📄 শান্তি ও ইবাদত
عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْعAFِيَةَ عَشَرَةُ أَجْزَاءٍ ، تِسْعَةً فِي السُّكُوتِ ، وَوَاحِدَةً فِي الْفِرَارِ مِنَ النَّاسِ ، وَالْعِبَادَةَ عَشَرَةُ أَجْزَاءٍ ، تِسْعَةٌ فِي طَلَبِ الْمَعِيشَةِ ، وَوَاحِدَةُ فِي الْعِبَادَةِ
হযরত সাবিত বুনানী রহ. বলেন, আমার নিকট এই মর্মে একটি রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, শান্তির দশটি ভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে নয়টিই হলো নীরব থাকার মধ্যে; আর এক ভাগ হলো মানুষ থেকে দূরে থাকার মধ্যে। আর ইবাদতেরও দশটি ভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে নয় ভাগ হলো জীবিকা অর্জনে, আর এক ভাগ হলো খালেস ইবাদতের মধ্যে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَا فَتَحَ الرَّجُلُ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ بَابَ الْفَقْرِ ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ ، لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلًا فَيَعْمِدَ إِلى هُذَا الْوَادِي فَيَحْتَطِبَ فِيهِ ، ثُمَّ يَأْتِي سُوقَكُمْ هَذَا ، فَيَبِيعَهُ بِمُدَّ مِنْ تَمْرٍ لَكَانَ خَيْرًا لَهُ مِنْ অَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ.
হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের জন্য হাত পাতার দরজা খুলে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য দারিদ্র্যের দরজা খুলে দেন। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বাঁচতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে বাঁচিয়ে নেন। যে ব্যক্তি ধনী হতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে ধনী করে দেন। কেউ একটি রশি নিয়ে উপত্যকায় গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে এক মুদ্দ খেজুরের বিনিময়ে বাজারে বিক্রয় করল। এটা লোকদের নিকট হাতপাতা থেকে উত্তম, যারা তাকে দিতেও পারে, আবার নিষেধও করতে পারে।
রাসূল ইরশাদ করেছেন, তোমরা কাপড়ের ব্যবসা কর। কারণ, তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম কাপড়ের ব্যবসা করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ زَكَرِيَّا عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كَانَ نَجَارًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস্ সালাম কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ يَخْطُبُ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَإِنَّ فِي يَدِهِ لَخُوصًا يَعْمَلُ بِهِ الْقَفَّةَ أَوْ بَعْضَ مَا يَعْمَلُ، فَإِذَا فَرَغَ تَاوَ لَهُ إِنْسَانًا، وَقَالَ : اذْহَبْ بِهِ وَبِعْهُ.
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম যখন খুতবা দিতেন, তখন তার হাতে খেজুরের পাতা থাকত। তা দিয়ে তিনি ঝুড়ি ইত্যাদি বানাতেন। বানানো শেষে কাউকে দিয়ে বলতেন, এটা বিক্রয় করে এসো।
টিকাঃ
২৮৫. সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৩৩৮৭; মুসনাদে উমার, ত্ববারানী ১/১৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৯৪২১; সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪৮০; সনদ শক্তিশালী [শুয়াইব আরনাউত]।।
২৮৬. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৯/৬৩।
২৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২১৫০।
📄 হযরত উমর রাযি.-এর উক্তি
وَلَوْ بَسَطَ اللهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لَبَغَوْا فِي الْأَرْضِ ইবরাহিম রহ. বলেন, যদি কামাই ছাড়াই আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের রিজিক দিয়ে দিতেন, তা হলে তারা অবসর সময় পেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে রিজিকের কাজে ব্যস্ত রেখেছেন, যার ফলে তারা বিশৃঙ্খলার সময় পায় না। হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব রহ. বলেন, সে ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে হালাল উপায়ে মাল উপার্জন করে মালের হক আদায় করে না এবং তা দিয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করে না।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْفُقَرَاءِ ارْفَعُوا رُؤُوسَكُمْ، وَاتَّجِرُوا فَقَدْ وَضَحَ الطَّرِيقُ، وَلَا تَكُونُوا عِيَالًا عَلَى النَّাসِ وَرَوَى الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ عُمَرُ يَأْمُرُنَا أَنْ نَشْتَرِكَ ثَلَاثَةً فَيَجْلِبَ وَاحِدٌ، وَيَبِيعَ الْآخَرُ، وَيَغْزُوَ الثَّالِثُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى.
হযরত উমর রাযি. বলতেন, গরিব ও নিঃস্ব লোকেরা! তোমরা মাথা তুলে দাঁড়াও, ব্যবসায় লেগে যাও। কারণ, এটা একটি সহজ পথ। কারো ওপর বোঝা হয়ে থেকো না। আবু সালেহ রহ. বলেন, হযরত উমর রাযি. আমাদের পরামর্শ দিতেন, তিন ব্যক্তি মিলে যেন ব্যবসা করি। একজন পণ্য নিয়ে আসবে; একজন বিক্রয় করবে এবং আরেকজন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যাবে। আওয়াম বিন হাওশাব রহ. বলেন, আবূ সালেহ আমার নিকট এই কথাটি তখন বলেছেন যখন আমি সীমান্তে পাহারায় ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, আমরা তিন অংশীদার। আর এখন আমার জিহাদে আসার পালা।
📄 হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ.-এর উক্তি
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহ. বলেন, যে ব্যক্তি বাজার ছেড়ে দেয়, তার পৌরুষ নিস্তেজ হয়ে যায় এবং চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়। মুহাম্মদ বিন সালামাকে ইবরাহীম বিন ইউসুফ রহ. বলেছিলেন, তুমি অবশ্যই বাজারে আসা-যাওয়া বহাল রাখবে। কারণ, এতে আত্মিক মর্যাদা টিকে থাকে।
📄 চারা বপন করা
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : مَنْ غَرَسَ غَرْسًا، أَوْ زَرَعَ زَرْعًا فَأَكَلَ مِنْهُ إِنْسَانٌ أَوْ دَابَّةٌ أَوْ طَيْرٌ أَوْ سَبْعٌ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةً.
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. হতে বর্ণিত রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো চারা রোপণ করে, বা শস্য চাষ করে, যা থেকে কোনো মানুষ খায়, কিংবা কোনো প্রাণী বা পাখি উপকৃত হয়, তা ওই ব্যক্তির জন্য সদকা স্বরূপ হয়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَوْ قَامَتِ الْقِيَامَةُ وَفِي يَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ لَا يَقُومَ حَتَّى يَغْرِسَهَا فَلْيَفْعَلْ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. সূত্রে বর্ণিত হাদীসে নবীজী ইরশাদ করেছেন, যদি কিয়ামত শুরু হয়ে যায়, আর তখন কারো হাতে চারা থাকে যা সে রোপন করার জন্য নিয়েছিল, তা হলে তা লাগিয়েই ওঠা চাই।
টিকাঃ
২৮৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৫২; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৫২০১; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৬৫২
২৮৯. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-১২৯৮১; মুসনাদে তওয়ালিসী হাদীস-২১৮১। হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/৬৩; শুয়াইব আরনাউত]।