📄 নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য পাঁচটি বৈশিষ্ট্য
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي، أُرِسِلْتُ إِلَى الْأَحْمَرَ وَالْأَسْوَدَ، وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَأُحِلَّ لِي الْمَغْنَمُ وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ فَادَّخَرْتُهَا لِأُمَّتِي.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেওয়া হয়েছে, যা কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। যথা— ১. আমি লাল-কালো তথা সবার জন্য প্রেরিত হয়েছি; ২. যমীনকে আমার জন্য পবিত্রকারী ও সেজদার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে; [এর আগে তায়াম্মুমও জায়েয ছিল না; তদ্রূপ সবখানে ইবাদত করাও জায়েয ছিল না।] ৩. এক মাসের পথের দূর থেকেই শত্রুদের ওপর আমার ভীতি সঞ্চারণ করা হয়; ৪. আমার জন্য যুদ্ধলব্ধ মাল হালাল করা হয়েছে; ৫. আমাকে বিশেষ সুপারিশের অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা আমি আমার উম্মতের জন্য হেফাজত করে রেখেছি।
টিকাঃ
৪১১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৫২১।
📄 হযরত উমর রাযি.-এর সাথে এক ইয়াহুদীর বিতর্ক
عَنِ الْفَقِيهِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، قَالَ : يُحْكَى أَنَّ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، كَانَ لَهُ عَلَى يَهُودِيٌّ حَقٌّ فَلَقِيَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: وَالَّذِي اصْطَفَى أَبَا الْقَاسِمِ عَلَى الْبَشَرِ لَا تُفَارِقْنِي وَأَنَا طَالِبُكَ بِشَيْءٍ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: مَا اصْطَفَى اللَّهُ أَبَا الْقَاسِمِ عَلَى الْبَشَرِ. فَرَفَعَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ يَدَهُ فَلَطَمَ خَدَّهُ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ : بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَبُو الْقَاسِمِ، النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْيَهُودِيُّ : إِنَّ عُمَرَ زَعَمَ أَنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكَ عَلَى الْبَشَرِ، وَإِنِّي زَعَمْتُ أَنَّ اللهَ لَمْ يَصْطَفِكَ عَلَى الْبَشَرِ، فَرَفَعَ يَدَهُ فَلَطَمَنِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَّا أَنْتَ يَا عُمَرُ فَأَرْضِهِ مِنْ لَطْمَتِكَ. ثُمَّ قَالَ : بَلَى يَا يَهُودِيُّ إِنَّ آدَمَ صَفِيُّ اللَّهِ، وَإِبْرَاهِيمَ خَلِيلُ اللهِ، وَ مُوسَى نَبِيُّ اللَّهِ، وَعِيسَى رُوحُ اللَّهِ، وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ اسْمَانِ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى : سَمَّى بِهِمَا أُمَّتِي، سَمَّى نَفْسَهُ السَّلَامَ، وَسَمَّى أُمَّتِي الْمُسْلِمِينَ، وَسَمَّى نَفْسَهُ الْمُؤْمِنَ، وَسَمَّى اللهُ أُمَّتِي الْمُؤْمِنِينَ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ طَلَبْتُ يَوْمًا أَدَّخِرُهُ لَنَا يَعْنِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْجَمْعَةِ. فَالْيَوْمُ لَنَا وَغَدًا لَكُمْ، وَبَعْدَ غَدٍ لِلنَّصَارَى، بَلَى يَا يَهُودِيُّ أَنْتُمُ الْأَوَّلُونَ وَنَحْنُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ إِنَّ الْجَنَّةَ لَمُحَرَّمَةٌ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ ، حَتَّى أَدْخُلَهَا أَنَا، وَإِنَّهَا لَمُحَرَّمَةٌ عَلَى الْأُمَمِ، حَتَّى تَدْخُلَهَا أُمَّتِي.
