📄 গোসলখানায় যাওয়া
রাসূল ইরশাদ করেছেন- لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَدْخُلَ الْحَمَّامَ إِلَّا بِمِثْزَرٍ
চাদর ব্যতীত গোসলখানায় প্রবেশ তোমাদের কারো জন্য বৈধ নয়।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَصْلُحُ دُخُولُ الْحَمَّامِ إِلَّا بِإِزَارَيْنِ: إِزَارٍ لِلْعَوْرَةِ، وَإِزَارٍ لِلْعَيْنِ، يَعْنِي يَغُضُّ بَصَرَهُ عَنْ عَوْرَاتِ النَّاسِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, দু'টি পর্দা ব্যতীত গোসলখানায় প্রবেশ করা ঠিক নয়। একটি দিয়ে দেহ ঢাকবে, অপরটি দিয়ে চোখ ঢাকবে যাতে অন্যান্য মানুষের সতর দেখা না যায়।
টিকাঃ
৩৪৭. তুবারানী আওসাত: হাদীস-৬৬৬৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৮০১; হাসান গরীব।
📄 কুদৃষ্টি
عَنْ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، أَنَّهُ قَالَ : إِيَّاكُمْ وَالنَّظْرَةَ فَإِنَّهَا تَزْرَعُ الشَّهْوَةَ فِي الْقَلْبِ، وَكَفَى بِهَا فِتْنَةً لِصَاحِبِهَا.
হযরত ঈসা বিন মারইয়াম আ. বলেন, তোমরা দৃষ্টি থেকে সতর্ক থাক। কারণ, তা কলবে কুপ্রবৃত্তির বীজ বপন করে। আর উক্ত ব্যক্তির জন্য এটিই ফেতনা হিসেবে যথেষ্ট। জনৈক বিদ্বান ব্যক্তিকেও ফাসেক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, যে তার দৃষ্টিকে মানুষের দরজা ও তাদের গোপনীয়তা থেকে হেফাজত করে না সেই ফাসেক।
📄 পর্দার আড়ালে গোসল করা কর্তব্য
عَنْ عَطَاءٍ أَنَّهُ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِرَجُلٍ يَغْتَسِلُ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ حَيُّ، حَلِيمٌ، سَتَارُ، وَيُحِبُّ الْحَيَاءَ وَالسِّتْرَ، فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوارَ عَنْ أَعْيُنِ النَّاسِ.
হযরত আতা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গমন করছিলেন। তখন সে গোসলরত। রাসূল ﷺ এটা দেখে বললেন, হে লোকসকল! আল্লাহ তা'আলা লজ্জাশীল, সহনশীল ও গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতা, সহনশীলতা ও গোপনীয়তা পছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন গোসল করে, সে যেন মানুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করে নেয়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ كَانَ إِذَا أَرَادَ قَضَاءَ الْحَاجَةِ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الْأَرْضِ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন, রাসূল হাজত পূরণের ইচ্ছা করলে জমিনের নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত কাপড় তুলতেন না।
টিকাঃ
৩৪৮. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪০১২; সুনানে নাসায়ী হাদীস-৪০৬; হাদীসটি সহীহ [আলবানী ও শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ]
৩৪৯. সাননে আবী দাউদ হাদীস-১৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৪; হাদীসটি সহীহ [আলবানী]।
📄 লজ্জাশীলতার প্রকার
হযরত ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, লজ্জাশীলতা দু'প্রকার। যথা- ১. মানুষের সঙ্গে লজ্জাশীলতা। মানুষের সঙ্গে লজ্জাশীলতা হলো, যা দেখা বৈধ নয়, তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ২. আল্লাহর সঙ্গে লজ্জাশীলতা। আল্লাহর ক্ষেত্রে লজ্জাশীলতা হলো, তাঁর নেয়ামত সম্পর্কে জানা এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার ক্ষেত্রে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করা।