📄 সওয়াবের পরিমাপ পরহেজগারীর ভিত্তিতে
عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُطَرِّفٍ، يَقُولُ : إِنَّكَ لَتَلْقَى الرَّجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَكْثَرُ صَوْمًا، وَصَلَاةٌ، وَصَدَقَةً، وَإِنَّ الْآخَرَ أَفْضَلُ مِنْهُ ثَوَابًا.
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মুতরিফ রহ. বলতেন, এমন দুজনকেও তুমি দেখতে পাবে, যাদের একজন বিপুল রোযা, নামায ও সদকার অধিকারী অথচ অপরজন তার তুলনায় কম আমলকারী হয়েও বেশি সওয়াবের অধিকারী হবে। প্রশ্ন করা হলো, তা কীভাবে? তিনি বললেন, দ্বিতীয় ব্যক্তির অধিক পরহেযগারীর কারণে।
📄 রাসূলের ওসিয়্যাত
عَنْ عُمَارَةَ، أَنَّهُ قَالَ: لَمَّا تَوَجَّهَ عَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ نَحْوَ قَرْيَةِ مُؤْتَةً. قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِنِي. قَالَ: إِنَّكَ تَقْدَمُ أَرْضًا السُّجُودُ بِهَا قَلِيلٌ، فَاسْتَكْثِرُ مِنَ السُّجُودِ بِهَا. قَالَ: زِدْنِي. قَالَ: اذْكُرِ اللَّهَ فَإِنَّهُ عَوْنُ لَكَ عَلَى مَا تَطْلُبُ، فَوَلَّى ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي. قَالَ: اذْكُرِ اللَّهَ تَعَالَى فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى وِتْرُ يُحِبُّ الْوِتْرَ . قَالَ : زِدْنِي نَعَمْ لَا تَعْجَزَنَّ لَا تَعْজَজَنَّ لَا تَعْجَزَنَّ، إِنْ أَসَأْتَ عَشْرًا أَنْ تُحْسِنَ وَاحِدَةً.
হযরত উমারা বলেন, যখন আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা রাযি. মুতার দিকে রওনা হলেন, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, তুমি এমন এক ভূমিতে গমন করছো, যেখানে নামায কম আদায় করা হয়। সেখানে অধিকহারে নামায আদায় করবে। আব্দুল্লাহ পুনরায় আরজ করলেন, আরও উপদেশ দিন। রাসূল বললেন, আল্লাহর যিকির করবে। কারণ, তোমার উদ্দেশ্য পূরণে তা অধিক সহায়ক হবে। উক্ত সাহাবী এই উপদেশ নিয়ে কিছু দূর গেলেন। অতঃপর পুনরায় ফিরে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আরও কিছু উপদেশ দিন। রাসূল বললেন, আল্লাহর যিকির করবে। নিশ্চয় আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় পছন্দ করেন। তিনি বললেন, আরও কিছু উপদেশ দিন। রাসূল বললেন, পিছপা হয়ো না, পিছপা হয়ো না, কখনোই পিছপা হয়ো না। দশটি মন্দ কাজ করলে অন্তত একটি ভালো কাজ করবে। কারণ, উক্ত ভালো কাজ দ্বারা তোমার গুনাহ মিটে যাবে।
টিকাঃ
৩২৩. সনদে আব্দুল আযীয ইবনে আবান নামক মিথ্যুক রাবী বিদ্যমান [দেখুন: আত-তাকরীব লি- ইবনে হাজার আসকালানী]।
📄 জান্নাত আবশ্যককারী আমল
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَعَنْهُمْ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : تَقَبَّلُوا لِي سِدًّا أَتَقَبَّلُ لَكُمُ الْجَنَّةَ : إِذَا حَدَّثْتُمْ فَلَا تَكْذِبُوا، وَإِذَا وَعَدْتُمْ فَلَا تُخْلِفُوا، وَإِذَا الْتُمِنْتُمْ فَلَا تَخُونُوا، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ عَنِ الْحَرَامِ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা আমার জন্য ছয়টি আমলের দায়িত্ব গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করব। ১. যখন কথা বলবে, মিথ্যা বলবে না। ২. ওয়াদা দিলে ভঙ্গ করবে না। ৩. তোমার নিকট আমানত রাখা হলে খেয়ানত করবে না। ৪. দৃষ্টিকে অবনত রাখবে। ৫. লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। ৬. হাত পা-কে হারাম থেকে বিরত রাখবে। এ কাজগুলো করলে তোমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
৩২৪. মুসনাদে আবী ইয়ালা : হাদীস-৪২৫৭; মুস্তাদরাকে হাকেম : হাদীস-৮০৬৭; শুআবুল ঈমান : হাদীস-৪৩৫৫; হাদীসটি সহীহ [আত-তারগীব লিল-মুনযিরী: ৪/৭৩; আলবানী]।
📄 এবাদত, তাকওয়া ও ধনী হওয়ার আমল
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قَالَ اللهُ تَعَالَى عَبْدِي أَدَّ مَا افْتَرَضْتُ عَلَيْكَ، تَكُنْ مِنْ أَعْبَدِ النَّاسِ، وَانْتَهِ عَمَّا نَهَيْتُكَ عَنْهُ تَكُنْ مِنْ أَوْرَعِ النَّاسِ، وَاقْنَعْ، بِمَا رَزَقْتُكَ تَكُنْ مِنْ أَغْنَى النَّاسِ.
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আমার বান্দা! আমি তোমার উপর যা ফরজ করেছি, তা আদায় কর, তাহলে তুমি সর্বাধিক ইবাদত গুজার বলে গণ্য হবে। আমি যা নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাক, তাহলে তুমি সর্বাধিক পরহেযগার বান্দা বলে গণ্য হবে। আমি যে রিযিক তোমাকে দিয়েছি, তার উপর তুষ্ট থাক, তাহলে তুমি সর্বাধিক ধনী বলে গণ্য হবে।
টিকাঃ
৩২৫. ইবনে মাসউদের বক্তব্য হিসেবে হাদীসটি সঠিক [ইলালে মুতানাহিয়াহ : ২/৮০৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮০৯৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩২০৫]