📄 সর্বোত্তম সন্তুষ্টি
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ كَبَّرَ تَكْبِيرَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ كَصَخْرَةٍ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَثْقَلَ مِنَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَمَنْ فِيهِنَّ، وَمَنْ قَالَ فِي سَبِيلِ اللهِ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ رَافِعًا صَوْتَهُ بِهَا، كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ الْأَكْبَرَ، وَمَنْ يَكْتُبُ لَهُ رِضْوَانَهُ الْأَكْبَرَ جَمَعَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مُحَمَّدٍ، وَإِبْرَاهِيمَ وَسَائِرِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি তাকবীর বলবে, কিয়ামতের দিন উক্ত তাকবীর তার মীযানের পাল্লায় এমন পাথরের আকার ধারণ করবে, যা আসমান, জমিন ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে বেশি ভারী হবে। আর যে আল্লাহর পথে উচ্চস্বরে লা'ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার বলবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য মহান সন্তুষ্টি লিখে দিবেন, তাকে মুহাম্মদ, ইবরাহীম আ. ও সকল নবীর সাথে রাখা হবে।
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মহান সন্তুষ্টি এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ বলেন, তা দ্বারা আল্লাহ তা'আলার দর্শনলাভ উদ্দেশ্য। আবার কেউ বলেন, তা দ্বারা আল্লাহর এমন সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য, যার পর তিনি বান্দার প্রতি কোনো দিন অসন্তুষ্ট হবেন না।
টিকাঃ
৩৯৩. হাদীসটি জাল। ইমাম আবু হাতেম রহ. বলেন, হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই [মাওযুয়াতে ইবনুল জাওযী: ২/২১৮; আল-কামেল লি-ইবনে আদী: ৪/২২৭; আল-মাজরুহীন: ১/১৬৭]।
📄 মুজাহিদের মর্যাদা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ لِي أَنْ أُنْفِقَ مِنْ مَالِي حَتَّى أَبْلُغَ عَمَلَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ? قَالَ: وَمَا مَالُكَ? قَالَ : سِتَّةُ آلَافٍ. قَالَ: لَوْ تَصَدَّقْتَ بِهَا مَا كَانَ عَدْلَ نَوْمَةِ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি আমার সম্পদ দান করি, তাহলে কি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মর্যাদা লাভ করতে পারবো? রাসূল বললেন, তোমার সম্পদের পরিমাণ কী? লোকটি বলল, ছয় হাজার দিরহাম। রাসূল বললেন, তুমি যদি তার সবটুকুও দান করে দাও, তবুও তা আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের ঘুমের সমানও হবে না।
হযরত মুকাতিল রহ. তার পিতা থেকে প্রসিদ্ধ এ উক্তিটি বর্ণনা করেন- مَنْ حَلَقَ رَأْسَهُ فِي الرِّبَاطِ ثُمَّ دَفَنَهُ كَانَ لَهُ أَجْرُ الْمُرَابِطِ مَا دَامَ ذَلِكَ الشَّعْرُ مَدْفُونًا وَالشَّعْرُ لَا يَبْلَى। যে ব্যক্তি মুজাহিদদের পাহারারত অবস্থায় মাথা থেকে চুল মুণ্ডিয়ে তা মাটিতে পুতে রাখে, উক্ত চুল যতক্ষণ মাটিতে গোপন থাকবে, ততক্ষণ সে পাহারায় থাকার সওয়াব লাভ করতে থাকবে।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : دَخَلَ رَجُلٌ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فِي حَائِطٍ لَهُ فَأَعْتَقَ ثَلَاثِينَ رَقَبَةً، فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَتَعَجَّبُ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَفَلَا أُخْبِرُكَ بِعَمَلٍ أَفْضَلَ مِنْهُ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ : بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسِيرُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى دَابَّتِهِ وَسَوْطُهُ مُتَعَلَّقٌ فِي إِصْبَعِهِ إِذْ نَعَسَ نَعْسَةً فَسَقَطَ سَوْطُهُ، فَلَرَدْعَتُهُ بِسَوْطِهِ أَفْضَلُ مِمَّا رَأَيْتَنِي صَنَعْتُ।
