📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হালাল উপার্জনের জন্য কাজ

📄 হালাল উপার্জনের জন্য কাজ


عَنْ مَكْحُولِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: إِيَّاكُمْ أَنْ تَكُونُوا عَيَّابِينَ، أَوْ مَدَّاحِينَ، أَوْ طَعَانِينَ، أَوْ مُتَمَاوِتِينَ.

হযরত মাকহুল রহ. বলেন, তোমরা নিন্দাকারী হয়ো না; তোষামোদকারী হয়ো না; তিরস্কারকারী হয়ো না এবং মৃত ব্যক্তির মত বেকার পড়ে থেকো না।

টিকাঃ
২৯০. মুসনাদে শিহাব: হাদীস-৯৪০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর রাস্তায় আমল

📄 আল্লাহর রাস্তায় আমল


عَنْ أَبِي الْمُخَارِقِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ مَعَ أَصْحَابِهِ، إِذْ مَرَّ عَلَيْهِمْ أَعْرَابِيُّ شَابٌّ جَلْدٌ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: وَيْحَهُ لَوْ كَانَ شَبَابُهُ، وَقُوَّتُهُ فِي سَبِيلِ اللهِ، كَانَ أَعْظَم لِأَجْرِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنْ كَانَ يَسْعَى عَلَى أَبَوَيْنِ كَبِيرَيْنِ لِيُعِينَهُمَا ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَإِنْ كَانَ يَسْعَى عَلَى أَوْلَادِهِ الصَّغَارِ، فَهُوَ فِي سَبِিলِ اللَّهِ، وَإِنْ كَانَ يَسْعَى عَلَى نَفْسِهِ لِيَسْتَغْنِي عَنِ النَّاسِ، فَهُوَ فِي سَبِিলِ اللَّهِ، وَإِنْ كَانَ يَسْعَى رِيَاءٌ، وَسُمْعَةً، فَهُوَ فِي سَبِিলِ الشَّيْطَانِ.

আবুল মুখারিক রহ. বলেন, একবার রাসূল তার সঙ্গীদের সাথে বসা ছিলেন। এই সময় এক শক্তসমর্থ যুবক তাদের নিকট দিয়ে অতিক্রান্ত হলো। তাকে দেখে হযরত আবু বকর এবং উমর রাযি. বললেন, আহ! যদি এই যুবক তার শক্তি-সামর্থ্য আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করত! তাহলে তা সওয়াব লাভের মহান একটি মাধ্যম হতো। তখন রাসূল বললেন, এই ব্যক্তি যদি তার বৃদ্ধ পিতা- মাতাকে সহযোগিতা করে, তা হলে তার এ-কাজটিও আল্লাহর রাস্তায় হবে। যদি সে তার ছোট বাচ্চাদের জন্য পরিশ্রম করে তাহলে তা আল্লাহর রাস্তায় হবে। যদি সে অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বাঁচার জন্য উপার্জন করে, তাহলে এটাও আল্লাহর রাস্তায় হবে। আর যদি এই সব কাজ সে লোক দেখানোর জন্য করে থাকে, তা হলে তা হবে শয়তানের রাস্তায়।

وعন ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُحِبُّ كُلُّ مُؤمِنٍ مُحترف أبا العيال، ولا يحب الفارع الصحيح، لا في عمل الدنيا ولا في عمل الآخرة.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বহু সন্তান-সন্তুতির অধিকারী উপার্জনকারী মুমিন বান্দাকে পছন্দ করেন। তিনি অবসর গ্রহণ করে সুস্থ শরীরে ঘরে বসে থাকা এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে দুনিয়ার কাজও করে না, আখেরাতের কাজও না।"

টিকাঃ
২৯১. ত্ববারানী কাবীর : ১৯/১২৯; সনদ সহীহ [আত-তারগীব লি-মুনযিরী: ৩/৮১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/৩২৫]।
২৯২. তুবারানী আওসাত: ৪/৩৮০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৪/৬৬; হাদীসটি জয়ীফ [তাখরীজুল কাশশাফ: ৪/২৩৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী

📄 আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী


عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَخْرُجُ إِلَى السُّوقِ وَيَشْتَرِي حَوَائِجَ أَهْلِهِ، فَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، فَقَالَ، مَنْ سَعَى عَلَى عِيَالِهِ لِيَكُفَّهُمْ عَنِ النَّاسِ، فَهُوَ فِي سَبِিলِ اللَّهِ.

