📄 সর্বোত্তম জিহাদ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ : طِيبُ الْكَلَامِ، وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ. قِيلَ : وَأَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ يَدِهِ وَلِسَانِهِ. قِيلَ : فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : طُولُ الْقِيَامِ، وَالسَّمَاحَةُ ، قِيلَ : فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِقَ دَمُهُ، قِيلَ : فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : أَغْلَاهَا ثَمَنًا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওবায়েদ বিন উমায়ের রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ কে প্রশ্ন করা হলো, ইসলাম কী? তিনি বললেন, উত্তম কথা বলা, আহার দান করা এবং সালামের প্রচার-প্রসার করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুসলমান সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন নামায শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে যে নামায আদায় করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন সদকা উত্তম? তিনি বললেন, অসচ্ছল অবস্থার সদকা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ঈমান সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ধৈর্যধারণ করা এবং দানশীল হওয়া। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যে তার ঘোড়াসহ শহীদ হয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন দাস আযাদ করা সর্বোত্তম? তিনি বললেন, মূল্যবান দাস আযাদ করা সর্বোত্তম।
টিকাঃ
৩৭৮. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৪/১২২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২৫২৬; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত ও আলবানী]।
📄 যে চোখ কাঁদে না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ: لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي مِنْخَرَيْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করীম বলেন, আল্লাহর রাস্তার ধূলা-বালি ও জাহান্নামের ধোঁয়া কোনো মুসলিম বান্দার নাকে একত্রিত হবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : كُلُّ عَيْنٍ بَاكِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا ثَلَاثَ أَعْيُنٍ: عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ غَضَّتْ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ حَرَسَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করীম বলেন, কিয়ামতের দিন তিনটি চোখ ব্যতীত সকল চোখ কাঁদবে। যথা- ১. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কান্না করেছে। ২. যে চোখ আল্লাহ যার প্রতি দৃষ্টি প্রদান নিষিদ্ধ করেছেন, তা থেকে দৃষ্টিকে অবনমিত রেখেছে। ৩. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দিয়েছে এবং জাগ্রত থেকেছে।
টিকাঃ
৩৭৯. ত্ববারানী আওসাত: ২/১৬৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৩৩; মুসনাদে আহমাদ: ১৬/৩৩০; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।
৩৮০. মুসনাদে বায্যার হাদীস-৮৫৭০; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/১৬৩; কিতাবুল জিহাদ লি-ইবনে আবী আসেম: হাদীস-১৪৮।
📄 জান্নাত ও জাহান্নামে প্রথম প্রবেশকারী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : عُرِضَ عَلَى أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ مِنْ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، وَأَسَّوَلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ النَّارَ، فَأَمَّا أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، فَالشَّهِيدُ، وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوكُ، لَمْ يَشْغَلْهُ رِقُّ الدُّنْيَا عَنْ طَاعَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَفَقِيرٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيَالٍ، وَأَمَّا أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْখُلُونَ النَّارَ، فَأَمِيرٌ مُسَلَّطٌ، وَذُو ثَرْوَةٍ مِنْ مَالٍ لَا يُؤَدِّي حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى، مِنْ مَالِهِ، وَفَقِيرٌ فَخُورٌ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করিম বলেন, আমার নিকট আমার উম্মতের প্রথম তিন জান্নাতী ও প্রথম তিন জাহান্নামীকে পেশ করা হয়েছিল। প্রথম তিনজন জান্নাতী হলো- ১. শহীদ। ২. এমন দাস, পার্থিব দাসত্ব যাকে আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ রাখেনি। ৩. এমন দরিদ্র ব্যক্তি, যে পরিবার বিশিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কারো কাছে হাত পাতেনি। প্রথম তিন জাহান্নামী হলো- ১. প্রজাসাধারণের উপর অন্যায়ভাবে চেপে বসা শাসক। ২. সম্পদ ও বিত্তশালী ব্যক্তি, যে তার সম্পদ ও বিত্ত থেকে আল্লাহর হক আদায় করেনি। ৩. অহংকারী দরিদ্র।
টিকাঃ
৩৮১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৬৪২; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৯৪৯২; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৭৪৮১; মুনযিরী হাদীসটিকে সহীহ বললেও শায়েখ আরনাউত ও আলবানী সনদটিকে জয়ীফ বলেছেন [আত-তারগীব লি-মুনযিরী: ৩/১৯০]।
📄 সর্বোত্তম আমল
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا وَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ، وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى.
আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন, সময় মতো নামায আদায় করা, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
টিকাঃ
৩৮২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫২৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮৫।