📄 নিয়তের শুদ্ধতার আলামত
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দার নিয়ত তখনই খাঁটি বলে প্রমাণিত হবে, যখন সে তার নিকট রক্ষিত স্বল্প সম্পদেও কৃপণতা করবে না। উদাহরণত যদি কোনো ব্যক্তি হজের কাফেলা দেখে বলে, আমার সম্পদ থাকলে আমি হজ্ব করতাম। যেহেত আমার সামর্থ্য নেই, তাই আমার নিকট থাকা টাকা দু'টি হজের উদ্দেশ্যে গমনকারী ব্যক্তিকে দিয়ে দিলাম। তদ্রূপ যদি কেউ মুজাহিদকে দেখে বলে, আমার যদি সম্পদ থাকত, তাহলে আমিও জিহাদে যেতাম। যেহেত আমার সামর্থ্য নেই, তাহলে আমার নিকট থাকা টাকা দু'টি জিহাদের উদ্দেশ্যে গমনকারী ব্যক্তিকে দিয়ে দিলাম। এভাবে সে মুজাহিদকে দিয়ে দেয়, তাহলে বুঝা যাবে, তাঁর নিয়ত সঠিক ও বিশুদ্ধ। এভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রসমূহও। সুতরাং কেউ যদি এ সামান্য সম্পদে কৃপণতা করে, তাহলে তার নিকট অধিক সম্পদ থাকলেও সে কৃপণতাই করত। তাই তাকে নিয়তের এটির কারণে পুণ্যের সওয়াব দেওয়া হয় না।
عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ وَعَمَلُ الْمُنَافِقِ خَيْرٌ مِنْ نِيَّتِهِ، وَكُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى نِيَّتِهِ.
আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল বলেছেন, মুমিনের নিয়ত আমল থেকে উত্তম। আর মুনাফিকের আমল নিয়ত থেকে উত্তম। প্রত্যেকে নিয়ত অনুসারে কাজ করে।
📄 আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَليَّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَحَبَّ رَجُلًا فِي اللَّهِ لِعَدْلٍ ظَهَرَ مِنْهُ، وَهُوَ فِي عِلْمِ اللهِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ آجَرَهُ اللَّهُ عَلَى حُبِّهِ إِيَّاهُ، كَمَا لَوْ أَحَبَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ أَبْغَضَ رَجُلًا فِي اللهِ لِجَوْرٍ ظَهَرَ مِنْهُ، وَهُوَ فِي عِلْمِ اللَّهِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، أَجَرَهُ اللهُ عَلَى بُغْضِهِ إِيَّاهُ، كَمَا لَوْ كَانَ يُبْغِضُ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ النَّارِ.
মুহাম্মাদ ইবনে আলী রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছে, কেউ যদি কাউকে তার ভালো গুণের কারণে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসে, অথচ সে আল্লাহর ইলম অনুযায়ী জাহান্নামী, তবুও আল্লাহ একজন জান্নাতী মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে যে সওয়াব সে সওয়াব দান করবেন। অনুরূপ কেউ যদি কাউকে তার মন্দ গুণের কারণে আল্লাহর ওয়াস্তে ঘৃণা কারে, অথচ সে আল্লাহর ইলম অনুসারে জাহান্নামী, তাহলে একজন জাহান্নামীর সাথে বিদ্বেষ রাখলে যে সওয়াব আল্লাহ তাকে সে সওয়াব দান করবেন।
টিকাঃ
৩৫৩. প্রাগুক্ত।
৩৫৪. আল-মুজামুল কাবীর, তুবারানী: ৫/৯৭;
📄 মূসা আ.-এর একটি ঘটনা
বর্ণিত আছে, একদা আল্লাহ তা'আলা মূসা আ. কে জিজ্ঞেস করলেন, হে মূসা! আমার জন্য কখনো কি কোনো আমল করেছ? মূসা আ. বললেন, হে আমার ইলাহ! আপনার জন্য নামায আদায় করেছি, রোযা রেখেছি, সদকা করেছি, যিকির করেছি। আল্লাহ তা'আলা বললেন, নামায তো তোমার সপক্ষে দলীল, রোযা তোমার ঢাল, সদকা তোমার জন্য ছায়া, আর যিকির তোমার জন্য আলো। তাহলে আমার জন্য কী আমল করলে? মূসা আ. বললেন, হে আমার ইলাহ! কোন্ আমল শুধুমাত্র আপনার জন্য, তা আমাকে বলে দিন। আমি তাই করব। আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে মুসা! তুমি কি আমার কোনো প্রিয় বান্দার সাথে বন্ধুত্ব করেছ বা আমার শত্রুর সাথে শত্রুতা পোষণ করেছ? তখন মূসা আ. বুঝতে পারলেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করা।
📄 আল্লাহ তা'আলা বান্দার অন্তর দেখেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَلَا إِلى أَمْوَالِكُمْ، وَلَا إِلَى أَحْوَالِكُمْ, وَإِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَى أَعْمَالِكُمْ وَإِلَى قُلُوبِكُمْ.
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি, তোমাদের ধন-সম্পদ কিংবা তোমাদের অবস্থার দিকে তাকান না। বরং তিনি তোমাদের আমল ও অন্তর দেখেন।
টিকাঃ
৩৫৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৪৩।