📄 মেরাজের রাতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান
عَنْ مُقَاتِلُ بْنِ حِبَّانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : لَمَّا أُسْرِيَ بِي إِلَى السَّمَاءِ انْطَلَقَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، حَتَّى انْتَهَى بِي إِلَى الْحِجَابِ الْأَكْبَرِ، عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى. قَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : تَقَدَّمْ يَا مُحَمَّدُ، قُلْتُ : يَا جِبْرِيلُ لَا بَلْ تَقَدَّمْ أَنْتَ. قَالَ : يَا مُحَمَّدُ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ غَيْرِكَ أَنْ يُجَاوِزَ هُذَا الْمَكَانَ، وَأَنْتَ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ مِنِّي. قَالَ : فَتَقَدَّمْتُ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى سَرِيرٍ مِنْ ذَهَبٍ وَعَلَيْهِ فِرَاشُ مِنْ حَرِيرِ الْجَنَّةِ، فَنَادَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنْ خَلْفِي يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللهَ تَعَالَى يُثْنِي عَلَيْكَ، فَاسْمَعْ وَأَطِعْ وَلَا يَهُولَنَّكَ كَلَامُهُ. فَبَدَأْتُ بِالثَّنَاءِ عَلَى اللهِ تَعَالَى فَقُلْتُ : التَّحِيَّاتُ اللهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ. فَقُلْتُ : السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ. وَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. قَالَ اللهُ تَعَالَى : آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ (البقرة : ٢٨٥) فَقُلْتُ : بَلَى يَا رَبُّ آمَنْتُ بِكَ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ (البقرة : ٢٨٥) كَمَا فَرَّقَتِ الْيَهُودُ بَيْنَ مُوسَى وَعِيسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ وَفَفَرَّقَتِ النَّصَارَى بَيْنَهُمَا قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : لا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا (البقرة : ٢٨٦) يَعْنِي إِلَّا طَاقَتَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ (البقرة : ٢٨٦) يَعْنِي لَهَا ثَوَابُ مَا كَسَبَتْ مِنَ الْخَيْرِ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ (البقرة : ٢٨٦) مِنَ الشَّرِّ . ثُمَّ قَالَ: سَلْ تُعْطَ فَقُلْتُ: غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (البقرة : ٢٨٥) يَعْنِي اغْفِرْ ذُنُوبَنَا فَإِنَّا مَرْجِعَنَا إِلَيْكَ يَوْমَ الْقِيَامَةِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : قَدْ غَفَرْتُ لَكَ وَلِأُمَّتِكَ مَنْ وَحَدَنِي، وَصَدَّقَ بِكَ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ سَلْ تُعْطَ فَقُلْتُ : رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا (البقرة : ٢٨٦) قَالَ اللهُ تَعَالَى: لَكَ ذُلِكَ لَا أُؤَاخِذُكُمْ بِمَا نَسِيتُمْ أَوْ أَخْطَأْتُمْ أَوْ بِمَا اسْتُكْرِهْتُمْ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: سَلْ تُعْطَ فَقُلْتُ : رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا (البقرة : ٢٨٦) وَ ذلِكَ لِأَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا أَخْطَنُوا خَطِيئَةً حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ بِذَلِكَ أَطْيَبَ الطَّعَامَ، كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالَى : فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ (النساء : ١٦٠) قَالَ اللهُ تَعَالَى : لَكَ ذَلِكَ، سَلْ تُعْطَ، فَقُلْتُ : رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ (البقرة : ٢٨٦) فَإِنَّ أُمَّتِي هُمُ الضُّعَفَاءُ . قَالَ اللهُ تَعَالَى : لَكَ ذَلِكَ سَلْ تُعْطَ فَقُلْتُ : وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ (البقرة: ٢٨٦) قَالَ : لَكَ ذُلِكَ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ.
