📄 যার খাবার হারাম, তার জন্য জান্নাত হারাম
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : كَانَ لِأَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، غُلَامٌ يَأْتِيهِ كُلَّ لَيْلَةٍ بِغَلَّتِهِ طَعَامًا يَأْكُلُهُ ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، لَا يَأْكُلُهُ حَتَّى يَسْأَلَهُ مِنْ أَيْنَ اکْتَسَبَهُ؟ وَمِنْ أَيْنَ أَصَابَهُ؟ قَالَ: فَجَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ بِطَعَامٍ فَضَرَبَ يَدَهُ إِلَيْهِ فَأَকَلَ لُقْمَةً مِنْ غَيْرِ أَنْ يَسْأَلَهُ، قَالَ الْغُلَامُ: قَدْ كُنْتَ تَسْأَلُنِي كُلَّ لَيْلَةٍ غَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، فَإِنَّكَ لَمْ تَسْأَلْنِي قَالَ : وَيْحَكَ الْجُوعُ حَمَلَنِي، وَيْحَكَ أَخْبِرْنِي مِنْ أَيْنَ جِئْتَ بِهِ. قَالَ: كُنْتُ رَقَيْتُ لِأُنَاسٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَوَعَدُونِي عَلَيْهِ عِدَةً, فَرَأَيْتُ عِنْدَهُمْ وَلِيمَةً، فَذَكَّرْتُهُمْ وَعْدَهُمُ الَّذِي وَعَدُونِي، فَأَعْطَوْنِي هُذَا الطَّعَامَ. فَاسْتَرْجَعَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عِنْدَ ذَلِكَ ثُمَّ أَخَذَ يَتَقَيَّةُ، فَكَابَدَ وَجَاهَدَ نَفْسَهُ أَنْ يَنْزِعَ اللُّقْمَةَ مِنْ بَطْنِهِ، فَلَمْ يَقْدِرْ حَتَّى اخْضَرَّ وَاسْوَدَّ مِنَ الْجَهْدِ، فَلَمْ يَقْدِرُ، فَلَمَّا رَأَوْا مَا يَلْقَى مِنَ الْمُعَالَجَةِ قَالُوا : لَوْ شَرِبْتَ عَلَيْهِ قَدَحًا مِنْ مَاءٍ, فَأُتِيَ بِعُসٍّ مِنْ مَاءٍ فَشَرِبَ ثُمَّ تَقَيَّةً، فَمَا زَالَ يُعَالِجُ نَفْسَهُ حَتَّى نَبَذَهَا. فَقَالُوا: هَذَا مِنْ أَجْلِ هَذِهِ النُّقْمَةِ? قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: إِنَّ اللهَ تَعَالَى حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى كُلِّ جَسَدٍ تَغَذَّى أَوْ غُذِّيَ بِحَرَامٍ.
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. বলেন, হযরত আবূ বকর রাযি.-এর গোলাম প্রতিদিন নিজের উপার্জন থেকে খাবার নিয়ে আসত। সে নিজে তো খেয়ে নিত; কিন্তু হযরত আবূ বকর রাযি. জিজ্ঞাসাবাদ করে যতক্ষণ না সন্তুষ্ট হতেন, সে খাবার তিনি খেতেন না। একদিন ঘটনাক্রমে তিনি কিছু জিজ্ঞাসা না করেই এক লোকমা খেয়ে ফেললেন। গোলাম বলল, আপনি প্রতিদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু আজ কী হলো? তিনি বললেন, ক্ষুধার তাড়নায় এমনটা হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বলো, এই খাবার কীভাবে উপার্জন করলে? গোলাম বলল, ইসলাম গ্রহণের আগে আমি একটি গোত্রে ঝাড়ফুঁকের কাজ করেছিলাম। তারা আমাকে কিছু দেবে বলেছিল। আজ তাদের সেখানে একটি বিয়ের মজলিস দেখে তাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। এতে তারা আমাকে এই খাবার দিয়েছে। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর রাযি. ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়তে লাগলেন এবং খাবার উগরে ফেলার শত চেষ্টা করলেন। কিন্তু খালি পেটে কি বমি হয়? চেষ্টা করতে করতে চেহারার রং সবুজ ও কালো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও বমি হয়নি। পরে কেউ কেউ পরামর্শ দিল, এক পেয়ালা পানি পান করা হলে বমি হতে পারে। এক মশক পানি আনা হলো। তিনি তা পান করে করে বমি করতে লাগলেন। এভাবে সে লোকমাটি বের করে দিলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, এই এক লোকমা খাবারের জন্য এত কষ্ট! তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যার খাবার হারাম।
টিকাঃ
২৯৯. হাদীসটি আবু ইয়ালা, বাযযার ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। সনদের কতিপয় রাবীর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/২৯৩]।
📄 উপার্জন পবিত্র করা
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার উপার্জন হালাল করতে চায়, তার জন্য পাঁচটি করণীয় রয়েছে। যথা- ১. উপার্জন করতে গিয়ে কোনো ফরয আদায়ে বিলম্ব করবে না, বা তাতে কোনো ত্রুটি করবে না। ২. এর জন্য আল্লাহর কোনো সৃষ্টিকে কষ্ট দেবে না। ৩. উপার্জন দ্বারা নিজের এবং নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণ উদ্দেশ্য থাকবে; মাল সঞ্চয় করা উদ্দেশ্য থাকবে না। ৪. নিজের সাধ্যের বাইরে চেষ্টা করবে না। ৫. রিযিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করবে এবং উপার্জনকে রিজিক পাওয়ার একটি উপায় বা অবলম্বন বলে বিশ্বাস করবে।
📄 হারাম মাল আল্লাহর রাস্তায় কবুল হয় না
এক হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেছেন- مَنِ اكْتَسَبَ مَالًا مِنْ مَأْثَمِ فَتَصَدَّقَ بِهِ، أَوْ وَصَلَ بِهِ رَحِمًا، أَوْ أَنْفَقَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ جُمِعَ ذلِكَ كُلَّهُ وَأُلْقِيَ فِي النَّارِ। যে ব্যক্তি গুনাহের পথে মাল অর্জন করে, এরপর সেখান থেকে সদকা করে, বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে, কিংবা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, এই সবকিছু জমা করে আগুনে ঢেলে দেওয়া হবে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَقْبَلُ اللَّهُ حَجَّ رَجُلٍ، وَلَا عُمْرَتَهُ، وَلَا جِهَادَهُ، وَلَا صَدَقَتَهُ، وَلَا إِعَاقَتَهُ، وَلَا نَفَقَتَهُ مِنْ رِبَا، أَوْ رِشْوَةٍ، أَوْ خِيَانَةٍ، أَوْ غُلُولٍ، أَوْ سِرْقَةٍ، ثُمَّ قَالَ الْخَمْسُ بِالْخَمْسِ।
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. বলেন, যে ব্যক্তির উপার্জন সুদের মাধ্যমে হয়, বা ঘুসের মাধ্যমে হয়, বা খিয়ানতের মাধ্যমে হয়, কিংবা মালে-গনিমত বা অন্য কোনো মাল থেকে চুরির মাধ্যমে হয়, আল্লাহ তা'আলা তার হজ, উমরা, জিহাদ, সদকা, গোলাম আজাদ করা বা মাল খরচ করা, কোনোটাই কবুল করেন না। এরপর বলেন, পাঁচ ধরনের দোষের কারণে পাঁচ ধরনের আমল নষ্ট হয়ে যায়।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَكْسِبُ عَبْدُ مَالًا حَرَامًا، فَيَتَصَدَّقُ بِهِ، فَيُؤْجَرُ عَلَيْهِ، وَلَا يُنْفِقُ مِنْهُ، فَلَا يُبَارَكُ لَهُ فِيهِ، وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، إِذَا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّারِ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, বান্দা যে হারাম মালই উপার্জন করুক, তা যদি সদকা করে, তাতে সে সওয়াব পায় না; যদি ব্যয় করে, তাতে বরকত পায় না, মীরাস হিসেবে রেখে গেলে তা দোযখের ইন্ধন হয়। আল্লাহ তা'আলা মন্দকে মন্দ দ্বারা নয়, ভালো দ্বারা মিটিয়ে দেন।
টিকাঃ
৩০০. মারাসেলে আবী দাউদ: হাদীস-১৩১; হাদীসটি হাসান [সহীহুত তারগীব: হাদীস-১৭২০]
৩০১. মুসনাদে বাযযার ৫/৩৯২; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৩৬৭২; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৩০১; হাদীসটি জয়ীফ [আল-ইতহাফ: ১/৮২; শুয়াইব আরনাউত]
📄 বরকতময় মাল, নিকৃষ্ট ব্যবসায়ী ও উত্তম উপার্জন
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ : إِنَّمَا الْمَالُ مَالُ جَالِبِ، وَشَرُّ تُجَارِكُمُ الْمُقِيمُونَ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ الَّذِينَ يُمَارُونَكُمْ، وَتُمَارُونَهُمْ، وَتُخَالِفُونَهُمْ، وَيُحَالِفُونَكُمْ.
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, বরকতময় মাল তো সে ব্যবসায়ীর, যে বাহির থেকে আনে। নিকৃষ্ট ব্যবসায়ী সে, যে তোমাদের সাথে থাকে, আর বেচাকেনা করার সময় তোমাদের সাথেই ঝগড়া করে, আর তোমরাও তার সাথে ঝগড়া কর, সে তোমাদের থেকে শপথ নেয়, আর তোমরা তার থেকে।
عَنْ جَدِّهِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ قَالَ عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُلُّ بَيْعِ مَبْرُورٍ.
রাফে ইবনে খাদিজ রাযি. থেকে বর্ণিত। হুযুর ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি? তিনি বললেন, যা মানুষ নিজ হাতে উপার্জন করে; এবং প্রত্যেক এমন বেচাকেনা, যা খিয়ানত ও সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে মুক্ত।
عَنْ قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : كَانَ يُقَالُ : التَّاجِرُ الصَّدُوقُ تَحْتَ ظِلَّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
হযরত কাতাদা রহ. বলেন, এ কথাটি সবার মুখে মুখে আলোচিত ছিল যে, সত্যবাদী ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় থাকবে।
টিকাঃ
৩০২. মারাসীলে হাসান বসরীর অন্তর্ভুক্ত।
৩০৩. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১৫৮৩৬; সুনানে বাইহাকী ৫/২৬৩; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]
৩০৪. আত-তারগীব লিল-আসবাহানী হাদীস-৭৯৪; আত-তারগীব লিল-মুনযিরী: ৩/৩৮; হাদীসটি এই অর্থে সহীহ নয়। তবে সহীহ বর্ণনায় এসেছে, সৎ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিনে নবী, শহীদ ও সিদ্দীকদের সাথে থাকবে [সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১২০৯; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৫৮১]।