📄 হাজরে আসওয়াদ আল্লাহর আমীন
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: حَجَجْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فِي أَوَّلِ خِلَافَتِهِ، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى الْحَجَرِ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ، وَلَا تَنْفَعُ، وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ، فَقَالَ عَلَيَّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ : لَا تَقُلْ مِثْلَ هُذَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَإِنَّهُ يَضُرُّ وَيَنْفَعُ، بِإِذْنِ اللَّهِ تَعَالَى، وَلَوْلَا أَنَّكَ قَرَأْتَ الْقُرْآنَ وَعَلِمْتَ مَا فِيهِ مَا أَنْكَرْتُ عَلَيْكَ ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: يَا أَبَا الْحَسَنِ، وَمَا تَأْوِيلُهُ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ؟ قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى (الأعراف : ১৭২) فَلَمَّا أَقَرُّوا بِالْعُبُودِيَّةِ كَتَبَ إِقْرَارَهُمْ فِي رَقَّ ثُمَّ دَعَا هُذَا الْحَجَرَ فَأَلْقَمَهُ ذَلِكَ الرَّقَّ، فَهُوَ أَمِينُ اللهِ عَلَى هُذَا، يَشْهَدُ لِمَنْ وَافَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، قَالَ عُمَرُ : يَا أَبَا الْحَسَنِ لَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ مِنَ الْعِلْمِ غَيْرَ قَلِيلٍ.
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর খেলাফতের শুরুতে তাঁর সাথে হজে গমন করলাম। তিনি মসজিদে হারামে প্রবেশ করলেন এবং হাজরে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তুমি কেবল একটি পাথর। কোনো উপকার করতে পার না, কোনো অপকারও করতে পারো না। আমি যদি রাসূল-কে তোমায় চুমু খেতে না দেখতাম, তাহলে আমিও তোমাকে চুমু খেতাম না। তখন আলী রাযি. বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এমন বলবেন না। কারণ, সে আল্লাহর অনুমতিতে উপকার ও অপকার করতে পারে। যদি আপনি কুরআন না পাঠ করতেন এবং কুরআনের ইলম আপনার না থাকতো, তাহলে আপনার কথার প্রতিবাদ করতাম না। তখন উমর রাযি. তাঁকে বললেন, হে আবুল হাসান! কুরআনে বিষয়টি কিভাবে এসেছে? আলী রাযি. বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنফُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى. অর্থ: আর যখন আপনার প্রতিপালক বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং নিজেদের ক্ষেত্রে এর সাক্ষী বানালেন যে, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, কেন নয়! অবশ্যই। মানুষ যখন আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করল, তখন আল্লাহ তাদের অঙ্গীকারকে একটি নথিতে লিপিবদ্ধ করে নিলেন। অতঃপর এই পাথরটিকে আহ্বান করলেন। পাথর নথিটি তার লোকমা বানিয়ে নিলো এবং তা ভক্ষণ করে ফেলল। তাই এই পাথরটি যেন আল্লাহ পাকের আমীন। যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূরণ করবে কিয়ামতের দিন তার জন্য সে সাক্ষী হবে। উমর রাযি. তখন বললেন, হে আবুল হাসান! নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অনেক দান করেছেন।
টিকাঃ
৩৬৫. সূরা আল আরাফ ১৭২
৩৬৬. শুআবুল ঈমান হাদীস-৪০৪; মুসনাদে হাকেম ১/৪৫৭; হাদীসের প্রথম অংশ তথা উমর রা. এর পাথর চুমু খাওয়া ও কথা বলার ঘটনাটুকু সহীহ বুখারী (১৫৯৭) ও মুসলিমে (১২৭০) এসেছে। কিন্তু আলী রা. এর বক্তব্যটি সহীহ সনদে আসেনি। ইবনে হাজার আসকালানী ও যাহাবী এই সনদটিকে অত্যন্ত জয়ীফ বলেছেন। যা আলী রাযি. দিকে নিসবত করা উচিত নয় [ফাতহুল বারী: ২/১৪৯]।
📄 পদব্রজে হজ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ بَعْدَمَا كُفَّ بَصَرُهُ: مَا نَدِمْتُ عَلَى شَيْءٍ مِثْلَ مَا نَدِمْتُ عَلَى أَنْ لَا أَكُونَ حَجَجْتُ مَاشِيًا، لِأَنِّي سَمِعْتُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ : يَأْتُوكَ رجَالًا وَ عَلَى كُلِّ ضَامِرٍ (الحج : ২৭)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি অন্ধ হওয়ার পর প্রায়ই এ কথা বলতেন যে, পদব্রজে হজ্ব না করতে পেরে আমার যতটা লজ্জা হয়, অন্য কিছুতে আমার এতটা লজ্জা হয় না। কারণ, আমি আল্লাহ তা'আলাকে বলতে শুনেছি- يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ অর্থ: তারা পদব্রজে এবং প্রত্যেক শীর্ণকায় বাহনজন্তুতে চড়ে তোমার কাছে আসবে।
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, যদি রাস্তা নিকটবর্তী হয় তাহলে পদব্রজে হজ্ব করায় কোনো ক্ষতি নেই। বরং তা উত্তম। আর যদি রাস্তা দীর্ঘ হয়, তাহলে বাহনে চড়ে হজ্ব করা উত্তম। কারণ, দীর্ঘ পথ হেঁটে অতিক্রম করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এতে ক্লান্তি আসবে এবং হজের উদ্যমে ঘাঁতি দেখা দিবে। তবে পথ দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও যদি ক্লান্তি ও মানসিক শ্রান্তির কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে পদব্রজে হজ্ব করা উত্তম।
টিকাঃ
৩৬৭. সূরা হজ: আয়াত-২৭
📄 ফেরেশতাদের সাক্ষাৎ
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الْمَلَائِكَةَ يَتَلَقَّوْنَ الْحَاجَّ فَيُسَلِّمُونَ عَلَى أَصْحَابِ الْجِمَالِ وَيُصَافِحُونَ।
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, ফেরেশতারা হাজীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যারা উটে চড়ে আগমন করে, তাদেরকে সালাম প্রদান করেন। আর যারা গাধা ও খচ্চরে চড়ে আগমন করে, তাদের সাথে মুসাফাহা করেন এবং যারা পদব্রজে আগমন করে, তাদের সাথে কোলাকুলি করেন।
📄 আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ
عَنِ الضَّحَاكِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: أَيُّمَا مُسْلِمٍ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَاصِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَوَقَصَتْهُ دَابَّتُهُ قَبْلَ الْقِتَالِ، أَوْ لَدَغَتْهُ هَامَّةٌ، أَوْ مَاتَ بِأَيِّ حَتْفٍ، مَاتَ وَهُوَ شَهِيدٌ، وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ حَاجًا إِلَى بَيْتِ اللهِ الْحَرَامِ، ثُمَّ نَزَلَ بِهِ الْمَوْتُ قَبْلَ بُلُوغِهِ، أَوْجَبَ اللهُ لَهُ الْجَنَّةَ.
যাহ্হাক রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে মুসলমান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ইচ্ছায় ঘর থেকে বের হয়, কিন্তু লড়াইয়ের পূর্বেই বাহনজন্তুর আঘাতে মৃত্যুবরণ করে অথবা কোনো বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের কারণে মৃত্যুবরণ করে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে, সে শহীদ অবস্থায় মারা যায়। আর যে মুসলমান হজের ইচ্ছায় ঘর থেকে বের হয়, কিন্তু বাইতুল্লাহ পৌঁছার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেন।
টিকাঃ
৩৬৮. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২৪৯৯।