ফকীহ সমরকন্দী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘটনা বর্ণিত আছে, এক ইয়াহুদীর কাছে হযরত উমর রাযি.-এর কিছু পাওনা ছিল। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, সে সত্তার কসম, যিনি আবুল কাসেমকে সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন আমার পাওনা আদায় না করে তুমি এখান থেকে যেতে পারবে না। ইয়াহুদি বলল, আল্লাহ তা'আলা সবার ওপর আবুল কাসেমকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেননি। এ কথা শুনে হযরত উমর রাযি. হাত তুলে তাকে এক চড় কষলেন। ইয়াহুদি বলল, এটার বিচার আবুল কাসেমই করবেন। তারা দুজন নবীজী-এর নিকট এল। ইয়াহুদি বলল, উমর বলেছে, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর আমি বলেছি, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সকল মানুষের ওপর বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য দান করেননি। এতে উমর আমাকে চপেটাঘাত করেছে। নবীজী বললেন, উমর! তুমি একে যে চড় মেরেছ তার জন্য তাকে যেভাবে পারো, খুশি করে দাও। এরপর নবীজী বললেন, আরে ইয়াহুদি! কেন নয়? আদম আলাইহিস্ সালাম হলেন 'সফিউল্লাহ'; ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম হলেন 'খলিলুল্লাহ'; মূসা আলাইহিস্ সালাম হলেন 'নবীউল্লাহ'; ঈসা আলাইহিস্ সালাম হলেন 'রুহুল্লাহ' এবং আমি হলাম 'হাবিবুল্লাহ'। আর শোনো ইয়াহুদি! আল্লাহর দু'টি নাম দিয়ে আমার উম্মতের নাম রেখেছেন। তিনি নিজের নাম রেখেছেন 'সালাম', আর আমার উম্মতের নাম রেখেছেন 'মুসলিম'; আবার তিনি নিজের নাম রেখেছেন 'মুমিন', আর আমার উম্মতের নাম রেখেছেন 'মুমিন'। আর তোমরা একটি দিন চেয়েছিলে; আল্লাহ তা'আলা তা আমাদের জন্য রেখেছেন। অর্থাৎ, জুম'আর দিন। আজ আমাদের; কাল তোমাদের এবং পরশু নাসারাদের। তোমরা আমাদের আগে এসেছ। আমরা তোমাদের পরে এসে আখেরাতে আগে যাব। আমি জান্নাতে যাওয়ার আগে অন্য কোনো নবী জান্নাতে যেতে পারবে না। আর আমার উম্মত জান্নাতে যাওয়ার আগে অন্য কোনো উম্মত জান্নাতে যেতে পারবে না।
টিকাঃ
৪১২. বুখারী: হাদীস-৩৩৫, মুসলিম হাদীস-৫২১, তিরমিযী: হাদীস-১৫৫৫, ইবনে মাজাহ: হাদীস- ৫৬৭, হাদীসের মান: সহীহ।
📄 এই উম্মতের সম্মান
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَكْرَمَ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ كَمَا أَكْرَمَ بِهَا أَنْبِيَاءَهُ: أَحَدُهَا أَنَّهُ جَعَلَ كُلَّ نَبِيَّ شَاهِدًا عَلَى قَوْمِهِ، وَجَعَلَ هَذِهِ الْأُمَّةَ شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ لِلرُّسُلِ : يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا (المؤمنون : ٥١) وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ (البقرة : ٥٧) وَقَالَ لِكُلِّ نَبِيَّ دَعْوَةً مُسْتَجَابَةٌ، وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ : ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ (غافر : ٦٠)
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতকে নবীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন—
১. প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মতের ওপর সাক্ষী হবেন; আর এই উম্মত সকল মানুষের ওপর সাক্ষী হবে।
২. রাসূলদের জন্য আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন— 'হে রাসূলগণ! পবিত্র খাবার গ্রহণ কর এবং সৎকর্ম কর।' তদ্রূপ এই উম্মতের জন্য বলেছেন— 'আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, সেখান থেকে হালাল খাবার গ্রহণ কর।'
৩. প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ দোয়া কবুল হয়। আর এই উম্মতকে বলা হয়েছে— 'তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর; আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব।'
কেউ কেউ বলেন, এই উম্মতকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে। যথা—
