📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শয়তানের মাথায় মাটি

📄 শয়তানের মাথায় মাটি


عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ مِرْدَاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، دَعَا عَشِيَّةَ عَرَفَةَ لِأُمَّتِهِ بِالرَّحْمَةِ وَالْمَغْفِرَةِ فَأَكْثَرَ الدُّعَاءَ، فَأَجَابَهُ رَبُّهُ : بِأَنِّي قَدْ فَعَلْتُ إِلَّا ظُلْمَ بَعْضِهِمْ بَعْضًا. قَالَ: أَيْ رَبُّ إِنَّكَ قَادِرُ عَلَى أَنْ تُثِيبَ هُذَا الْمَظْلُومَ خَيْرًا مِنْ مَظْلَمَتِهِ لِهُذَا الظَّالِمِ. فَلَم્યુંجِبْهُ تِلْكَ الْعَشِيَّةَ، فَلَمَّا كَانَ غَدَاةُ الْمُزْدَلِفَةِ أَعَادَ الدُّعَاءَ فَأَجَابَهُ رَبُّهُ بِأَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، ثُمَّ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فَقَالَ بَعْضُ الصَّحَابَةِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَبَسَّمْتَ فِي سَاعَةٍ لَمْ تَكُنْ تَتَبَسَّمُ فِيهَا. قَالَ: تَبَسَّمْتُ لِأَنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ، لَمَّا عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ قَدِ اسْتَجَابَ لِي فِي أُمَّتِي أَهْوَى يَدْعُو بِالْوَيْلِ وَالقُبُورِ، وَيَحْلُو التَّرَابَ عَلَى رَأْسِهِ.

হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল আরাফার দিন বিকালে উম্মতের জন্য দীর্ঘক্ষণ মাগফেরাত ও রহমতের দোয়া করলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং জানিয়ে দিলেন যে, একে অপরের প্রতি জুলুমকারী ব্যতীত আমি সকলের গুনাহ ক্ষমা করলাম। রাসূল বললেন, হে রব! আপনি তো মজলুমকে জুলুমের তুলনায় উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন। আর জালেমকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ সেদিন বিকালে তা কবুল করলেন না। মুযদালিফার দিন সকালে তিনি পুনরায় একই দোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করলেন এবং বললেন, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। রাসূল তখন মৃদু হাসলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এ সময় হাসেন না অথচ আজ হাসলেন? রাসূল বললেন, আমার হাসার কারণ হলো, আল্লাহর শত্রু ইবলীস যখন জানতে পারল যে, আল্লাহ তা'আলা উম্মতের জন্য আমার দোয়া কবুল করেছেন, তখন সে আক্ষেপে নিজের ধ্বংসের দোয়া করতে শুরু করল এবং তার মাথায় মাটি নিক্ষেপ করতে লাগল।

টিকাঃ
৩৬২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫২৩৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩০১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৬২০৭; সনদটি জয়ীফ [শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হাজী নিষ্পাপ হয়ে ফিরে

📄 হাজী নিষ্পাপ হয়ে ফিরে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ وَلَمْ يَرْفُتْ، وَلَمْ يَفْسُقُ رَجُلٌ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, যে বাইতুল্লাহর যিয়ারত করল এবং অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রইল, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরল, যেন তার মা মাত্রই প্রসব করেছে।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَتَى هُذَا الْبَيْتَ لَا يُرِيدُ إِلَّا إِيَّاهُ فَطَافَ بِهِ طَوَافًا، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ.