উসমান ইবনে আতা রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেছেন, এক ব্যক্তি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাযি.-এর সাথে তাঁর বাগানে প্রবেশ করল। অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাযি. ত্রিশটি গোলাম আযাদ করে দিলেন। লোকটি তা দেখে বিস্মিত হলো। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাযি. বললেন, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম আমলের কথা বলব? লোকটি বলল, হ্যাঁ, বলুন। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাযি. বললেন, যখন কেউ তার বাহনজন্তুতে আরোহণ করে আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাকে আর তার আঙ্গুলে একটি চাবুক ঝুলানো থাকে, ইত্যবসরে তার তন্দ্রা আসে, ফলে তার চাবুকটি পড়ে যায়, তার চাবুকটি পড়ে যাওয়ার কারণে তার যে কষ্ট হয় সেটাও আমি যা দান করেছি তার চেয়ে অনেক বেশি।
টিকাঃ
৩৯৪. আল-কামেল লি-ইবনে আদী: ৯/১০৩; (প্রায় কাছাকাছি অর্থে)।
📄 সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يَبْعَثُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَقْوَامًا يَمُرُّونَ عَلَى الصِّرَاطِ كَهَيْئَةِ الرِّيحِ، لَيْسَ عَلَيْهِمْ حِسَابٌ وَلَا عَذَابٌ قَالُوا : وَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : أَقْوَامٌ يُدْرِكُهُمْ مَوْتُهُمْ فِي الرِّبَاطِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন এমন একদল লোককে উঠাবেন, যারা পুলসিরাতের উপর দিয়ে বাতাসের ন্যায় অতিক্রম করে যাবে। তাদের কোনো হিসাব-নিকাশ হবে না। সাহাবীগণ রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? রাসূল বললেন, যারা সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।
টিকাঃ
৩৯৫. কিতাবুল জিহাদ লি-ইবনে মুবারক হাদীস-১৮১।
📄 মৃত্যুর পরও প্রতিদান অব্যাহত থাকা
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : أَرْبَعَةٌ تُجْرَى عَلَيْهِمْ أُجُورُهُمْ بَعْدَ مَوْتِهِمْ : مَنْ مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَنْ مَاتَ وَعَلَّمَ عِلْمًا أُجْزِيَ لَهُ أَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهِ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ جَارِيَةٍ مِنْ مَالِهِ فَأَجْرُهَا يَجْرِي لَهُ مَا دَামَتِ الصَّدَقَةُ، وَرَجُلٌ تَرَكَ وَلَدًا صَالِحًا وَهُوَ يَدْعُو لَهُ.
হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. নবী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, চার প্রকারের লোকের সওয়াব তাদের মৃত্যুর পরও বন্ধ হয় না। ১. যে আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। ২. যে ইলমে দীন শিক্ষাদানরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। যারা তার ইলম অনুযায়ী আমল করবে, সে তাদের আমলের অনুরূপ সওয়াব পেতে থাকবে। ৩. যে তার সম্পদ থেকে দান করে। যতদিন পর্যন্ত তার সদকা থাকবে ততদিন পর্যন্ত সে তার সওয়াব পেতে থাকবে। ৪. যে নেক সন্তান রেখে যায় এবং সে সন্তান তার জন্য দোয়া করে, উক্ত ব্যক্তি তার সওয়াব পেতে থাকবে।
টিকাঃ
৩৯৬. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২২২৪৭, ২২৩১৮; জামে সগীর : হাদীস-৯২৭; হাদীসটি সহীহ [সহীহুল জামে: হাদীস-৮৭৭; শুয়াইব আরনাউত]।