📄 যথার্থ লজ্জাশীলতা
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ মِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ.
উকবা ইবনে আমের রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেন, পূর্ববর্তী নবুওয়াতের কথাসমূহের মধ্যে থেকে মানুষ যা পেয়েছে তাহলো, যদি লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই কর।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اسْتَحْيُوا مِنَ اللهِ تَعَالَى حَقَّ الْحَيَاءِ. فَقَالُوا : إِنَّا نَسْتَحِي مِنَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ . قَالَ : لَيْسَ ذُلِكَ، وَلَكِنْ مَنِ اسْتَحَى مِنَ اللهِ حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظِ الرَّأْسَ، وَمَا حَوَى، وَالْبَطْنَ، وَمَا وَعَى، وَلْيَذْكُرِ الْمَوْتَ، وَالْبِلَى، وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا، فَمَنْ فَعَلَ ذلِكَ اسْتَحْيَا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, তোমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে যথার্থ লজ্জাশীলতা অবলম্বন কর। লোকেরা বলল, আল হামদুলিল্লাহ, আমরা তো আল্লাহর ক্ষেত্রে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করি। রাসূল বললেন, তা নয়। বরং যার মধ্যে যথার্থ লজ্জা আছে, সে যেন তার মাথা ও প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যত্ন নেয়, উদর ও উদরস্থ সবকিছুর হেফাজত করে, মৃত্যু ও তৎপরবর্তী বিপদাপদের কথা স্মরণ করে। আর যে আখেরাত চায়, সে যেন দুনিয়ার সাজসজ্জা ত্যাগ করে। যে এরূপ করল, সেই আল্লাহর ক্ষেত্রে যথার্থ লজ্জাশীলতা অবলম্বন করল।
টিকাঃ
৩৪৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৪৮৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৯৭।
📄 লজ্জাশীলতা ও লজ্জাহীনতা
عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَالْإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ، وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। ঈমান জান্নাতে গমনের কারণ। লজ্জাহীনতা মন্দ চরিত্রের লক্ষণ। আর মন্দ চরিত্র জাহান্নামে গমনের কারণ।
টিকাঃ
৩৪৫. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৫৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৩৬৭১; হাদীসটি হাসান [আল-মাজমু লিন-নববী: ৫/১০৫; হাকেম; যাহাবী ও আলবানী]।
📄 পর্দাহীনতা
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: لَأَنْ أَمُوتَ ثُمَّ أَحْيَا، ثُمَّ أَمُوتُ ثُمَّ أَحْيَا ثَلَاثًا، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَنْظُرَ إِلَى عَوْرَةِ أَحَدٍ، أَوْ يَنْظُرَ أَحَدٌ إِلَى عَوْرَتِي.
হযরত সালমান ফারসী রাযি. বলেন, মৃত্যুবরণ করে পুনরায় জীবিত হওয়া (এ কথাটি তিনি তিনবার উচ্চারণ করেন) আমার নিকট কারো শরীরের গোপনীয়তা দেখে ফেলা কিংবা কেউ আমার দেহের গোপনীয়তা দেখে ফেলার চেয়ে অধিক প্রিয়। হযরত আলী রাযি. বলেন, যে অপরের সতর দেখে কিংবা অপরকে নিজের সতর দেখায় তার উপর আল্লাহর লানত।
টিকাঃ
৩৪৬. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০০৯; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-৬০৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১০৫১৯; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
📄 গোসলখানায় যাওয়া
রাসূল ইরশাদ করেছেন- لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَدْخُلَ الْحَمَّامَ إِلَّا بِمِثْزَرٍ
চাদর ব্যতীত গোসলখানায় প্রবেশ তোমাদের কারো জন্য বৈধ নয়।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَصْلُحُ دُخُولُ الْحَمَّامِ إِلَّا بِإِزَارَيْنِ: إِزَارٍ لِلْعَوْرَةِ، وَإِزَارٍ لِلْعَيْنِ، يَعْنِي يَغُضُّ بَصَرَهُ عَنْ عَوْرَاتِ النَّاسِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, দু'টি পর্দা ব্যতীত গোসলখানায় প্রবেশ করা ঠিক নয়। একটি দিয়ে দেহ ঢাকবে, অপরটি দিয়ে চোখ ঢাকবে যাতে অন্যান্য মানুষের সতর দেখা না যায়।
টিকাঃ
৩৪৭. তুবারানী আওসাত: হাদীস-৬৬৬৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৮০১; হাসান গরীব।