📄 আল্লাহর রাস্তার ধূলির ফযীলত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ عَبْدٍ أَبَدًا، وَلَا يَجْتَمِعُ الشُّحُّ وَالْإِيمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدٍ أَبَدًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, আল্লাহর রাস্তার ধূলি ও জাহান্নামের ধোঁয়া কোনো বান্দার পেটে একত্রিত হয় না। আর কোনো বান্দার হৃদয়ে কৃপণতা ও ঈমান একত্রিত হয় না।
عَنِ الْحَسَنِ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : لَغَدْوَةٌ أَوْ رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنَ الْأَرْضِ وَمَنْ عَلَيْهَا، وَلَمَوْقِفُ الرَّجُلِ فِي الصَّفِّ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سَنَةً.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। নবী বলেন, আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল বা এক বিকাল কাটানো দুনিয়া ও দুনিয়ার সমুদয় সম্পদ থেকে উত্তম। আর জিহাদের সারিতে কারো অবস্থান করা ক্রমাগত ষাট বছর ইবাদতে অতিবাহিত করার চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
৩৭৪. সুননে তিরমিযী: হাদীস-১৬৩৩; সুনানে নাসায়ী হাদীস-৩১০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস- ২৭৭৪। হাদীসটি সহীহ।
৩৭৫. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪১৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৮৮১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৪৮; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৩৯৬।
📄 জিহাদের যাত্রায় বিলম্ব
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ فِي سَرِيَّةٍ فَوَافَقَ ذَلِكَ يَوْمَ الْجُمْعَةِ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ : أُصَلَّى الْجُمْعَةَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَلْحَقُ بِأَصْحَابِي وَقَدْ غَدَا أَصْحَابُهُ فَلَمَّا رَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ: مَا لَكَ لَمْ تَغْدُ مَعَ أَصْحَابِكَ؟ فَقَالَ: أَحْبَبْتُ أَنْ أُصَلِّي مَعَكَ الْجُمْعَةَ، ثُمَّ أَلْحَقُ بِأَصْحَابِي، فَقَالَ لَهُ : لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَدْرَكْتَ فَضْلَ غَدْوَتِهِمْ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাযি.কে এক যুদ্ধে পাঠালেন। সেদিন ছিল জুমুআর দিন। আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাযি.-এর ইচ্ছা ছিল নবী ﷺ-এর সঙ্গে জুমুআ আদায় করে তারপর সাথীদের সাথে গিয়ে মিলিত হবেন। অথচ তাঁর সাথীরা সকালেই রওয়ানা হয়ে চলে গিয়েছিল। তিনি নামাযে এলে নবী তাকে দেখে বললেন, তুমি তোমার সঙ্গীদের সাথে গেলে না কেন? আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রাযি. বললেন, আমার ইচ্ছে হলো, রাসূলের পিছনে জুমুআ আদায় করে তাদের সাথে মিলিত হবো। রাসূল বললেন, সকালে বের হয়ে তারা যে ফযীলত লাভ করেছে, তুমি পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করেও তা লাভ করতে পারবে না।
টিকাঃ
৩৭৬. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৫২৭; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১৯৬৬; হাদীসটি সহীহ [আরিযাতুল আহওয়াযী লি-ইবনুল আরাবী: ১/৫০৮]।
📄 সীমান্ত পাহারায় মৃত্যুবরণের ফযীলত
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: رِبَاطُ لَيْلَةٍ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ، خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ رَجُلٍ وَقِيَامِهِ فِي أَهْلِهِ شَهْرًا، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مُرَابِطًا أَجَارَهُ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ، وَأَمَّنَهُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ، وَأَجْرَى عَمَلَهُ كُلَّ يَوْমٍ وَلَيْلَةٍ، إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَزِيَارَةُ قَبْرِ الْمُرَابِطِ رِبَاطٌ إِلَى يَوْমِ الْقِيَامَةِ.
হযরত সালমান ফারসী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া পরিবার পরিজনের মাঝে থেকে মাসভর দিনে রোযা রাখা ও রাতে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে মুক্তি দিবেন, কিয়ামতের আতঙ্ক থেকে নিরাপদ রাখবেন। আর সীমান্ত পাহারায় নিহত ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার রাত-দিনের আমল জারি থাকবে।
টিকাঃ
৩৭৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৬৬৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৩৭২৭।
📄 সর্বোত্তম জিহাদ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ : طِيبُ الْكَلَامِ، وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ. قِيلَ : وَأَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ يَدِهِ وَلِسَانِهِ. قِيلَ : فَأَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : طُولُ الْقِيَامِ، وَالسَّمَاحَةُ ، قِيلَ : فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِقَ دَمُهُ، قِيلَ : فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : أَغْلَاهَا ثَمَنًا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওবায়েদ বিন উমায়ের রহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ কে প্রশ্ন করা হলো, ইসলাম কী? তিনি বললেন, উত্তম কথা বলা, আহার দান করা এবং সালামের প্রচার-প্রসার করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুসলমান সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যার হাত ও জবান থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন নামায শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে যে নামায আদায় করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন সদকা উত্তম? তিনি বললেন, অসচ্ছল অবস্থার সদকা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ঈমান সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ধৈর্যধারণ করা এবং দানশীল হওয়া। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যে তার ঘোড়াসহ শহীদ হয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন দাস আযাদ করা সর্বোত্তম? তিনি বললেন, মূল্যবান দাস আযাদ করা সর্বোত্তম।
টিকাঃ
৩৭৮. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২৪/১২২; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-২৫২৬; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত ও আলবানী]।