১. আন্নাহু খালাক্বাহুম দুআফাআ হাত্তা লা ইয়াতাকাব্বারু—অর্থাৎ, এই উম্মতকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তাদের মধ্যে অহংকার না আসে।
২. খালাক্বাহুম সিগারান ফী আনফুসিহিম হাত্তা তাকুনা মাউনাতুত ত্বাআমি ওয়াশ শারাবি ওয়াত তিয়াবি আলাইহিম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদেরকে দৈহিকভাবে আগেকার উম্মত থেকে ছোট করা হয়েছে, যেন পানাহার ও পোশাক-আশাকের বোঝা বহন করতে না হয়।
৩. জায়ালা উমুরাহুম কাসীরান হাত্তা তাকুনা যুনুবুহুম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের আয়ু কম রাখা হয়েছে, যেন গুনাহ কম হয়।
৪. জায়ালাহুম ফুকারাআ হাত্তা ইয়াকুনা হিসাবুহুম ফিল আখিরাতি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের দরিদ্র বানানো হয়েছে, যেন পরকালের হিসাব সহজ হয়;
৫. জায়ালাহুম আখিরাল উমামি হাত্তা ইয়াকুনা বাক্বাউহুম ফিল ক্বাবরি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, সর্বশেষ উম্মত বানানো হয়েছে, যেন কবরে কম থাকতে হয়।
বর্ণিত আছে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম বলেছিলেন, উম্মতে মুহাম্মদীকে চারটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা আমাকে দেওয়া হয়নি। যথা—
১. আমার তাওবা মক্কায় কবুল হয়েছে। আর এদের তাওবা যেখানেই হোক, তা কবুল হয়।
২. গোনাহ করার কারণে আমার পরিহিত পোশাক খুলে নেওয়া হয়েছে; আর এরা যদি উলঙ্গ অবস্থায়ও গুনাহ করে, এদের পাপ আল্লাহ তা'আলা পর্দার আড়ালে রাখেন।
৩. আমার পাপের কারণে আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। আর এরা গুনাহ করা সত্ত্বেও তাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা হতে হয় না।
৪. জান্নাতে পাপ করার কারণে আমাকে সেখান থেকে বের হতে হয়েছে। আর তারা পাপ করার পর তাওবা করলে জান্নাতে যেতে পারবে।
📄 নবীজীর দরবারে ইয়াহুদির দল
عَنْ عَلَيَّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : بَيْنَمَا النَّبِيُّ ﷺ جَالِسٌ مَعَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ إِذْ أَقْبَلَ إِلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالُوا : يَا مُحَمَّدُ إِنَّا نَسْأَلُكَ عَنْ كَلِمَاتٍ أَعْطَاهُنَّ اللَّهُ تَعَالَى لِمُوسَى بْنِ عِمْرَانَ، لَا يُعْطِيهَا إِلَّا نَبِيًّا مُرْسَلًا أَوْ مَلَكًا مُقَرَّبًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : سَلُوا، فَقَالُوا : يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنَا عَنْ هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ الَّتِي افْتَرَضَهَا اللَّهُ عَلَى أُمَّتِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَّا صَلَاةُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ يُسَبِّحُ كُلُّ شَيْءٍ لِرَبِّهِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَصْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي أَكَلَ فِيهَا آدَمُ، عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنَ الشَّجَرَةِ وَأَمَّا صَلَاةُ الْمَغْرِبِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تَابَ اللهُ عَلَى آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيهَا، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ مُحْتَسِبًا، ثُمَّ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَتْمَةِ فَإِنَّهَا الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّاهَا الْمُرْسَلُونَ قَبْلِي، وَأَمَّا صَلَاةُ الْفَجْرِ فَإِنَّ الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ، وَيَسْجُدُ لَهَا كُلُّ كَافِرٍ مِنْ دُونِ اللَّهِ. قَالُوا لَهُ : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَمَا ثَوَابُ مَنْ صَلَّى؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَّا صَلَاةُ الظُّهْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تُسَخَّرُ فِيهَا جَهَنَّمُ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ لَفَحَاتِ جَهَنَّمَ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَصْرِ فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي أَكَلَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِيهَا مِنَ الشَّجَرَةِ فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَّا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ. ثُمَّ تَلَا قَوْلَهُ تَعَالَى : حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى ( البقرة : ٢٣٨) وَأَمَّا صَلَاةُ الْمَغْرِبِ، فَإِنَّهَا السَّاعَةُ الَّتِي تَابَ اللهُ فِيهَا عَلَى آدَمَ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ مُحْتَسِبًا، ثُمَّ يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْعَتْمَةِ، فَإِنَّ الْقَبْرَ ظُلْمَةٌ، وَيَوْমَ الْقِيَامَةِ ظُلْمَةٌ، فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ مَشَى فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ إِلَى صَلَاةِ الْعَتْمَةِ إِلَّا حَرَّমَ اللهُ عَلَيْهِ وَقُودَ النَّارِ، وَيُعْطَى نُورًا يُجَوِّزُهُ عَلَى الصِّرَاطِ، وَأَمَّا صَلَاةُ الْفَجْرِ فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ يُصَلِّي الْفَجْرَ أَرْبَعِينَ يَوْমًا فِي الْجَمَاعَةِ إِلَّا أَع্টাহু اللَّهُ بَرَاءَتَيْنِ : بَرَاءَةً مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةً مِنَ التَّفَاقِ. قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، وَلِمَ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى أُمَّتِكَ الصَّوْمَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا؟ قَالَ : إِنَّ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا أَكَلَ مِنَ الشَّجَرَةِ بَقِيَ فِي بَطْنِهِ مِقْدَارَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا، فَافْتَرَضَ اللهُ عَلَى ذُرِّيَتِهِ الْجُوعَ ثَلَاثِينَ يَوْমًا، وَيَأْكُلُونَ بِاللَّيْلِ تَفَضُّلًا مِنَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى خَلْقِهِ. قَالُوا: صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَأَخْبِرْنَا مَا ثَوَابُ صِيَامٍ أُمَّتِكَ؟ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يَوْمًا مُحْتَسِبًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ تَعَالَى سَبْعَ خِصَالٍ، يُذَوِّبُ اللَّحْمَ الْحَرَامَ مِنْ جَسَدِهِ، وَيُقَرِّبُهُ مِنْ رَحْمَتِهِ، وَيُعْطِيهِ خَيْرَ الْأَعْمَالِ، وَيُؤْمِنُهُ مِنَ الْجُوعِ، وَالْعَطَشِ، وَيُهَوِّنُ عَلَيْهِ عَذَابَ الْقَبْرِ، وَيُعْطِيهِ اللهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُجَاوِزَ بِهِ الصِّرَاطَ، وَيُعْطِيهِ الْكَرَامَاتِ فِي الْجَنَّةِ. قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، فَأَخْبِرْنَا مَا فَضْلُكَ عَلَى النَّبِيِّينَ؟ قَالَ: فَمَا مِنْ نَبِيَّ إِلَّا دَعَا عَلَى قَوْمِهِ بِالْهَلَاكِ، وَأَنَا ادَّخَرْتُ دَعْوَتِي لِأُمَّتِي يَعْنِي الشَّفَاعَةَ، قَالُوا : صَدَقْتَ يَا مُحَمَّدُ، نَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, হুজুর ﷺ-এর দরবারে মুহাজির ও আনসাররা বসা ছিলেন। এই সময় ইয়াহুদিদের একটি দল এল। বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা আপনাকে কয়েকটি কথা জিজ্ঞাসা করব, যা আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আলাইহিস্ সালামকে দান করেছিলেন। সেগুলো কোনো নবী বা ফেরেশতা ব্যতীত আর কেউ জানে না। নবীজী বললেন, জিজ্ঞাসা কর! তারা বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তা'আলা আপনার উম্মতের ওপর যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন, সে সম্বন্ধে কিছু বলুন! তিনি বললেন—
