📄 শহীদগণের মর্যাদা
কুরআনে এসেছে- فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ অর্থ: ফলে আকাশসমূহের ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে চান, তারা ব্যতীত।
হযরত সাঈদ বিন যুবায়ের রাযি. উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, 'আল্লাহ যাকে চান তারা ব্যতীত' এ অংশটি দ্বারা শহীদগণ উদ্দেশ্য, যারা গলায় তরবারী ঝুলিয়ে আরশের আশপাশেই অবস্থান করবেন।
عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ، قَالَ : إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَعْطَى الْمُجَاهِدِينَ ثَلَاثَ خِصَالٍ، مَنْ قُتِلَ مَنْهُمْ صَارَ حَيًّا مَرْزُوقًا، وَمَنْ غَلَبَ أَعْطَاهُ اللهُ أَجْرًا عَظِيمًا ، وَمَنْ عَاشَ يَرْزُقُهُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا.
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা শহীদদেরকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। যথা- ১. যে শাহাদাত বরণ করে, সে রিযিক ও হায়াত পেয়ে থাকে। ২. যে জয়ী হয়, তাকে বিশেষ প্রতিদান দান করা হয়। ৩. যে বেঁচে থাকে, তাকে উত্তম থেকে উত্তম রিযিক দান করেন।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ سَأَلَ اللهَ الشَّهَادَةَ فَمَاتَ كَانَ لَهُ أَجْرُ الشَّهِيدِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট শাহাদাত কামনা করে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন।
টিকাঃ
৩৮৬. সূরা যুমার: আয়াত-৬৮
৩৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৯
📄 শহীদগণ মরে না
আল্লাহ তা'আলা বলেন- بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ বরং তারা জীবিত, তাদের প্রভুর নিকট থেকে রিযিকপ্রাপ্ত। এ আয়াত সম্পর্কে ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, শহীদদের রূহ সবুজ পাখির পেটে থেকে জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা ভ্রমণ করে। অতঃপর আরশের নীচে এসে আশ্রয় নেয়।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوْقَ نَاقَةٍ فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ صَادِقًا، ثُمَّ مَاتَ، أَوْ قُتِلَ فَلَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ، وَمَنْ جُرِحَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ جُرْحًا، أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً، فَإِنَّهُ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَوْنُهُ كَالزَّعْفَرَانِ وَرِيحُهُ كَالْمِسْكِ.
হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি. বলেন, নবী করিম বলেন, যে ব্যক্তি সামান্য পরিমাণ সময় যুদ্ধ করে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায়। আর যে আন্তরিকভাবে আল্লাহর নিকট শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে স্বাভাবিক মরণের পরেও শহীদের সওয়াব দান করেন। আর যে আল্লাহর রাস্তায় জখম হয় বা আঘাত পায়, কিয়ামতের দিন সে এভাবে উঠবে যে, তার রং হবে জাফরানের এবং তার সুগন্ধি হবে মেশক আম্বরের।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : كُلُّ عَيْنٍ بَاكِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلَّا أَرْبَعَةَ أَعْيُنٍ: عَيْنٌ فُقِئَتْ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَعَيْنٌ فَاضَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ سَاهِرَةٌ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ، وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ سَرِيَّةٌ مِنْ وَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, চারটি চোখ ব্যতীত সকল চোখই কাঁদবে। যথা- ১. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় কাজ করে। ২. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। ৩. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে জাগ্রত থাকে। ৪. যে চোখ মুসলমান বাহিনীর হিফাজতে নিয়োজিত থাকে।
টিকাঃ
৩৮৮. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৬৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৮৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩০১৯
৩৮৯. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-২৫৪১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৫৭। হাদীসটি সহীহ।
৩৯০. সুনানে তিরিমিযী: হাদীস-১৬৩৯; মুসনাদে আহমাদ: ২৮/৪৪৫; হাদীসটি সহীহ।