হযরত মুকাতিল বিন হান্নান রহ. বর্ণনা করেন, নবীজী ইরশাদ করেছেন, আমাকে যখন আসমানে ভ্রমণ করানো হলো, তখন সাথে জিবরাঈল আলাইহিস সালামও ছিলেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকট পৌঁছলে জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম বললেন, হে মুহাম্মদ! সামনে অগ্রসর হোন। আমি বললাম, বরং আপনি আগে চলুন! তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! এর আগে যাওয়া আপনি ছাড়া আর কারো জন্য শোভাবর্ধন করে না। আল্লাহর দরবারে আপনার মর্যাদা আমার থেকে অনেক বেশি। সামনে অগ্রসর হয়ে আমি স্বর্ণের একটি পালঙ্কের নিকট পৌঁছলাম। সেটার ওপর জান্নাতের রেশমি বিছানা বিছানো ছিল। জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম আমাকে পিছন থেকে আওয়াজ দিয়ে বললেন, হে মুহাম্মদ! আল্লাহর পক্ষ হতে আপনার প্রশংসা বর্ণনা করা হচ্ছে। আপনি সে দিকে মনোযোগী হোন এবং হুকুমের অপেক্ষায় থাকুন। আর আল্লাহর কালাম শুনে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না। নবীজী বলেন, আমি আল্লাহর প্রশংসা করে বললাম— 'আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্তায়্যিবাতু' (সকল বাচনিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহরই জন্য)। আল্লাহ তা'আলা বললেন— 'আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু' (হে নবী! আপনার ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত নাযিল হোক)। আমি বললাম— 'আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সলিহীন' (শান্তি আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের ওপর নাযিল হোক)। জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম বললেন— 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসুলুহু' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল)। আল্লাহর পক্ষ থেকে ইরশাদ হলো— 'আমানার রাসূলু বিমাউনযিলা ইলাইহি মির রব্বিহি' (রাসূল বিশ্বাস রাখে ওই সব বিষয়ের ওপর, যেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়)। আমি আরজ করলাম, হ্যাঁ, প্রভু! আমি আপনার ওপর ঈমান এনেছি। 'ওয়াল মুমিনুনা কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহি' (আর মুমিনরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলদের ওপর। আর রাসূলদের মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য করি না)। যেমনটা ইয়াহুদিরা এবং নাসারারা মূসা আলাইহিস্ সালাম এবং ঈসা আলাইহিস সালামের মধ্যে করেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন— 'লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত' (আল্লাহ তা'আলা কাউকে সাধ্যের বাইরে কোনো কাজের ভার দেন না। সে যে নেককাজ করে, তার সওয়াব সে পাবে; আর বদকাজ করলে সেটার গুনাহ তার ওপর বর্তায়)। এরপর ইরশাদ হলো, প্রার্থনা কর, তোমাকে দেওয়া হবে। তখন আমি আরজ করলাম— 'গুফরানাকা রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর' (আমাদের গুনাহ ক্ষমা কর; আমরা তোমারই নিকট যাব)। তখন ইরশাদ হলো, আমি তোমাকে এবং তোমার উম্মতকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আর যারা আমার একত্বে বিশ্বাস রাখে এবং তোমাকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। এরপর ইরশাদ হলো, তুমি প্রার্থনা কর; তোমার প্রার্থনা পূরণ করা হবে। তখন আমি বললাম— 'রব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখতানা' (হে প্রভু! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করে বসি, তাহলে আমাদের শাস্তি দিয়ো না)। ইরশাদ হলো, তোমার প্রার্থনা কবুল করা হলো। তোমরা যদি ভুলে যাও বা ভুল করে ফেল, বা কোনো কাজে তোমাদের বাধ্য করা হয়, তাহলে আমি তোমাদের শাস্তি দেব না। এরপর আবার ইরশাদ হলো, তুমি প্রার্থনা কর; তোমার প্রার্থনা পূরণ করা হবে। তখন আমি বললাম— 'রব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন ক্বাবলিনা' (হে প্রভু! আমাদের ওপর এমন কঠিন দায়িত্ব দিয়ো না, যেমনটা দিয়েছ পূর্ববর্তীদের ওপর)। যেমন বনী ইসরাইল যদি কোনো পাপ করত, আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর ভালো কোনো খাবার হারাম করে দিতেন। যেমন বলা হয়েছে— 'ফাবিযুলমিম মিনাল্লাযিনা হাদূ হাররামনা আলাইহিম তাইয়্যিবাাতিন উহিল্লাত লাহুম' (ইয়াহুদিদের পাপের পরিণতিতে অনেক হালাল খাবার আমি তাদের ওপর হারাম করে দিয়েছি)। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হলো। এরপর ইরশাদ হলো, প্রার্থনা কর; তোমার প্রার্থনা কবুল করা হবে। আমি আরজ করলাম— 'রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাক্বাতা লানা বিহি' (হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে এমন কাজের দায়িত্ব দিয়ো না, যা করার শক্তি আমাদের নেই)। কারণ, আমার উম্মতরা দুর্বল। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হলো। তুমি আরও প্রার্থনা কর, মঞ্জুর করা হবে। তখন আমি বললাম— 'ওয়া'ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন' (আর তুমি আমাদের পাপ মোচন করে দাও, ক্ষমা কর, দয়া কর। তুমি আমাদের প্রভু। তাই কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর)। ইরশাদ হলো, এটাও মঞ্জুর করা হলো। তোমাদের মধ্য থেকে ধৈর্যশীল বিশজন হলে তারা দু'শ-র ওপর বিজয়ী হবে।
📄 নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য পাঁচটি বৈশিষ্ট্য
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي، أُرِسِلْتُ إِلَى الْأَحْمَرَ وَالْأَسْوَدَ، وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَأُحِلَّ لِي الْمَغْنَمُ وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ فَادَّخَرْتُهَا لِأُمَّتِي.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেছেন, আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দেওয়া হয়েছে, যা কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। যথা— ১. আমি লাল-কালো তথা সবার জন্য প্রেরিত হয়েছি; ২. যমীনকে আমার জন্য পবিত্রকারী ও সেজদার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে; [এর আগে তায়াম্মুমও জায়েয ছিল না; তদ্রূপ সবখানে ইবাদত করাও জায়েয ছিল না।] ৩. এক মাসের পথের দূর থেকেই শত্রুদের ওপর আমার ভীতি সঞ্চারণ করা হয়; ৪. আমার জন্য যুদ্ধলব্ধ মাল হালাল করা হয়েছে; ৫. আমাকে বিশেষ সুপারিশের অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা আমি আমার উম্মতের জন্য হেফাজত করে রেখেছি।
টিকাঃ
৪১১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৫২১।
📄 হযরত উমর রাযি.-এর সাথে এক ইয়াহুদীর বিতর্ক
عَنِ الْفَقِيهِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، قَالَ : يُحْكَى أَنَّ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، كَانَ لَهُ عَلَى يَهُودِيٌّ حَقٌّ فَلَقِيَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: وَالَّذِي اصْطَفَى أَبَا الْقَاسِمِ عَلَى الْبَشَرِ لَا تُفَارِقْنِي وَأَنَا طَالِبُكَ بِشَيْءٍ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: مَا اصْطَفَى اللَّهُ أَبَا الْقَاسِمِ عَلَى الْبَشَرِ. فَرَفَعَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ يَدَهُ فَلَطَمَ خَدَّهُ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ : بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَبُو الْقَاسِمِ، النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْيَهُودِيُّ : إِنَّ عُمَرَ زَعَمَ أَنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكَ عَلَى الْبَشَرِ، وَإِنِّي زَعَمْتُ أَنَّ اللهَ لَمْ يَصْطَفِكَ عَلَى الْبَشَرِ، فَرَفَعَ يَدَهُ فَلَطَمَنِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَّا أَنْتَ يَا عُمَرُ فَأَرْضِهِ مِنْ لَطْمَتِكَ. ثُمَّ قَالَ : بَلَى يَا يَهُودِيُّ إِنَّ آدَمَ صَفِيُّ اللَّهِ، وَإِبْرَاهِيمَ خَلِيلُ اللهِ، وَ مُوسَى نَبِيُّ اللَّهِ، وَعِيسَى رُوحُ اللَّهِ، وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ اسْمَانِ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى : سَمَّى بِهِمَا أُمَّتِي، سَمَّى نَفْسَهُ السَّلَامَ، وَسَمَّى أُمَّتِي الْمُسْلِمِينَ، وَسَمَّى نَفْسَهُ الْمُؤْمِنَ، وَسَمَّى اللهُ أُمَّتِي الْمُؤْمِنِينَ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ طَلَبْتُ يَوْمًا أَدَّخِرُهُ لَنَا يَعْنِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْجَمْعَةِ. فَالْيَوْمُ لَنَا وَغَدًا لَكُمْ، وَبَعْدَ غَدٍ لِلنَّصَارَى، بَلَى يَا يَهُودِيُّ أَنْتُمُ الْأَوَّلُونَ وَنَحْنُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، بَلَى يَا يَهُودِيُّ إِنَّ الْجَنَّةَ لَمُحَرَّمَةٌ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ ، حَتَّى أَدْخُلَهَا أَنَا، وَإِنَّهَا لَمُحَرَّمَةٌ عَلَى الْأُمَمِ، حَتَّى تَدْخُلَهَا أُمَّتِي.
ফকীহ সমরকন্দী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘটনা বর্ণিত আছে, এক ইয়াহুদীর কাছে হযরত উমর রাযি.-এর কিছু পাওনা ছিল। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, সে সত্তার কসম, যিনি আবুল কাসেমকে সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন আমার পাওনা আদায় না করে তুমি এখান থেকে যেতে পারবে না। ইয়াহুদি বলল, আল্লাহ তা'আলা সবার ওপর আবুল কাসেমকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেননি। এ কথা শুনে হযরত উমর রাযি. হাত তুলে তাকে এক চড় কষলেন। ইয়াহুদি বলল, এটার বিচার আবুল কাসেমই করবেন। তারা দুজন নবীজী-এর নিকট এল। ইয়াহুদি বলল, উমর বলেছে, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর আমি বলেছি, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সকল মানুষের ওপর বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য দান করেননি। এতে উমর আমাকে চপেটাঘাত করেছে। নবীজী বললেন, উমর! তুমি একে যে চড় মেরেছ তার জন্য তাকে যেভাবে পারো, খুশি করে দাও। এরপর নবীজী বললেন, আরে ইয়াহুদি! কেন নয়? আদম আলাইহিস্ সালাম হলেন 'সফিউল্লাহ'; ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম হলেন 'খলিলুল্লাহ'; মূসা আলাইহিস্ সালাম হলেন 'নবীউল্লাহ'; ঈসা আলাইহিস্ সালাম হলেন 'রুহুল্লাহ' এবং আমি হলাম 'হাবিবুল্লাহ'। আর শোনো ইয়াহুদি! আল্লাহর দু'টি নাম দিয়ে আমার উম্মতের নাম রেখেছেন। তিনি নিজের নাম রেখেছেন 'সালাম', আর আমার উম্মতের নাম রেখেছেন 'মুসলিম'; আবার তিনি নিজের নাম রেখেছেন 'মুমিন', আর আমার উম্মতের নাম রেখেছেন 'মুমিন'। আর তোমরা একটি দিন চেয়েছিলে; আল্লাহ তা'আলা তা আমাদের জন্য রেখেছেন। অর্থাৎ, জুম'আর দিন। আজ আমাদের; কাল তোমাদের এবং পরশু নাসারাদের। তোমরা আমাদের আগে এসেছ। আমরা তোমাদের পরে এসে আখেরাতে আগে যাব। আমি জান্নাতে যাওয়ার আগে অন্য কোনো নবী জান্নাতে যেতে পারবে না। আর আমার উম্মত জান্নাতে যাওয়ার আগে অন্য কোনো উম্মত জান্নাতে যেতে পারবে না।
টিকাঃ