হযরত জাফর বিন মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল নিজেই বাজারে গিয়ে পরিবারের লোকজনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনতেন। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম আমাকে বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য কাজকর্ম করে, যেন তাদের অন্যের মুখাপেক্ষী হতে না হয়, তাহলে এই ব্যক্তিকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী বলে গণ্য করা হয়।

টিকাঃ
২৯৩. ত্ববারানী আওসাত: ৪/২৮৪; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/২১২; হাদীসটি সহীহ (সিলসিলা সহীহা: হাদীস-২২৩২]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দারিদ্র্য ও উপার্জন

📄 দারিদ্র্য ও উপার্জন


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَسَأَلَ مِنْهُ حَاجَةً فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ : أَوَ مَا فِي بَيْتِكَ شَيْءٌ؟ قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، حِلْسٌ قَدْ تَحَرَّقَ بَعْضُهُ، وَنَحْنُ نَجْلِسُ عَلَيْهِ، وَنَنَامُ فِيهِ وَنَجْعَلُ بَعْضَهُ تَحْتَنَا، وَبَعْضَهُ فَوْقَنَا، وَقَصْعَةٌ نَأْكُلُ فِيهَا، وَنَشْرَبُ فِيهَا، وَنَغْسِلُ فِيهَا رُءُوسَنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ائْتِنِي بِهِمَا جَمِيعًا। فَأَتَاهُ بِهِمَا فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ وَقَالَ: مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا أَخُذُهُمَا بِدِرْهَم. فَقَالَ: أَلَا مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَم مَرَّتَيْنِ؟ فَقَالَ رَجُلٌ آخَرুর: أَنَا أَخُذُهُمَا بِدِرْهَمَيْنِ فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ، وَقَبَضَ الدَّرْهَمَيْنِ، وَدَفَعَهُمَا إِلَى الرَّجُلِ وَقَالَ لَهُ: اشْتَرِ بِأَحَدِهِمَا طَعَامًا، وَاحِمِلْهُ إِلَى مَنْزِلِكَ، وَاشْتَرِ بِالْآخَرِ قَدُومًا، وَائْتِنِي بِهِ। فَأَتَاهُ فَشَدَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عُودًا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ : انْطَلِقُ وَاحْتَطِبْ وَبِعْ وَلَا أَرَاكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا، فَذَهَبَ، وَاكْتَسَبَ عَشْرَةَ دَرَاهِمَ فَاشْتَرَى بِبَعْضِهَا طَعَامًا، وَبِبَعْضِهَا ثَوْبًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: أَلَيْسَ هُذَا خَيْرًا لَكَ مِنْ أَنْ تَجِيءَ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، وَمَسْأَلَتُكَ فِي وَجْهِكَ نُكْتَةً سَوْدَاءَ، لَا يَمْحُوهَا إِلَّا النَّارُ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল-এর দরবারে উপস্থিত হলো এবং কোনো এক প্রয়োজনের কথা বলে তার নিকট সাহায্য চাইল। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার ঘরে কি কিছুই নেই? সে বলল, কেন নয়? হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট একটি মোটা চাদর আছে। সেটার ওপর আমরা বসি; সেটা বিছিয়ে ঘুমাই এবং কিছুটা নীচে দেই এবং কিছুটা ওপরে দেই। আর একটি পেয়ালা আছে। সেটা দিয়ে আমরা পানাহার করি এবং গোসল করি। রাসূল বলেন, সে-দুটো নিয়ে এসো! ওই ব্যক্তি জিনিস-দুটো নিয়ে এল। নবীজীর হাতে নিয়ে বললেন, এ-দুটো কে কিনবে? এক ব্যক্তি বলল, এক দিরহামে আমি কিনলাম। রাসূল বললেন, এক দিরহামের বেশি দেওয়ার মতো কেউ আছে কি? এ কথা দু'বার বললেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, এ-দুটো আমি দু'দিরহামে কিনলাম। রাসূল সে-দুটো তাকে দিয়ে তার থেকে দু' দিরহাম নিলেন। আর দিরহাম-দুটো ওই ব্যক্তির হাতে দিয়ে বললেন, এক দিরহামের খাবার কিনে বাড়ি নিয়ে যাও। আরেক দিরহাম দিয়ে কুড়াল কিনে আমার নিকট নিয়ে এসো। সে ব্যক্তি কুড়াল নিয়ে এলে তিনি নিজ হাতে কুড়ালে হাতল লাগিয়ে দিলেন। এরপর বললেন, যাও! কাঠ সংগ্রহ কর। পনেরো দিন যেন তোমাকে না দেখি। ওই ব্যক্তি গিয়ে দশ দিরহাম উপার্জন করল। তার কিছুটা দিয়ে খাবার এবং কিছুটা দিয়ে কাপড় ক্রয় করল। তখন রাসূল তাকে বললেন, এটা কি তোমার জন্য এর থেকে ভালো নয় যে, কিয়ামতের দিন তুমি ভিক্ষার দাগ নিয়ে উঠবে, যা জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই মেটাতে পারবে না?

টিকাঃ
২৯৪. সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-১৬৪১; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-২১৯৮; সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১২১৮; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px