📄 হজের ফযীলতসমূহ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنِّي، إِذْ أَقْبَلَتْ طَائِفَةٌ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالُوا: فِدَاكَ الْأُمَّهَاتُ وَالْآبَاءُ، أَخْبِرْنَا بِفَضَائِلِ الْحَجِّ؟ قَالَ: بَلَى، أَيُّ رَجُلٍ خَرَجَ مِنْ مَنْزِلِهِ حَاجًا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكُلَّمَا رَفَعَ قَدَمًا، وَوَضَعَ قَدَمًا تَنَاثَرَتِ الذُّنُوبُ مِنْ بَدَنِهِ، كَمَا يَتَنَاثَرُ الْوَرَقُ مِنَ الشَّجَرِ، فَإِذَا وَرَدَ الْمَدِينَةَ، وَصَافَحَنِي بِالسَّلَامِ، صَافَحَتْهُ الْمَلَائِكَةُ بِالسَّلَامِ، فَإِذَا وَرَدَ ذَا الْحُلَيْفَةَ، وَاغْتَسَلَ طَهَّرَهُ اللَّهُ مِنَ الذُّنُوبِ، وَإِذَا لَبِسَ ثَوْبَيْنِ جَدِيدَيْنِ جَدَّدَ اللهُ لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ وَإِذَا قَالَ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، أَجَابَهُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: بِلَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ أَسْمَعُ كَلَامَكَ، وَأَنْظُرُ إِلَيْكَ، فَإِذَا دَخَلَ مَكَّةَ، وَطَافَ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَاصَلَ اللهُ لَهُ الْخَيْرَاتِ، فَإِذَا وَقَفُوا بِعَرَفَاتٍ، وَضَجَّتِ الْأَصْوَاتُ بِالْحَاجَاتِ، بَاهَى اللَّهُ بِهِمْ مَلَائِكَةَ سَبْعِ سَمَوَاتٍ، وَيَقُولُ : مَلَائِكَتِي وَسُكَانَ سَمَوَاتِي، أَمَا تَرَوْنَ إِلَى عِبَادِي، أَتَوْنِي مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ شُعْئًا غُبْرًا قَدْ أَنْفَقُوا الْأَمْوَالَ وَأَتْعَبُوا الْأَبْدَانَ فَوَعِزَّتِي وَجَلَالِي وَكَرَمِي لَأَهَبَنَّ مُسِیتَهُمْ بِمُحْسِنِهِمْ، وَلَأُخْرِجَنَّهُمْ مِنَ الذُّنُوبِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُمْ أُمَّهَاتُهُمْ، فَإِذَا رَمَوُا الْجِمَارَ، وَحَلَقُوا الرُّءُوسَ، وَزَارُوا الْبَيْتَ نَادَى مُنَادٍ مِنْ بُطْنَانِ الْعَرْشِ ارْجِعُوا مَغْفُورًا لَكُمْ وَاسْتَأْنِفُوا الْعَمَلَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম ﷺ-এর সাথে মীনায় ছিলাম। তখন ইয়ামান থেকে একদল লোক এসে বলল, আমাদের পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক। আমাদেরকে হজের ফযীলত সম্পর্কে কিছু বলুন। রাসূল বললেন, যে ব্যক্তি হজ্ব বা উমরার নিয়তে ঘর থেকে বের হয়, সে যখনই পা উত্তোলন করে বা জমিনে পা রাখে, তার শরীর থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরতে থাকে, যেভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরতে থাকে। তারপর মদীনায় প্রবেশ করে সালাম প্রদানের পর আমার সাথে মুসাফাহা করলে, ফেরেশতারা তাকে সালাম দিয়ে তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন। অতঃপর যুল হুলায়ফায় গিয়ে গোসল করলে আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। অতঃপর এহরামের জন্য দু'টি নতুন কাপড় পরিধান করলে, আল্লাহ তা'আলা তাকে নতুন করে প্রতিদানে ভূষিত করেন। অতঃপর “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” বললে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং বলেন, আমি তোমার কথা শ্রবণ করছি ও তোমাকে দেখছি। মক্কায় প্রবেশ করে সাফা ও মারওয়া তাওয়াফ করলে আল্লাহ তা'আলা তার উপর রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। এরপর আরাফায় অবস্থান করে বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর নিকট কাকুতি মিনতি করলে, আল্লাহ তা'আলা সাত আসমানের ফেরেশতাদেরকে নিয়ে গর্ব করতে থাকেন এবং বলেন, হে আমার ফেরেশতারা! হে আসমানের অধিবাসীরা! তোমরা কি আমার বান্দাদের দেখছ না? ধন সম্পদ ব্যয় করে তারা দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন জনপদ অতিক্রম করে এলোমেলো চুল ও ধূলিমলিন অবস্থায় আমার সামনে উপস্থিত হয়েছে। আমার ইজ্জত ও মর্যাদার শপথ! আমি তাদের নেককারদের উসীলায় গুনাহগারদেরকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে এভাবে পবিত্র করে দিলাম, যেন তাদের মা তাদেরকে আজই প্রসব করেছে। তারপর পাথর নিক্ষেপ করে মাথা মুড়িয়ে বাইতুল্লাহ যিয়ারত করলে আরশ থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, তোমরা ফিরে যাও। তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তোমরা নতুন করে, নতুন উদ্যমে আমল করতে থাকো।
টিকাঃ
৩৬১. সনদে লাইস ইবনে আবী সুলাইম নামক জয়ীফ রাবী বিদ্যমান থাকাই সনদটি জয়ীফ [মীযানুল এতেদাল: ৩/৪২০]।
📄 বাইতুল্লাহর পরিচিতি
عَنْ عَلِيِّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، قَالَ: كُنْتُ طَائِفًا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَيْتِ اللَّهِ الْحَرَامِ، فَقُلْتُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ مَا هُذَا الْبَيْتُ؟ فَقَالَ لِي: يَا عَلِيُّ، أَسَّسَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى هُذَا الْبَيْتَ فِي دَارِ الدُّنْيَا كَفَّارَةً لِذُنُوبِ أُمَّتِي، فَقُلْتُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي مَا هُذَا الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ؟ قَالَ: تِلْكَ جَوْهَرَةٌ كَانَتْ فِي الْجَنَّةِ أَهْبَطَهَا اللَّهُ إِلَى الدُّنْيَا، لَهَا شُعَاعٌ كَشُعَاعِ الشَّمْسِ، وَاشْتَدَّ سَوَادُهَا، وَتَغَيَّرَ لَوْنُهَا، لَمَّا مَسَّتْهَا أَيْدِي الْمُشْرِكِينَ.
