📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সদকা করার চেয়ে হারাম না কামানো উত্তম

📄 সদকা করার চেয়ে হারাম না কামানো উত্তম


عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَرْكُ فَلْسٍ مِنَ حَرَامٍ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ فَلْسٍ أَتَصَدَّقُ بِهَا.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, হারামের এক টাকা বর্জন করা এক লক্ষ টাকা সদকার চেয়ে উত্তম। বর্ণিত আছে, সিরিয়ায় অবস্থান করে একবার তিনি হাদীস সঙ্কলনের কাজ করছিলেন। তার কলম ভেঙ্গে গেলে লেখার জন্য একটি কলম ধার নিলেন। লেখা শেষে ভুলে কলমটি তার কলমদানিতে রেখে দিলেন। এরপর তিনি মারভ চলে গেলেন। সেখানে কলমটি দেখে মনে পড়ল, কলম তো ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই তিনি কলম ফিরিয়ে দেয়ার জন্য পুনরায় মারভ থেকে সিরিয়ায় সফর করলেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা

📄 সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা


عَنِ الشَّعْبِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : الحَلَالُ بَيِّنُ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ، لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ، فَقَدِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ، وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ، وَقَعَ فِي الْحَرَামِ كَالرَّاعِي يَرْعَى الْغَنَمَ حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمَى وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ. أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً فَإِنْ صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِنْ فَسَدَ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ.

শাবী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নু'মান ইবনে বাশীর রাযি. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, 'অবশ্যই হালাল বিবৃত ও স্পষ্ট এবং হারাম বিবৃত ও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহযুক্ত বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দেহযুক্ত বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে এবং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বস্তুতে পতিত হবে, সে হারামে পতিত হবে। (এর উদাহরণ সেই) রাখালের মত, যে নিষিদ্ধ চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার পক্ষে নিষিদ্ধ সীমানায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোন! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত চারণভূমি থাকে। আর শোন! আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হলো তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ। শোন! দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হলো হৃৎপিণ্ড (অন্তর)।

টিকাঃ
৩২৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৯৯।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইসলামের সীমা

📄 ইসলামের সীমা


عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لِكُلِّ شَيْءٍ حَدٌّ وَحُدُودُ الْإِسْلَامِ الْوَرَعُ، وَالتَّوَاضُعُ، وَالشُّكْرُ، وَالصَّبْرُ، فَالْوَرَعُ مِلَاكُ الْأُمُورِ، وَالتَّوَاضُعُ بَرَاءَةُ مِنَ الْكِبْرِ، وَالصَّبْرُ النَّجَاةُ مِنَ النَّارِ، وَالشُّكْرُ الْفَوْزُ بِالْجَنَّةِ

হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. বলেন, প্রতিটি বিষয়েরই একটি সীমা আছে। আর ইসলামের সীমা হলো, পরহেজগারী, বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য। পরহেজগারী হলো সব কিছুর উৎস, বিনয় হলো অহংকার থেকে মুক্তি, ধৈর্য হলো জাহান্নাম থেকে নাজাত এবং কৃতজ্ঞতা হলো জান্নাত লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত সাফল্য।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাকওয়ার গুরুত্ব ও তার নিদর্শন

📄 তাকওয়ার গুরুত্ব ও তার নিদর্শন


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : لَوْ صَلَّيْتُمْ حَتَّى تَكُونُوا كَالْحَنَايَا، وَصُمْتُمْ حَتَّى تَكُونُوا كَالْأَوْتَارِ، فَمَا يَنْفَعُكُمْ إِلَّا بِالْوَرَعِ.

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, যদি তোমরা নামায পড়ে পড়ে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যাও এবং রোযা রেখে রেখে কাঁটার মতো চিকন হয়ে যাও, তবুও তোমাদের কোনো উপকার হবে না, যদি না তাকওয়া থাকে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, পরহেযগারীর আলামত ও নিদর্শন হলো, নিজের জন্য দশটি বিষয়কে আবশ্যক করে নেওয়া।
১. গীবত থেকে জবানকে হেফাজত করা। আল্লাহ বলেন- وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا অর্থ: তোমাদের একে অপরের গীবত যেন না করে।
২. খারাপ ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তা'আলা বলেন- اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ অর্থ: অনেক ধারণা তোমরা বর্জন করবে, কারণ, কিছু কিছু ধারণা গুনাহ। রাসূল ইরশাদ করেছেন, إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّهُ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ অর্থাৎ তোমরা কু-ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, তা হলো বড়ই মিথ্যা কথা।
৩. হাসি-ঠাট্টা থেকে বিরত থাকা। কুরআনে এসেছে- لَا يَسْخَرُ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونَ廣وا خَيْرًا مِنْهُمْ অর্থ: তোমাদের এক সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়কে নিয়ে পরিহাস করবে না। কারণ, তারা তাদের থেকে উত্তম হতে পারে।
৪. হারাম দৃষ্টিপাত থেকে চোখের হেফাজত করা। কুরআনে এসেছে, قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ অর্থ: মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টিকে অবনত রাখে।
৫. সদা সত্য বলা। কুরআনে এসেছে- وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا অর্থ: যখন তোমরা কথা বলো, ন্যায় কথা বলো।
৬. আল্লাহর দেয়া নেয়ামত সম্পর্কে জানা এবং এতে আত্মঅহমিকা থেকে বেঁচে থাকা। কুরআনে এসেছে- بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ অর্থ: বরং আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি হেদায়েতের মাধ্যমে অনুগ্রহ দান করছেন। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।
৭. সঠিক ও সৎ পথে সম্পদ ব্যয় করা, বাতিল ও অবৈধ কাজে সম্পদ ব্যয় না করা। কুরআনে এসেছে- إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا অর্থ: তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের ব্যয় হয় এ দুইয়ের মাঝামাঝি।
৮. অহঙ্কার না করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- تِلْكَ الدَّارُ الآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الأَرْضِ وَلَا فَسَادًا অর্থ: তা হলো, পরকালের আবাস, যা আমি নির্ধারণ করেছি এমন ব্যক্তিদের জন্য যারা জমিনে বড়াই ও ফাসাদের ইচ্ছা করে না।
৯. পূর্ণাঙ্গরূপে, নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া। কুরআনে এসেছে- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ অর্থ: তোমরা নামাযসমূহ ও মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে যত্নশীল হও এবং আল্লাহর সম্মুখে বিনয়ী হয়ে দাঁড়াও।
১০. রাসূল-এর সুন্নত ও সাহাবায়ে কেরামলের আদর্শের উপর অটল থাকা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থ: আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কর না। তাহলে তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।

টিকাঃ
৩২৭. আল ফিরদাউস : হাদীস-৫১২৪; তারিখে দিমাশক : ২৩/১৩২; হাদীসটি সহীহ [আল- আজবিবাতুল মারদিইয়‍্যাহ লিস-সাখাবী: ২/৮৭৪]।
৩২৮. সূরা হুজুরাত: আয়াত-১২
৩২৯. সূরা হুজুরাত: আয়াত-১২
৩৩০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫১৪৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৬৩।
৩৩১. সূরা হুজুরাত: আয়াত-১১
৩৩২. সূরা নুর: আয়াত-৩০
৩৩৩. সূরা আনআম: আয়াত-১৫২
৩৩৪. সূরা হুজুরাত: আয়াত-১৭
৩৩৫. সূরা ফুরকান: আয়াত-৬৭
৩৩৬. সূরা কাসাস: আয়াত-৮৩
৩৩৭. সূরা বাকারা: আয়াত-২৩৮
৩৩৮. সূরা আনআম: আয়াত-১৫৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية