📄 জান্নাত আবশ্যককারী আমল
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَعَنْهُمْ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : تَقَبَّلُوا لِي سِدًّا أَتَقَبَّلُ لَكُمُ الْجَنَّةَ : إِذَا حَدَّثْتُمْ فَلَا تَكْذِبُوا، وَإِذَا وَعَدْتُمْ فَلَا تُخْلِفُوا، وَإِذَا الْتُمِنْتُمْ فَلَا تَخُونُوا، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ عَنِ الْحَرَامِ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা আমার জন্য ছয়টি আমলের দায়িত্ব গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করব। ১. যখন কথা বলবে, মিথ্যা বলবে না। ২. ওয়াদা দিলে ভঙ্গ করবে না। ৩. তোমার নিকট আমানত রাখা হলে খেয়ানত করবে না। ৪. দৃষ্টিকে অবনত রাখবে। ৫. লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। ৬. হাত পা-কে হারাম থেকে বিরত রাখবে। এ কাজগুলো করলে তোমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩২৪. মুসনাদে আবী ইয়ালা : হাদীস-৪২৫৭; মুস্তাদরাকে হাকেম : হাদীস-৮০৬৭; শুআবুল ঈমান : হাদীস-৪৩৫৫; হাদীসটি সহীহ [আত-তারগীব লিল-মুনযিরী: ৪/৭৩; আলবানী]।
📄 এবাদত, তাকওয়া ও ধনী হওয়ার আমল
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قَالَ اللهُ تَعَالَى عَبْدِي أَدَّ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْكَ، تَكُنْ مِنْ أَعْبَدِ النَّاسِ، وَانْتَهِ عَمَّا نَهَيْتُكَ عَنْهُ تَكُنْ مِنْ أَوْرَعِ النَّاسِ، وَاقْنَعْ، بِمَا رَزَقْتُكَ تَكُنْ مِنْ أَغْنَى النَّاسِ.
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আমার বান্দা! আমি তোমার উপর যা ফরজ করেছি, তা আদায় কর, তাহলে তুমি সর্বাধিক ইবাদত গুজার বলে গণ্য হবে। আমি যা নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাক, তাহলে তুমি সর্বাধিক পরহেযগার বান্দা বলে গণ্য হবে। আমি যে রিযিক তোমাকে দিয়েছি, তার উপর তুষ্ট থাক, তাহলে তুমি সর্বাধিক ধনী বলে গণ্য হবে।
টিকাঃ
৩২৫. ইবনে মাসউদের বক্তব্য হিসেবে হাদীসটি সঠিক [ইলালে মুতানাহিয়াহ : ২/৮০৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮০৯৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩২০৫]
📄 সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য
عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: خَمْسٌ مِنْ عَلَامَاتِ السَّعَادَةِ: الْيَقِينُ فِي الْقَلْبِ، وَالْوَرَعُ فِي الدِّينِ، وَالرُّهْدُ فِي الدُّنْيَا، وَالْحَيَاءُ فِي الْعَيْنَيْنِ، وَالْخَشْيَةُ فِي الْبَدَنِ، وَخَمْسٌ مِنْ عَلَامَاتِ الشَّقَاوَةِ : الْقَسْوَةُ فِي الْقُلُوبِ، وَالْجُمُودُ فِي الْعَيْنَيْنِ، وَقِلَّةُ الحَياءِ، وَالرَّغْبَةُ فِي الدُّنْيَا، وَطُولُ الْأَمَلِ.
হযরত ফুযাইল বিন ইয়ায রহ. বলেন, সৌভাগ্যের নিদর্শন হলো পাঁচটি। যথা- ১. অন্তরের বিশ্বাস। ২. দ্বীনের ব্যাপারে পরহেযগারী। ৩. দুনিয়া ত্যাগ। ৪. চোখের লজ্জা। ৫. শরীরের বিনয় ও ভয়।
অপর দিকে দুর্ভাগ্যের নিদর্শন হলো পাঁচটি। যথা- ১. কলবের কঠোরতা। ২. চোখের লজ্জাহীনতা। ৩. বেহায়াপনা। ৪. দুনিয়াদারী। ৫. দীর্ঘ আশা।
📄 হারাম ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকা
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : كُنَّا نَدَعُ تِسْعَةَ أَعْشَارٍ مِنَ الْحَلَالِ مَخَافَةَ أَنْ نَقَعَ فِي الشَّبْهَةِ، أَوْ فِي الْحَرَامِ.
হযরত উমর রাযি. বলেন, সন্দেহ কিংবা হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে আমরা হালালের নয়-দশমাংশ বর্জন করতাম। হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, দুনিয়ার সব কিছুই আশ্চর্যজনক। তবে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হই, পাঁচ বিষয়ে আদম সন্তানের প্রতারিত হওয়া দেখে। যথা- ১. দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় অংশের অধিকারী ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হই, সে কেন এই অংশগুলো এমন দিনের জন্য অগ্রে প্রেরণ করে না, যেদিন তার প্রয়োজন হবে, কিন্তু সে হবে দরিদ্র! ২. কথা বলার জিহ্বা দেখে অবাক হই, কেন সে প্রবৃত্তিকে অনুসরণ করে আল্লাহর স্মরণ ও কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকছে! ৩. সুস্থ-সবল ও আহারে লিপ্ত ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হই, কেন সে প্রতিমাসে তিন দিন রোযা রাখে না এবং রোযার অপরিমেয় সওয়াবের কথা চিন্তা করে না! ৪. রাত হওয়া মাত্রই যে বিছানা বিছিয়ে ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে, তাকে দেখে আমি আশ্চর্য হই, কেন সে রাতে দু'রাকাত নামাযের ফযীলতের কথা চিন্তা করে না যে, কিছু সময় নামাযে অতিবাহিত করা উচিত ছিল! ৫. নিষিদ্ধ বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে যে আল্লাহর উপর দুঃসাহস দেখায়, তাকে দেখে আমি আশ্চর্য হই, কেন সে কিয়ামতের ধড়-পাকড়ের কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয় না!