📄 মুজাহিদদের জন্য দশটি লক্ষণীয় বিষয়
আওফ ইবনে মালিক রহ. বলেছেন, যে আল্লাহর পথের প্রকৃত মুজাহিদ হতে চায়, সে যেন অবশ্যই দশটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখে। যথা-
১. পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ব্যতীত জিহাদে না যাওয়া।
২. আল্লাহর আমানত তথা নামায, রোযা, হজ, যাকাত, কাফফারা ইত্যাদি যিম্মায় থাকলে তা আদায় করে নেওয়া। তেমনিভাবে মানুষের আমানত তথা জুলুম, গীবত, মিথ্যা অভিযোগ ইত্যাদি থাকলে তা পরিশোধ করে দেওয়া অথবা ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।
৩. পরিবার পরিজনের জন্য জিহাদ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করে যাওয়া।
৪. আর্থিক আয়ের উৎস হালাল হওয়া। কারণ, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র বিষয় ছাড়া কবুল করেন না।
৫. নেতার আনুগত্য করা, যদিও সে নগণ্য হাবশী গোলাম হয়।
৬. সাথী ভাইদের হক আদায় করা। সাক্ষাতের সময় হাস্যমুখে থাকা এবং তার চেয়ে বেশী ব্যয় করতে সচেষ্ট হওয়া। অসুস্থ হলে তার সেবা শুশ্রূষা করা এবং তার প্রয়োজন পূরণের চেষ্টা করা।
৭. কোনো মুসলমানকে বা প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ কাউকে কষ্ট না দেওয়া।
৮. রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন না করা।
৯. গনীমতের মালে খেয়ানত না করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ: আর যে ব্যক্তি গনীমতের মালে খেয়ানত করবে, সে কিয়ামত দিবসে তা নিয়ে উপস্থিত হবে।
১০. মুমিনের সাহায্য ও দীন রক্ষার জন্য জিহাদ করা।
টিকাঃ
৪০৯. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৬১
📄 যুদ্ধের সময় দশটি লক্ষণীয় বিষয়
বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালীন মুজাহিদের জন্য দশটি লক্ষণীয় বিষয়। যথা-
১. সিংহের ন্যায় সাহসী হওয়া, ভীরু না হওয়া।
২. চিতা বাঘের ন্যায় অহংকারী হওয়া। শত্রুর সম্মুখে বিনয়ী না হওয়া। শত্রুর সম্মুখে বিনয়ের প্রতিফল কেবল পরাজয়।
৩. ভাল্লুকের ন্যায় সাহসিকতা দেখানো, যে কিনা সর্বশরীর নিয়োগ করে যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
৪. শুকরের ন্যায় আক্রমণ করা এবং পিছিয়ে না যাওয়া।
৫. নেকড়ের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়া। একদিক দিয়ে নিরাশ হলে অন্য দিক দিয়ে পুনরায় ঝাঁপিয়ে পড়া।
৬. ভারী জিনিসসমূহ বহনে পিপীলিকার ভূমিকা রাখা। অর্থাৎ পিপীলিকা যেমন নিজের ওজনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভারি বস্তু বহন করে, ঠিক তেমনিভাবে মুজাহিদও নিজের ওজনের চেয়ে অনেকগুণ ভারি বস্তু বহন করবে।
৭. পাথরের ন্যায় অবিচল থাকা। নিজের অবস্থান থেকে চুল পরিমাণও টলে না যাওয়া।
৮. তীর ও তরবারির আঘাত সহ্য করার ক্ষেত্রে গাধার ন্যায় ধৈর্যশীল হওয়া।
৯. বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে কুকুরের ন্যায় হওয়া, যে কিনা মনিবের সাথে আগুনে ঢুকে পড়ে।
১০. মোরগের ন্যায় সুযোগের সন্ধানে থাকা। আর পরাজিত হলে শৃগালের ন্যায় পলায়ন করা।