📄 জিহাদে সহায়তা প্রদান
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَعْطَى فَرَسًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَ لَهُ كَأَجْرِ مَنْ جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ، وَمَنْ أَعْطَى سَيْفًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ لَهُ لِسَانٌ يُنَادِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ : أَنَا سَيْفُ فُلَانٍ، لَمْ أَزَلْ أُجَاهِدُ لَهُ إِلَى يَوْمِي هُذَا، وَمَنْ أَعْطَى سَهْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ادَّخَرَ اللهُ لَهُ ذَلِكَ، وَيُرْبِيهِ حَتَّى يَجِيءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ، وَهُوَ أَعْظَمُ مِنْ جَبَلِ أُحُدٍ، وَمَنْ حَمَلَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ جَعَلَهُ اللهُ لَهُ عَلَمًا يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ أَعْطَى تُرْسًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، جَعَلَهُ اللَّهُ لَهُ جُنَّةً يَوْমَ الْقِيَامَةِ، يَعْنِي مِنَ النَّارِ، وَمَنْ طُعِنَ طَعْنَةً فِي سَبِيلِ اللهِ، جَعَلَهَا اللَّهُ لَهُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ نُورًا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَجَاءَتْ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَلَهَا رِيحٌ كَرِيحِ الْمِسْكِ يَجِدُهَا الْخَلَائِقُ، وَمَنْ سَقَى أَخَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى، سَقَاهُ اللهُ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ زَارَ أَخَاهُ فِي سَبِيلِ اللهِ، كَتَبَ اللهُ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ حَسَنَةً، وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً، وَمَنْ حَبَسَ فَرَسًا فِي سَبِيلِ اللهِ، كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ، وَرُفِعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَمَنْ حَرَسَ لَيْلَةً فِي سَبِيلِ اللهِ، أَمَّنَهُ اللهُ تَعَالَى مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, যে আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করবে, সে আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল ব্যয় করে জিহাদকারীর সমতুল্য সওয়াব পাবে। যে আল্লাহর পথে একটি তরবারী দান করবে, কিয়ামতের দিন সে তরবারীটি উপস্থিত হবে, এমতাবস্থায় যে, তার কথা বলার শক্তি থাকবে। সে ডেকে বলতে থাকবে, আমি অমুকের তরবারী, আজ পর্যন্ত আমি তার জন্য জিহাদ করেছি। যে আল্লাহর পথে একটি তীর দান করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য তা জমা করে রাখবেন এবং তাতে বৃদ্ধি করতে থাকবেন। কিয়ামতের দিন তা উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বিরাট আকার ধারণ করে সমস্ত মানুষের সামনে উপস্থিত হবে। যে আল্লাহর পথের কোনো মুজহিদকে কোনো বাহনে আরোহণ করাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন আলাদা মর্যাদা দান করবেন। যে আল্লাহর পথে একটি ঢাল দান করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষার জন্য একটি ঢাল দান করবেন। যে আল্লাহর পথে একটি জখম বরদাস্ত করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সে আঘাতকে উজ্জ্বল করে দিবেন এবং তা থেকে মেশক আম্বরের এমন সুগন্ধি-ঘ্রাণ আসতে থাকবে, যা সকল সৃষ্টিই অনুভব করবে। যে আল্লাহর রাস্তায় পানি পান করাবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন মোহরাঙ্কিত বিশুদ্ধ পানি পান করাবেন। যে আল্লাহর রাস্তায় তার কোনো ভাইকে দেখতে যাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব দান করবেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। যে একটি ঘোড়া লালন পালন করবেন, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য ঘোড়ার প্রতি লোমের পরিবর্তে একটি করে সওয়াব দান করবে, একটি দরজা বুলন্দ করবেন এবং একটি গুনাহ মাফ করে দিবেন। যে আল্লাহর পথে এক রাত্রি পাহারা দিবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামতের আতঙ্ক থেকে নিরাপদ রাখবেন।
📄 বাহিনীর পিছনে অবস্থান
অন্যত্র আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, যখন তুমি আল্লাহর পথে কোনো বাহিনীর সাথে থাকো, পিছনে পিছনে চল, তাদের দুর্বলদের সহায়তা কর, ভীতুদের নিরাপত্তা দান কর। তাহলে তুমি তাদের মতো সওয়াব পাবে এবং এর ফলে তাদের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।
📄 মুজাহিদ ও জান্নাতের হুর
জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, السُّيُوفُ مَفَاتِيحُ الْجَنَّةِ অর্থাৎ, তলোয়ার হলো জান্নাতের চাবি। তিনি আরও বলেন, وَإِذَا الْتَقَى الصَّفَانِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَزَيَّنَ الْحُورُ الْعِينُ فَأَظْلَمْنَ فَإِذَا أَقْبَلَ الرَّجُلُ قُلْنَ : اللَّهُمَّ أَبْصِرْهُ اللَّهُمَّ أَعِنْهُ، فَإِذَا أَدْبَرَ احْتَجَبْنَ عَنْهُ وَقُلْنَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، وَإِذَا قُتِلَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، بِأَوَّلِ قَطْرَةٍ تَخْرُجُ مِنْ دَمِهِ، كُلُّ ذَنْبٍ هُوَ لَهُ، وَيَنْزِلُ عَلَيْهِ اثْنَتَانِ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ تَمْسَحَانِ الْغُبَارَ عَنْ وَجْهِهِ মুজাহিদ যখন শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হয়, তখন আনতনয়না হুরগণ সজ্জিত হয়ে উঁকি মেরে মুজাহিদকে দেখতে থাকে। যখন কোনো মুজাহিদ সামনে অগ্রসর হয়, তখন বলে, হে আল্লাহ! তাকে সাহায্য কর, তার সাহায়ক হও। আর যখন পশ্চাতে ফিরে আসে, তখন লজ্জায় আত্মগোপন করে বলে, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর। আর যখন সে শহীদ হয়, তখন তার প্রথম রক্তের ফোঁটা ঝরার সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার নিকট দু'জন হুর এসে তার চেহারা থেকে ধুলো-বালি মুছে দেয়।
টিকাঃ
৩৮৩. মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-৬০৮৬; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৫/২৯৭; সিলসিলাহ সহীহাহ: হাদীস-২৬৭২]।
📄 জনৈক হাবশীর ঘটনা
বর্ণিত আছে, জনৈক হাবশী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেমন, আপনি তা দেখছেন। আমার চেহারা কুশ্রী, আমার শরীর দুর্গন্ধময় এবং আমার বংশ মর্যাদা বলতে কিছুই নেই। আমি যদি যুদ্ধ করে নিহত হই, তাহলে আমি কোথায় থাকব? রাসূলুল্লাহ বললেন, তুমি জান্নাতে থাকবে। একথা শুনে লোকটি মুসলমান হয়ে গেল। সে বলল, আমার নিকট কিছু মেষ আছে, আমি তা কী করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, সেগুলো মদীনা অভিমুখে ছেড়ে দাও, তাদের মালিকের নিকট ফিরে যাবে। লোকটি তাই করল। এরপর যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। যুদ্ধের পর নবী করীম বললেন, তোমরা তোমাদের ভাইদের তালাশ কর। সাহাবীগণ তালাশ করলেন, তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে হাবশী লোকটি অমুক উপত্যকায় নিহত হয়ে পড়ে আছে। রাসূল তাঁদের সাথে সেখানে গেলেন। তাকে ঝুঁকে দেখে বললেন, আজ আল্লাহ তোমার চেহারাকে সুন্দর করেছেন, তোমার দুর্গন্ধ দূর করে সুগন্ধিময় করেছেন এবং তোমার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। তারপর রাসূল কেঁদে ফেললেন এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সাহাবীগণ তখন বললেন, আপনাকে দেখলাম, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন? রাসূলুল্লাহ বললেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তার আনতনয়না হুর স্ত্রীদের দেখলাম। তারা তার দিকে দৌড়ে আসছে। যার ফলে তাদের পায়ের নলা প্রকাশ পেয়ে গেছে।
টিকাঃ
৩৮৪. মুস্তাদরাকে হাকেম : ২/১০০; হাকেম, মুনযিরী, ইবনুল মুলাক্কিন ও আলবানী প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আল-বারুল মুনীর : ৯/৯৭; আত-তারগীব : ২/২৮৫]।