📄 আনুগত্যের চাবি
হযরত ইয়াহইয়া বিন মুআয রহ. বলেন, الطَّاعَةُ مَخْرُونَةٌ فِي خَزَائِنِ اللهِ تَعَالَى، وَمِفْتَاحُهَا الدُّعَاءُ، وَأَسْنَانُهَا لُقْمَةُ الْحَلَالِ অর্থাৎ, আনুগত্য আল্লাহর খাজানাগুলোর একটি। এর চাবি দোয়া এবং চাবির দাঁত হলো হালাল লোকমা।
হযরত আবূ শুবরুমা রহ. বলেন, الْعَجَبُ مِمَّنْ يَحْتَمِي مِنْ حَلَالٍ مَখَافَةَ الدَّاءِ، فَكَيْفَ لَا يَحْتَمِي بِالْحَرَامِ مَخَافَةَ النَّارِ অর্থাৎ, আমি ওই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্ময় বোধ করি, যে রোগের ভয়ে হালাল রিজিক ছেড়ে দেয়, কিন্তু জাহান্নামের ভয়ে হারাম ছাড়ে না।
📄 হালাল রিজিক অন্বেষণ
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَنْ يَمُوتَ حَتَّى يَسْتَکْمِلَ رِزْقَهُ، فَلَا تَسْتَبْطِئُوا الرِّزْقَ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ، فَخُذُوا مَا حَلَّ لَكُمْ، وَذَرُوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ
হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, হে লোকজন! রিজিক পূর্ণ করার পূর্বে তোমাদের কেউ মারা যাবে না। কাজেই রিজিককে বিলম্বিত মনে কর না। আল্লাহকে ভয় করতে থাকো এবং রিজিক অন্বেষণে উত্তম পন্থা অবলম্বন কর। যা হালাল, তা গ্রহণ কর; আর যা হারাম তা পরিত্যাগ কর।
জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, উপার্জনের ব্যাপারে মানুষ কয়েক ধরনের। যথা- ১. যারা রিজিককে নিজের মেহনতের ফল মনে করে। এরা কাফের। ২. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং নিজের উপার্জন মনে করে। এরা মুশরিক। ৩. যারা মনে করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের রিজিক দেবেন কি না; এরা সন্দেহকারী মুনাফিক। ৪. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করে; তবে তা অর্জনের ক্ষেত্রে পাপকর্ম করে এবং তার হক আদায় করে না। এরা ফাসেক। ৫. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করে, আর উপার্জনকে একটি উপায় মনে করে; সেটার হক আদায় করে এবং আল্লাহর নাফরমানি করে না। এরা খালেস মুমিন।
টিকাঃ
২৯৮. মুয়াত্তা মালেক হাদীস-২৬২৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২১৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৩২৩৯; হাদীসটি সহীহ আত-তামহীদ: ২৪/৪৩৫; সহীহুত তারগীব: হাদীস-১৭০১]।
📄 যার খাবার হারাম, তার জন্য জান্নাত হারাম
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : كَانَ لِأَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، غُلَامٌ يَأْتِيهِ كُلَّ لَيْلَةٍ بِغَلَّتِهِ طَعَامًا يَأْكُلُهُ ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، لَا يَأْكُلُهُ حَتَّى يَسْأَلَهُ مِنْ أَيْنَ اکْتَسَبَهُ؟ وَمِنْ أَيْنَ أَصَابَهُ؟ قَالَ: فَجَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ بِطَعَامٍ فَضَرَبَ يَدَهُ إِلَيْهِ فَأَকَلَ لُقْمَةً مِنْ غَيْرِ أَنْ يَسْأَلَهُ، قَالَ الْغُلَامُ: قَدْ كُنْتَ تَسْأَلُنِي كُلَّ لَيْلَةٍ غَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، فَإِنَّكَ لَمْ تَسْأَلْنِي قَالَ : وَيْحَكَ الْجُوعُ حَمَلَنِي، وَيْحَكَ أَخْبِرْنِي مِنْ أَيْنَ جِئْتَ بِهِ. قَالَ: كُنْتُ رَقَيْتُ لِأُنَاسٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَوَعَدُونِي عَلَيْهِ عِدَةً, فَرَأَيْتُ عِنْدَهُمْ وَلِيمَةً، فَذَكَّرْتُهُمْ وَعْدَهُمُ الَّذِي وَعَدُونِي، فَأَعْطَوْنِي هُذَا الطَّعَامَ. فَاسْتَرْجَعَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عِنْدَ ذَلِكَ ثُمَّ أَخَذَ يَتَقَيَّةُ، فَكَابَدَ وَجَاهَدَ نَفْسَهُ أَنْ يَنْزِعَ اللُّقْمَةَ مِنْ بَطْنِهِ، فَلَمْ يَقْدِرْ حَتَّى اخْضَرَّ وَاسْوَدَّ مِنَ الْجَهْدِ، فَلَمْ يَقْدِرُ، فَلَمَّا رَأَوْا مَا يَلْقَى مِنَ الْمُعَالَجَةِ قَالُوا : لَوْ شَرِبْتَ عَلَيْهِ قَدَحًا مِنْ مَاءٍ, فَأُتِيَ بِعُসٍّ مِنْ مَاءٍ فَشَرِبَ ثُمَّ تَقَيَّةً، فَمَا زَالَ يُعَالِجُ نَفْسَهُ حَتَّى نَبَذَهَا. فَقَالُوا: هَذَا مِنْ أَجْلِ هَذِهِ النُّقْمَةِ? قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: إِنَّ اللهَ تَعَالَى حَرَّمَ الْجَنَّةَ عَلَى كُلِّ جَسَدٍ تَغَذَّى أَوْ غُذِّيَ بِحَرَامٍ.
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি. বলেন, হযরত আবূ বকর রাযি.-এর গোলাম প্রতিদিন নিজের উপার্জন থেকে খাবার নিয়ে আসত। সে নিজে তো খেয়ে নিত; কিন্তু হযরত আবূ বকর রাযি. জিজ্ঞাসাবাদ করে যতক্ষণ না সন্তুষ্ট হতেন, সে খাবার তিনি খেতেন না। একদিন ঘটনাক্রমে তিনি কিছু জিজ্ঞাসা না করেই এক লোকমা খেয়ে ফেললেন। গোলাম বলল, আপনি প্রতিদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু আজ কী হলো? তিনি বললেন, ক্ষুধার তাড়নায় এমনটা হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বলো, এই খাবার কীভাবে উপার্জন করলে? গোলাম বলল, ইসলাম গ্রহণের আগে আমি একটি গোত্রে ঝাড়ফুঁকের কাজ করেছিলাম। তারা আমাকে কিছু দেবে বলেছিল। আজ তাদের সেখানে একটি বিয়ের মজলিস দেখে তাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। এতে তারা আমাকে এই খাবার দিয়েছে। এ কথা শুনে হযরত আবূ বকর রাযি. ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়তে লাগলেন এবং খাবার উগরে ফেলার শত চেষ্টা করলেন। কিন্তু খালি পেটে কি বমি হয়? চেষ্টা করতে করতে চেহারার রং সবুজ ও কালো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও বমি হয়নি। পরে কেউ কেউ পরামর্শ দিল, এক পেয়ালা পানি পান করা হলে বমি হতে পারে। এক মশক পানি আনা হলো। তিনি তা পান করে করে বমি করতে লাগলেন। এভাবে সে লোকমাটি বের করে দিলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, এই এক লোকমা খাবারের জন্য এত কষ্ট! তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যার খাবার হারাম।
টিকাঃ
২৯৯. হাদীসটি আবু ইয়ালা, বাযযার ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। সনদের কতিপয় রাবীর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/২৯৩]।
📄 উপার্জন পবিত্র করা
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার উপার্জন হালাল করতে চায়, তার জন্য পাঁচটি করণীয় রয়েছে। যথা- ১. উপার্জন করতে গিয়ে কোনো ফরয আদায়ে বিলম্ব করবে না, বা তাতে কোনো ত্রুটি করবে না। ২. এর জন্য আল্লাহর কোনো সৃষ্টিকে কষ্ট দেবে না। ৩. উপার্জন দ্বারা নিজের এবং নিজের পরিবারের ভরণ-পোষণ উদ্দেশ্য থাকবে; মাল সঞ্চয় করা উদ্দেশ্য থাকবে না। ৪. নিজের সাধ্যের বাইরে চেষ্টা করবে না। ৫. রিযিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করবে এবং উপার্জনকে রিজিক পাওয়ার একটি উপায় বা অবলম্বন বলে বিশ্বাস করবে।