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম ﷺ-এর সাথে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক! আমাকে এই ঘরটি সম্পর্কে কিছু বলুন। রাসূল বললেন, হে আলী! আল্লাহ তা'আলা এই ঘরটি বানিয়েছেন আমার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করার জন্য। তারপর আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে কিছু বলুন! রাসূল বললেন, এটি একটি জান্নাতী পাথর। আল্লাহ তা'আলা এটাকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। সূর্যের রশ্মির ন্যায় তার কিরণ ছিল। মুশরিকরা স্পর্শ করার কারণে তার রং পরিবর্তন হয়ে কালো হয়ে গেছে।
📄 শয়তানের মাথায় মাটি
عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ مِرْدَاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، دَعَا عَشِيَّةَ عَرَفَةَ لِأُمَّتِهِ بِالرَّحْمَةِ وَالْمَغْفِرَةِ فَأَكْثَرَ الدُّعَاءَ، فَأَجَابَهُ رَبُّهُ : بِأَنِّي قَدْ فَعَلْتُ إِلَّا ظُلْمَ بَعْضِهِمْ بَعْضًا. قَالَ: أَيْ رَبُّ إِنَّكَ قَادِرُ عَلَى أَنْ تُثِيبَ هُذَا الْمَظْلُومَ خَيْرًا مِنْ مَظْلَمَتِهِ لِهُذَا الظَّالِمِ. فَلَم્યુંجِبْهُ تِلْكَ الْعَشِيَّةَ، فَلَمَّا كَانَ غَدَاةُ الْمُزْدَلِفَةِ أَعَادَ الدُّعَاءَ فَأَجَابَهُ رَبُّهُ بِأَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، ثُمَّ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فَقَالَ بَعْضُ الصَّحَابَةِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَبَسَّمْتَ فِي سَاعَةٍ لَمْ تَكُنْ تَتَبَسَّمُ فِيهَا. قَالَ: تَبَسَّمْتُ لِأَنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ، لَمَّا عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ قَدِ اسْتَجَابَ لِي فِي أُمَّتِي أَهْوَى يَدْعُو بِالْوَيْلِ وَالقُبُورِ، وَيَحْلُو التَّرَابَ عَلَى رَأْسِهِ.
হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল আরাফার দিন বিকালে উম্মতের জন্য দীর্ঘক্ষণ মাগফেরাত ও রহমতের দোয়া করলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং জানিয়ে দিলেন যে, একে অপরের প্রতি জুলুমকারী ব্যতীত আমি সকলের গুনাহ ক্ষমা করলাম। রাসূল বললেন, হে রব! আপনি তো মজলুমকে জুলুমের তুলনায় উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন। আর জালেমকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ সেদিন বিকালে তা কবুল করলেন না। মুযদালিফার দিন সকালে তিনি পুনরায় একই দোয়া করলেন। তখন আল্লাহ তার দোয়া কবুল করলেন এবং বললেন, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। রাসূল তখন মৃদু হাসলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এ সময় হাসেন না অথচ আজ হাসলেন? রাসূল বললেন, আমার হাসার কারণ হলো, আল্লাহর শত্রু ইবলীস যখন জানতে পারল যে, আল্লাহ তা'আলা উম্মতের জন্য আমার দোয়া কবুল করেছেন, তখন সে আক্ষেপে নিজের ধ্বংসের দোয়া করতে শুরু করল এবং তার মাথায় মাটি নিক্ষেপ করতে লাগল।
টিকাঃ
৩৬২. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫২৩৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩০১৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৬২০৭; সনদটি জয়ীফ [শুয়াইব আরনাউত]।
📄 হাজী নিষ্পাপ হয়ে ফিরে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ وَلَمْ يَرْفُتْ، وَلَمْ يَفْسُقُ رَجُلٌ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেছেন, যে বাইতুল্লাহর যিয়ারত করল এবং অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রইল, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরল, যেন তার মা মাত্রই প্রসব করেছে।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَتَى هُذَا الْبَيْتَ لَا يُرِيدُ إِلَّا إِيَّاهُ فَطَافَ بِهِ طَوَافًا، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ.
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বাইতুল্লায় আগমন করে এবং তাওয়াফ করে, সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় গুনাহশূন্য হয়ে যায়।
টিকাঃ
৩৬৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৫২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৩৫০।