদীর সাক্ষ্য
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ أَوَّلَ مَنْ يُدْعَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ نُوحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأُمَّتُهُ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ مَا أُرْسِلْتَ بِهِ؟ فَيَقُولُ : نَعَمْ يَا رَبُّ، ثُمَّ يُقَالُ لِقَوْمِهِ : هَلْ بَلَغَكُمْ نُوحٌ رِسَالَةَ اللَّهِ؟ فَيَقُولُونَ : لَا وَاللَّهُ وَلَئِنْ كُنْتَ أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا، لَتَتَّبِعَ آيَاتِكَ، وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، فَمَا بَلَغَنَا مَا أَمَرْتَهُ بِهِ فَقَالَ لِنُوحٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ : إِنَّ هَؤُلَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لَمْ تُبَلِّغْهُمْ، فَهَلْ لَكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَهِيدٍ؟ فَيَقُولُ : نَعَمْ فَيُقَالُ مَنْ هُمْ؟ فَيُقَالُ : هُمْ أُمَّةٌ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُدْعَوْنَ، وَيُسْأَلُونَ فَيَقُولُونَ : نَعَمْ نَشْهَدُ أَنَّ نُوحًا عَلَيْهِ السَّلَامُ قَدْ بَلَغَ قَوْمَهُ فَيَقُولُ قَوْمُ نُوحٍ : كَيْفَ تَشْهَدُونَ عَلَيْنَا، وَنَحْنُ أَوَّلُ الْأُمَمِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الْأُمَمِ؟ فَيَقُولُونَ : نَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَ إِلَيْنَا رَسُولًا وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، وَكَانَ فِيمَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ خَبَرُكُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম নূহ আলাইহিস্ সালাম এবং তাঁর উম্মতকে ডাকা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাকে যা পৌঁছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা কি তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রভু! এরপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, নূহ কি আল্লাহর রিসালাত তোমার নিকট পৌঁছিয়েছে? তারা বলবে, না! খোদার কসম! খোদা! তুমি যদি আমাদের নিকট তোমার রেসালাত পৌঁছানোর জন্য কাউকে পাঠাতে, তাহলে আমরা তার হুকুম মোতাবেক চলতাম এবং মুমিন হতাম। তুমি তাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছ, সে তা আমাদের নিকট পৌঁছায়নি। তখন আল্লাহ তা'আলা নূহ আলাইহিস্ সালামকে বলবেন, তারা বলছে, তুমি তাদের নিকট পৌঁছাওনি। এখন তাদের বিরুদ্ধে তোমার কি কোনো সাক্ষ্য আছে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। তাঁকে বলা হবে, তারা কারা? তিনি বলবেন, তারা হলো উম্মতে মুহাম্মদ। তখন তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তারা বলবে, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নূহ আলাইহিস্ সালাম তাঁর গোত্রের নিকট তোমার পয়গাম পৌঁছিয়েছেন। তখন নুহ আলাইহিস্ সালামের উম্মতরা বলবে, তোমারা কীভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছ? আমরা হলাম সর্বপ্রথম উম্মত, আর তোমরা হলে সর্বশেষ উম্মত। তারা বলবে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলেন। আর তাঁর ওপর একটি কিতাবও নাযিল করেছিলেন। সে কিতাবে তোমাদের কথা উল্লেখ ছিল।
নাহনু আখিরূনা ওয়া নাহনুল আওয়ালূনা ইয়াওমাল কিয়ামতি।
অর্থাৎ, আমরা সবার শেষে এসেছি। আর কিয়ামতের দিন সবার আগে থাকব।
টিকাঃ
৪১৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩৩৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস- ৪২৮৪।