📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর সামনে উপস্থিতি

📄 আল্লাহর সামনে উপস্থিতি


عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَا مِنْ عَبْدٍ إِلَّا وَইُعْرَضُ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَلَا تَزُولُ قَدَمَاهُ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعِ خِصَالٍ . عَنْ جَسَدِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ ، وَعَنْ عُمْرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ عِلْمِهِ كَيْفَ عَمِلَ بِهِ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَأَيْنَ أَنْفَقَهُ

হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেকেই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। আর চারটি প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মুক্তি পাবে না। যথা- ১. দৈহিক শক্তি কীসে ব্যয় করেছে? ২. আয়ু কোন কাজে লাগিয়েছে? ৩. নিজের ইলম অনুযায়ী কী আমল করেছেন? ৪. এবং মাল কীভাবে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।

টিকাঃ
২৯৭. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৪১৬; সুনানে দারেমী হাদীস-৫৫৪; এটি মূলত তিরমিযীতে বর্ণিত হাদীসেরই মর্মকথা। হাদীসটি হলো-

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুমিন ও মুনাফিকের দুনিয়া

📄 মুমিন ও মুনাফিকের দুনিয়া


জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, দুনিয়ায় মুনাফিকরা যা-কিছু অর্জন করে, তা লোভ নিয়ে করে। সন্দেহের কারণে ব্যয় করে না। যদি কখনো করেও, তাহলে লোক দেখানোর জন্য করে। আর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মুমিন ব্যক্তি ভয়ে ভয়ে দুনিয়া গ্রহণ করে; কৃতজ্ঞতা হিসেবে নিকটে রাখে এবং যখন ব্যয় করে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আনুগত্যের চাবি

📄 আনুগত্যের চাবি


হযরত ইয়াহইয়া বিন মুআয রহ. বলেন, الطَّاعَةُ مَخْرُونَةٌ فِي خَزَائِنِ اللهِ تَعَالَى، وَمِفْتَاحُهَا الدُّعَاءُ، وَأَسْنَانُهَا لُقْمَةُ الْحَلَالِ অর্থাৎ, আনুগত্য আল্লাহর খাজানাগুলোর একটি। এর চাবি দোয়া এবং চাবির দাঁত হলো হালাল লোকমা।

হযরত আবূ শুবরুমা রহ. বলেন, الْعَجَبُ مِمَّنْ يَحْتَمِي مِنْ حَلَالٍ مَখَافَةَ الدَّاءِ، فَكَيْفَ لَا يَحْتَمِي بِالْحَرَامِ مَخَافَةَ النَّارِ অর্থাৎ, আমি ওই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্ময় বোধ করি, যে রোগের ভয়ে হালাল রিজিক ছেড়ে দেয়, কিন্তু জাহান্নামের ভয়ে হারাম ছাড়ে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হালাল রিজিক অন্বেষণ

📄 হালাল রিজিক অন্বেষণ


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَنْ يَمُوتَ حَتَّى يَسْتَکْمِلَ رِزْقَهُ، فَلَا تَسْتَبْطِئُوا الرِّزْقَ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ، فَخُذُوا مَا حَلَّ لَكُمْ، وَذَرُوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ

হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, হে লোকজন! রিজিক পূর্ণ করার পূর্বে তোমাদের কেউ মারা যাবে না। কাজেই রিজিককে বিলম্বিত মনে কর না। আল্লাহকে ভয় করতে থাকো এবং রিজিক অন্বেষণে উত্তম পন্থা অবলম্বন কর। যা হালাল, তা গ্রহণ কর; আর যা হারাম তা পরিত্যাগ কর।

জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, উপার্জনের ব্যাপারে মানুষ কয়েক ধরনের। যথা- ১. যারা রিজিককে নিজের মেহনতের ফল মনে করে। এরা কাফের। ২. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং নিজের উপার্জন মনে করে। এরা মুশরিক। ৩. যারা মনে করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের রিজিক দেবেন কি না; এরা সন্দেহকারী মুনাফিক। ৪. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করে; তবে তা অর্জনের ক্ষেত্রে পাপকর্ম করে এবং তার হক আদায় করে না। এরা ফাসেক। ৫. যারা রিজিককে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করে, আর উপার্জনকে একটি উপায় মনে করে; সেটার হক আদায় করে এবং আল্লাহর নাফরমানি করে না। এরা খালেস মুমিন।

টিকাঃ
২৯৮. মুয়াত্তা মালেক হাদীস-২৬২৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২১৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৩২৩৯; হাদীসটি সহীহ আত-তামহীদ: ২৪/৪৩৫; সহীহুত তারগীব: হাদীস-১৭০১]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px