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বাইতুল্লায় আগমন করে এবং তাওয়াফ করে, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় গুনাহশূন্য হয়ে যায়।

টিকাঃ
৩৬৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৫২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৩৫০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আরাফার দিনে শয়তানের লাঞ্ছনা

📄 আরাফার দিনে শয়তানের লাঞ্ছনা


عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيْزِعَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَا رُوِيَ الشَّيْطَانُ يَوْمًا قَط هُوَ فِيهِ أَضْعَفَ وَلَا أَحْفَرَ، وَلَا أَغْيَظَ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ, وَمَا ذُلِكَ إِلَّا لِمَا رَأَى مِنْ نُزُولِ الرَّحْمَةِ وَتَجَاوُزِ اللَّهِ عَنِ الذُّنُوبِ الْعِظَامِ، وَلَمْ يُرَ قَبْلَ ذَلِكَ مِثْلَهُ إِلَّا مَا رُؤيَ مِنْ يَوْمِ بَدْرٍ.

তালহা ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন, আরাফার দিন শয়তানকে যতটা দুর্বল, ক্ষীণ ও ক্রুদ্ধ দেখা যায়, অন্য কোনো দিন তা দেখা যায় না। কারণ, সে এই দিনে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হওয়া এবং আল্লাহ কর্তৃক গুরুতর গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া দেখতে পায়। এমনটা তার আরেকবার বদরের যুদ্ধের দিন হয়েছিল।

টিকাঃ
৩৬৪. মুসতাদরাকে হাকেম: ১/৬২৮; শুআবুল ঈমান ৩/৪৫১; আল্লামা যাইলাঈ ও শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [তাখরীজে কাশশাফ: ২/৩২]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নেককারদের বদৌলতে গুনাহগারদের ক্ষমা

📄 নেককারদের বদৌলতে গুনাহগারদের ক্ষমা


عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : فِيمَا أَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَى مُوسى عَلَيْهِ السَّلَامُ، ذَكَرَ بَيْتَ اللهِ الْحَرَامِ وَفَضِيلَتَهُ، قَالَ: إِلَهِي مَا الْحَجُّ؟ قَالَ: بَيْتِي الَّذِي اخْتَرْتُهُ عَلَى جَمِيعِ الْبُيُوتِ، وَحَرَمِي الَّذِي حَرَّمَهُ خَلِيلِي إِبْرَاهِيمُ يَنْتَهُونَ إِلَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ الْأَرْضِ يُهَلِّلُونَ بِالتَّلْبِيَةِ، كَمَا يُلَتِي الْعَبْدُ لِسَيِّدِهِ قَالَ مُوسَى: إِلَهِي فَمَا ثَوَابُهُمْ? قَالَ أُلْحِقُهُمُ الْمَغْفِرَةَ حَتَّى أُشَفَعَهُمْ فِي جِيرَانِهِمْ، وَقَرَابَتِهِمْ، فَقَالَ مُوسَى: إِلَهِي مَنْ هُمْ مَنْ لَيْسَ لَهُ نَفَقَةٌ طَيِّبَةٌ وَلَا قَلْبٌ زَاكٍ? قَالَ: فَإِنِّي أَهَبُ الْمُسِيءَ مِنْهُمْ لِلْمُحْسِنِ।

হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা মূসা আ.-এর নিকট যেসব ওহী পাঠিয়েছিলেন, তাতে বাইতুল্লাহর আলোচনা ও তার ফযীলতের বিবরণ ছিল। মূসা আ. বললেন, হে আমার ইলাহ! হজ্ব কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন, সেটি আমার ঘর, যাকে আমি সকল ঘরের মাঝে নির্বাচিত করেছি। এটি আমার পবিত্র স্থান ইবরাহীম আ. যার সীমা নির্ধারণ করেছেন। পৃথিবীর দিক দিগন্ত থেকে মানুষ সেখানে আসে, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক বলতে থাকে, যেমন বিশ্বস্ত গোলাম মনিবের ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে আসে। মূসা আ. বললেন, হে আমার ইলাহ! তাদের প্রতিদান কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিব এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করব। মূসা আ. বললেন, হে আমার ইলাহ! এরা কারা? তাদের মধ্যে কি এমন লোকও আছে যাদের খাবার ও মন পবিত্র নয়? আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি তাদের নেককারদের বদৌলতে গুনাহগারদেরও ক্ষমা করে দিব।

ফন্ট সাইজ
15px
17px