📄 হারাম ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকা
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : كُنَّا نَدَعُ تِسْعَةَ أَعْشَارٍ مِنَ الْحَلَالِ مَخَافَةَ أَنْ نَقَعَ فِي الشَّبْهَةِ، أَوْ فِي الْحَرَامِ.
হযরত উমর রাযি. বলেন, সন্দেহ কিংবা হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে আমরা হালালের নয়-দশমাংশ বর্জন করতাম। হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, দুনিয়ার সব কিছুই আশ্চর্যজনক। তবে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হই, পাঁচ বিষয়ে আদম সন্তানের প্রতারিত হওয়া দেখে। যথা- ১. দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় অংশের অধিকারী ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হই, সে কেন এই অংশগুলো এমন দিনের জন্য অগ্রে প্রেরণ করে না, যেদিন তার প্রয়োজন হবে, কিন্তু সে হবে দরিদ্র! ২. কথা বলার জিহ্বা দেখে অবাক হই, কেন সে প্রবৃত্তিকে অনুসরণ করে আল্লাহর স্মরণ ও কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকছে! ৩. সুস্থ-সবল ও আহারে লিপ্ত ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হই, কেন সে প্রতিমাসে তিন দিন রোযা রাখে না এবং রোযার অপরিমেয় সওয়াবের কথা চিন্তা করে না! ৪. রাত হওয়া মাত্রই যে বিছানা বিছিয়ে ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে, তাকে দেখে আমি আশ্চর্য হই, কেন সে রাতে দু'রাকাত নামাযের ফযীলতের কথা চিন্তা করে না যে, কিছু সময় নামাযে অতিবাহিত করা উচিত ছিল! ৫. নিষিদ্ধ বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে যে আল্লাহর উপর দুঃসাহস দেখায়, তাকে দেখে আমি আশ্চর্য হই, কেন সে কিয়ামতের ধড়-পাকড়ের কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয় না!
📄 সদকা করার চেয়ে হারাম না কামানো উত্তম
عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّهُ قَالَ : تَرْكُ فَلْسٍ مِنَ حَرَامٍ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ فَلْسٍ أَتَصَدَّقُ بِهَا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, হারামের এক টাকা বর্জন করা এক লক্ষ টাকা সদকার চেয়ে উত্তম। বর্ণিত আছে, সিরিয়ায় অবস্থান করে একবার তিনি হাদীস সঙ্কলনের কাজ করছিলেন। তার কলম ভেঙ্গে গেলে লেখার জন্য একটি কলম ধার নিলেন। লেখা শেষে ভুলে কলমটি তার কলমদানিতে রেখে দিলেন। এরপর তিনি মারভ চলে গেলেন। সেখানে কলমটি দেখে মনে পড়ল, কলম তো ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই তিনি কলম ফিরিয়ে দেয়ার জন্য পুনরায় মারভ থেকে সিরিয়ায় সফর করলেন।
📄 সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকা
عَنِ الشَّعْبِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : الحَلَالُ بَيِّنُ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ، لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ، فَقَدِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ، وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ، وَقَعَ فِي الْحَرَামِ كَالرَّاعِي يَرْعَى الْغَنَمَ حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمَى وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ. أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً فَإِنْ صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِنْ فَسَدَ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ.
শাবী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নু'মান ইবনে বাশীর রাযি. কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, 'অবশ্যই হালাল বিবৃত ও স্পষ্ট এবং হারাম বিবৃত ও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহযুক্ত বস্তু; যা অনেক লোকেই জানে না। অতএব যে ব্যক্তি এই সন্দেহযুক্ত বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকবে, সে তার দীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে এবং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বস্তুতে পতিত হবে, সে হারামে পতিত হবে। (এর উদাহরণ সেই) রাখালের মত, যে নিষিদ্ধ চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার পক্ষে নিষিদ্ধ সীমানায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শোন! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত চারণভূমি থাকে। আর শোন! আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হলো তাঁর হারামকৃত বস্তুসমূহ। শোন! দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হলো হৃৎপিণ্ড (অন্তর)।
টিকাঃ
৩২৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৯৯।
📄 ইসলামের সীমা
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لِكُلِّ شَيْءٍ حَدٌّ وَحُدُودُ الْإِسْلَامِ الْوَرَعُ، وَالتَّوَاضُعُ، وَالشُّكْرُ، وَالصَّبْرُ، فَالْوَرَعُ مِلَاكُ الْأُمُورِ، وَالتَّوَاضُعُ بَرَاءَةُ مِنَ الْكِبْرِ، وَالصَّبْرُ النَّجَاةُ مِنَ النَّارِ، وَالشُّكْرُ الْفَوْزُ بِالْجَنَّةِ
হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. বলেন, প্রতিটি বিষয়েরই একটি সীমা আছে। আর ইসলামের সীমা হলো, পরহেজগারী, বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য। পরহেজগারী হলো সব কিছুর উৎস, বিনয় হলো অহংকার থেকে মুক্তি, ধৈর্য হলো জাহান্নাম থেকে নাজাত এবং কৃতজ্ঞতা হলো জান্নাত লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত সাফল্য।