যোহরের নামায পড়া হলো সূর্য ঢলে যাওয়ার পর। এই সময় প্রত্যেক বস্তুই আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে। আর আসরের নামায এ কারণে পড়া হয় যে, এই সময় হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছিলেন। আর মাগরিবের সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর তাওবা কবুল করেছিলেন। কাজেই যে মুমিন সওয়াবের নিয়তে এই নামায আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা'আলা তার দোয়া কবুল করেন। আর ইশার নামায ফরয হওয়ার কারণ হলো, এই সময় আগেকার নবীরা নামায পড়তেন। আর ফজরের নামায এ কারণে পড়া হয় যে, সূর্য শয়তানের দু'শিংয়ের মাঝখানে উদিত হয়। আর সে সময় কাফেররা শয়তানের পূজা করে।
ইয়াহুদিরা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। এখন বলুন! এই সব নামায আদায় করলে কী সওয়াব পাওয়া যাবে? তিনি বললেন—
যোহরের নামাযের সময়ে জাহান্নামের আগুন উস্কে দেওয়া হয়। তাই যে মুমিন ব্যক্তি এই নামায আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর জাহান্নামের আগুনের শিখা হারাম করে দিবেন। আর আসরের সময় আদম আলাইহিস্ সালাম জান্নাতের নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন। তাই যে ব্যক্তি এই নামায আদায় করবে, সে তার জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে। এ কথা বলে তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন— 'হাফিযূ আলাস সালাওয়াতি ওয়াস সালাতিল উসতা'। আর মাগরিবের সময় আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস্ সালামের তাওবা কবুল করেছিলেন। তাই যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়তে এই নামায আদায় করবে, এবং এরপর আল্লাহ তা'আলার নিকট কিছু চাইবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রার্থনা অবশ্যই কবুল করবেন। আর ইশার নামায পড়া হয় রাতের অন্ধকারে। কবরও অন্ধকার; কিয়ামতের দিনও অন্ধকার। তাই যে ব্যক্তি অন্ধকার রাতে হেঁটে ইশার নামায পড়তে যায়, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন এবং তাঁকে নূর দান করেন, যেটার আলোয় সে পুলসিরাত পেরিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায চল্লিশ দিন জামাআতের সাথে আদায় করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে দুটি মুক্তিসনদ দেবেন: একটি হলো জাহান্নাম হতে মুক্তির সনদ; আরেকটি হলো নিফাক হতে মুক্তির সনদ।
তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন। এখন বলুন, আপনার উম্মতের রোযার সওয়াব কী? তিনি বললেন, যে বান্দা সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সাতটি দয়া করেন: তাঁর দেহ থেকে হারাম গোশত গলে যায়। আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী হয়। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ভালো আমল করার তাওফিক দান করেন। ক্ষুৎপিপাসা হতে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে নিরাপত্তা দান করেন। কবরের আযাব থেকে তাঁকে মুক্তি দান করেন। তাঁকে এমন একটি নুর দান করবেন, যা দিয়ে সে পুলসিরাত পেরিয়ে যাবে। আর তাকে জান্নাতে সম্মানিত করবেন।
তারা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। এখন বলুন, অন্য সব নবীর ওপর আপনার কী মর্যাদা রয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক নবীই তার উম্মতের জন্য বদদোয়া করেছেন। কিন্তু আমি আমার দোয়া উম্মতের জন্য জমা করে রেখেছি। অর্থাৎ, আল্লাহর নিকট সুপারিশ। তারা বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আর আপনি আল্লাহর রাসূল।