৪১২. বুখারী: হাদীস-৩৩৫, মুসলিম হাদীস-৫২১, তিরমিযী: হাদীস-১৫৫৫, ইবনে মাজাহ: হাদীস- ৫৬৭, হাদীসের মান: সহীহ।
📄 এই উম্মতের সম্মান
عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَكْرَمَ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ كَمَا أَكْرَمَ بِهَا أَنْبِيَاءَهُ: أَحَدُهَا أَنَّهُ جَعَلَ كُلَّ نَبِيَّ شَاهِدًا عَلَى قَوْمِهِ، وَجَعَلَ هَذِهِ الْأُمَّةَ شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ لِلرُّسُلِ : يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا (المؤمنون : ٥١) وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ (البقرة : ٥٧) وَقَالَ لِكُلِّ نَبِيَّ دَعْوَةً مُسْتَجَابَةٌ، وَقَالَ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ : ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ (غافر : ٦٠)
হযরত কা'ব আহবার রাযি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতকে নবীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন—
১. প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মতের ওপর সাক্ষী হবেন; আর এই উম্মত সকল মানুষের ওপর সাক্ষী হবে।
২. রাসূলদের জন্য আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন— 'হে রাসূলগণ! পবিত্র খাবার গ্রহণ কর এবং সৎকর্ম কর।' তদ্রূপ এই উম্মতের জন্য বলেছেন— 'আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, সেখান থেকে হালাল খাবার গ্রহণ কর।'
৩. প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ দোয়া কবুল হয়। আর এই উম্মতকে বলা হয়েছে— 'তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর; আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব।'
কেউ কেউ বলেন, এই উম্মতকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে। যথা—
১. আন্নাহু খালাক্বাহুম দুআফাআ হাত্তা লা ইয়াতাকাব্বারু—অর্থাৎ, এই উম্মতকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তাদের মধ্যে অহংকার না আসে।
২. খালাক্বাহুম সিগারান ফী আনফুসিহিম হাত্তা তাকুনা মাউনাতুত ত্বাআমি ওয়াশ শারাবি ওয়াত তিয়াবি আলাইহিম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদেরকে দৈহিকভাবে আগেকার উম্মত থেকে ছোট করা হয়েছে, যেন পানাহার ও পোশাক-আশাকের বোঝা বহন করতে না হয়।
৩. জায়ালা উমুরাহুম কাসীরান হাত্তা তাকুনা যুনুবুহুম আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের আয়ু কম রাখা হয়েছে, যেন গুনাহ কম হয়।
৪. জায়ালাহুম ফুকারাআ হাত্তা ইয়াকুনা হিসাবুহুম ফিল আখিরাতি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, এদের দরিদ্র বানানো হয়েছে, যেন পরকালের হিসাব সহজ হয়;
৫. জায়ালাহুম আখিরাল উমামি হাত্তা ইয়াকুনা বাক্বাউহুম ফিল ক্বাবরি আক্বাল্লা—অর্থাৎ, সর্বশেষ উম্মত বানানো হয়েছে, যেন কবরে কম থাকতে হয়।
বর্ণিত আছে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম বলেছিলেন, উম্মতে মুহাম্মদীকে চারটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা আমাকে দেওয়া হয়নি। যথা—
১. আমার তাওবা মক্কায় কবুল হয়েছে। আর এদের তাওবা যেখানেই হোক, তা কবুল হয়।
২. গোনাহ করার কারণে আমার পরিহিত পোশাক খুলে নেওয়া হয়েছে; আর এরা যদি উলঙ্গ অবস্থায়ও গুনাহ করে, এদের পাপ আল্লাহ তা'আলা পর্দার আড়ালে রাখেন।
৩. আমার পাপের কারণে আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। আর এরা গুনাহ করা সত্ত্বেও তাদের স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা হতে হয় না।
৪. জান্নাতে পাপ করার কারণে আমাকে সেখান থেকে বের হতে হয়েছে। আর তারা পাপ করার পর তাওবা করলে জান্নাতে যেতে পারবে।