📄 জনৈক হাবশীর ঘটনা
বর্ণিত আছে, জনৈক হাবশী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেমন, আপনি তা দেখছেন। আমার চেহারা কুশ্রী, আমার শরীর দুর্গন্ধময় এবং আমার বংশ মর্যাদা বলতে কিছুই নেই। আমি যদি যুদ্ধ করে নিহত হই, তাহলে আমি কোথায় থাকব? রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি জান্নাতে থাকবে। একথা শুনে লোকটি মুসলমান হয়ে গেল। সে বলল, আমার নিকট কিছু মেষ আছে, আমি তা কী করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, সেগুলো মদীনা অভিমুখে ছেড়ে দাও, তাদের মালিকের নিকট ফিরে যাবে। লোকটি তাই করল। এরপর যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। যুদ্ধের পর নবী করীম বললেন, তোমরা তোমাদের ভাইদের তালাশ কর। সাহাবীগণ তালাশ করলেন, তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে হাবশী লোকটি অমুক উপত্যকায় নিহত হয়ে পড়ে আছে। রাসূল তাঁদের সাথে সেখানে গেলেন। তাকে ঝুঁকে দেখে বললেন, আজ আল্লাহ তোমার চেহারাকে সুন্দর করেছেন, তোমার দুর্গন্ধ দূর করে সুগন্ধিময় করেছেন এবং তোমার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। তারপর রাসূল কেঁদে ফেললেন এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সাহাবীগণ তখন বললেন, আপনাকে দেখলাম, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন? রাসূলুল্লাহ বললেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তার আনতনয়না হুর স্ত্রীদের দেখলাম। তারা তার দিকে দৌড়ে আসছে। যার ফলে তাদের পায়ের নলা প্রকাশ পেয়ে গেছে।
টিকাঃ
৩৮৪. মুস্তাদরাকে হাকেম : ২/১০০; হাকেম, মুনযিরী, ইবনুল মুলাক্কিন ও আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আল-বারুল মুনীর : ৯/৯৭; আত-তারগীব : ২/২৮৫]।
📄 গাজীদের প্রকার
বলা হয়, গাজীগণ তিনভাগে বিভক্ত। যথা- ১. যারা মুজাহিদদের বাহনজন্তু চরায়। ২. যারা মুজাহিদদের সেবা করে। ৩. যারা সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
📄 শহীদের দুনিয়াতে আগমনের আকাঙ্ক্ষা
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : مَا مِنْ عَبْدٍ يَمُوتُ وَ لَهُ عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَإِنْ كَانَتْ لَهُ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. يَعْنِي لَا يَتَمَنَّى الرُّجُوعَ إِلَى الدُّنْيَا وَإِنْ أُعْطِيَ لَهُ جَمِيعُ الدُّنْيَا لِمَا يَخَافُ مِنْ هَوْلِ الْمَوْتِ. إِلَّا الشَّهِيدَ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ، فَإِذَا يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى.
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, মৃত্যুর পর যাদের পরিণতি ভালো হয়, শহীদ ছাড়া তাদের কেউ পুনরায় দুনিয়াতে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে না, যদিও তাকে গোটা দুনিয়া দেয়া হয়। কারণ, শহীদ এর ব্যতিক্রম। তাই সে দুনিয়ায় ফিরে এসে বারবার শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে।
টিকাঃ
৩৮৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-২৭৯৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৭৭।
📄 শহীদগণের মর্যাদা
কুরআনে এসেছে- فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ অর্থ: ফলে আকাশসমূহের ও জমিনের সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে চান, তারা ব্যতীত।
হযরত সাঈদ বিন যুবায়ের রাযি. উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, 'আল্লাহ যাকে চান তারা ব্যতীত' এ অংশটি দ্বারা শহীদগণ উদ্দেশ্য, যারা গলায় তরবারী ঝুলিয়ে আরশের আশপাশেই অবস্থান করবেন।
عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ، قَالَ : إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَعْطَى الْمُجَاهِدِينَ ثَلَاثَ خِصَالٍ، مَنْ قُتِلَ مَنْهُمْ صَارَ حَيًّا مَرْزُوقًا، وَمَنْ غَلَبَ أَعْطَاهُ اللهُ أَجْرًا عَظِيمًا ، وَمَنْ عَاشَ يَرْزُقُهُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا.
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা শহীদদেরকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। যথা- ১. যে শাহাদাত বরণ করে, সে রিযিক ও হায়াত পেয়ে থাকে। ২. যে জয়ী হয়, তাকে বিশেষ প্রতিদান দান করা হয়। ৩. যে বেঁচে থাকে, তাকে উত্তম থেকে উত্তম রিযিক দান করেন।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ سَأَلَ اللهَ الشَّهَادَةَ فَمَاتَ كَانَ لَهُ أَجْرُ الشَّهِيدِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট শাহাদাত কামনা করে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন।
টিকাঃ
৩৮৬. সূরা যুমার: আয়াত-৬৮
৩৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৯০৯