📄 অভিজাতদের জন্য চারটি আমল কর্তব্য
عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ عَنْ النَّبِيِّ : مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ عِدْلُ مُحَرَّرٍ
আমর ইবনে আবাসা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি তীর নিক্ষেপ করবে সে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব পাবে।
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: سَتُفْتَحُ لَكُمُ الْأَرْضُ وَتَكْفُوْنَ الْمُؤْنَةَ، فَلَا يَعْجِزَنَّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَلْهُوَ بِأَسْهُمِهِ।
উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের হাতে বহু দেশ বিজিত হবে। তোমরা পর্যাপ্ত গনীমতের মালও পাবে। তাই তোমাদের কেউ যেন তার তীর নিয়ে খেলতে অক্ষম না হয়ে পড়ে।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ الْمِغْرَاضُ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، وَالرَّامِي عَلَى الْمِغْرَاضِ كَالرَّامِي عَلَى الْعَدُوِّ وَالَّذِي يَرُدُّ السَّهَامَ لَهُ بِكُلِّ قَدَمٍ عِتْقُ رَقَبَةٍ
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তীর চালনার প্রশিক্ষণের লক্ষ্যস্থল জান্নাতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান। লক্ষ্যস্থলে তীর নিক্ষেপ করা, শত্রুর উপর নিক্ষেপ করার সমতুল্য। আর যে তীর কুড়িয়ে এনে দেয়, সে প্রত্যেক পদক্ষেপে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব পায়।
হযরত উকবা বিন আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ মিম্বরে দাঁড়িয়ে এ আয়াত পাঠ করলেন- وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ শত্রুদের জন্য সাধ্যমতো শক্তি জোগাড় কর। অতঃপর বললেন, আয়াতে বর্ণিত শক্তি দ্বারা তিরন্দাযীই উদ্দেশ্যে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَرَكَ الرَّمْيَ بَعْدَمَا عُلَّمَهُ فَقَدْ تَرَكَ سُنَّةً
হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, তীর চালনা শেখার পর যে ভুলে যায়, সে একটি সুন্নত ছেড়ে দেয়। আরেক বর্ণনায় আছে সে একটি নিয়ামত ছেড়ে দেয়।
বলা হয়ে থাকে, কোনো অভিজাত ব্যক্তির জন্য এই চারটি কাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যদিও সে আমীর বা শাসনকর্তা হয়- এক. তার পিতা-মাতার সম্মানার্থে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া। দুই. তার নিজের মেহমানের খেদমত করা। তিন. নিজের ঘোড়ার দেখাশোনা করা। চার. যে শিক্ষক তাকে ইলম ও আদব শিক্ষা দিয়েছেন, তার খেদমত করা।
عن أنس بن مالك أنه قال : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : من شرف المرء بعد طلب العلم تعلم الرمي، فقلت يا رسول الله، ما ثواب تعلم الرمي؟ قال : يا أنস، من رمى بسهم يريد بذلك وجه الله وعز الإسلام، كان له بكل رمية جارية من حور العين، وبني له خيمة في الجنة من درة بيضاء، سعتها مدار الأرض، ومن رمى بسهم في سبيل الله زاده السهم حتى يجيء يوم القيامة وهو أثقل من جبل أحد.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'ব্যক্তির আভিজাত্যের পরিচায়ক হলো ইলমে দীন শেখার পর তীরন্দাযী শেখা।' তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তীরন্দাযী শেখার সওয়াব কী? তিনি বললেন, 'হে আনাস, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইসলামের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ করে, তার প্রতিটি তীর নিক্ষেপের বিনিময়ে তাকে হুরে ঈনদের মধ্য থেকে একটি করে হুর দেওয়া হবে এবং তার জন্য জান্নাতে সাদা মুক্তাদানা দিয়ে তৈরি তাঁবু নির্মাণ করা হবে, যার প্রশস্ততা হবে পুরো পৃথিবীর সমান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের ময়দানে) একটি তীর নিক্ষেপ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার সেই তীরকে (তীর নিক্ষেপের সওয়াবকে) বৃদ্ধি করবেন। এমনকি সে কিয়ামতের দিন সেটাকে উহুদ পাহাড়ের চেয়েও ভারী দেখতে পাবে!'
وَقَالَ: مَنْ تَعَلَّمَ الرَّمْيَ أَعْطَاهُ اللهُ ثَلَاثَةَ أَشْيَاءَ: اَلْحَشْرُ مَعَ الْمُجَاهِدِينَ، وَالْهَيْبَةُ، وَالسَّعَةُ فِي الرِّزْقِ. وَفِي الآخِرَةِ ثَلَاثَةَ أَشْيَاءَ اَلْحَشْرُ مَعَ الْمُجَاهِدِيْنَ، وَيَجُوزُ عَلَى الصِّرَاطِ كَالْبَرْقِ اللامِعِ، وَيَدْখُلُ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ.
তিনি আরো বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তীরন্দাযী শেখে, আল্লাহ তা'আলা তাকে তিনটি বস্তু দান করেন- এক. মুজাহিদদের সাহচর্য, দুই. প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তিন. জীবিকার প্রশস্ততা। আর আখেরাতেও তাকে তিনটি পুরস্কার দেওয়া হয়- এক. মুজাহিদদের সঙ্গে তার হাশর হয়, দুই. বিজলীর চমকের মতো পুলসিরাত পার হতে পারে, তিন. বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।'
টিকাঃ
৪০১. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৩৮; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৩১৪২; হাদীসটি সহীহ।
৪০২. সহীহ মুসলিম: ৩/১৯১৮; মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৫৭।
৪০৩. সূরা আনফাল: আয়াত-৬০
৪০৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯১৭; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২৫১৪।
৪০৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯১৯; শারহে মুশকিলিল আসার হাদীস-৮৫৪।
৪০৬. তারগীব: ২/১৭২; সহীহুল জামে, হাদীস-৬১৪২। সনদ সহীহ [আস-সায়্যিদ আল-আরাবী]
৪০৭. হাদীসটির সনদ পাওয়া যায়নি। [আস-সায়্যিদ আল-আরাবী]