📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হালাল উপার্জনের উদ্দেশ্য

📄 হালাল উপার্জনের উদ্দেশ্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا اسْتِعْفَافًا عَنِ الْمَسْأَلَةِ وَسَعْيًا عَلَى أَهْلِهِ، وَتَعَطَّفًا عَلَى جَارِهِ، بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَوَجْهُهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا، مُكَاثِرًا، مُفَاخِرًا، مُرَائِيًا لَقِيَ اللَّهَ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে হালাল উপার্জন করে যে, মানুষের নিকট হাত পাততে হবে না, পরিবারের লোকদের জন্য কিছু অর্জন করা যাবে, প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা যাবে, কিয়ামতের দিন সে যখন উঠবে, তখন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্যে হালাল উপার্জন করে যে, প্রচুর সম্পদ সঞ্চয় করবে, অন্যদের ওপর অহংকার করবে, কিয়ামতের দিন সে যখন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন।

টিকাঃ
২৮২. হিলইয়াতুল আউলিয়া: হাদীস-৩, পৃষ্ঠা-১১০; শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৩৭৪; হাদীসটি জয়ীফ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা

📄 হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা


কথিত আছে, হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম ঘর থেকে তাঁর পোশাক পরিবর্তন করে ছদ্মবেশে বের হতেন এবং যার সাথেই সাক্ষাৎ হতো, তাকে নিজের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করতেন। সেরূপ একদিন তিনি বের হলে পথে এক যুবকের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, যুবক দাউদের ব্যাপারে তোমার কী মত? সে বলল, মানুষটা তো ভালো। কিন্তু সে কিনা বাইতুল মাল থেকে খায়। অথচ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সে, যে নিজের হাতের উপার্জন খায়। এ কথা শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেহরাবে ফিরে এলেন। আল্লাহর দরবারে অনেক রোনাজারি করলেন। দোয়া করলেন আল্লাহ! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও, যা আমি নিজ হাতে করব এবং মুসলমানদের বাইতুল মাল থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাব। এতে আল্লাহ তা'আলা তাকে লৌহবর্ম বানানো শিখিয়ে দিলেন। তার হাতে লোহা পড়লে মোমের মত নরম হয়ে যেত। তিনি রাজ্যের ও বাড়ির প্রয়োজনীয় কাজ থেকে অবসর হলে বর্ম বানাতে বসে যেতেন। সেগুলো বিক্রয় করে নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। সে কথাই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- وَالنَّالَهُ الْجَدِيدُ 'তার জন্য আমি লোহা নরম করে দিয়েছি।' وَ عَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِنْ بَأْسِكُمْ ‘আর তাকে আমি তোমাদের জন্য একটি পোশাক বানানো শিখিয়ে দিয়েছি, যা তোমাদেরকে যুদ্ধের ময়দানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে।

টিকাঃ
২৮৩. সূরা সাবা: আয়াত-১০
২৮৪. সূরা আম্বিয়া: আয়াত-৮০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শান্তি ও ইবাদত

📄 শান্তি ও ইবাদত


عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ الْعAFِيَةَ عَشَرَةُ أَجْزَاءٍ ، تِسْعَةً فِي السُّكُوتِ ، وَوَاحِدَةً فِي الْفِرَارِ مِنَ النَّاسِ ، وَالْعِبَادَةَ عَشَرَةُ أَجْزَاءٍ ، تِسْعَةٌ فِي طَلَبِ الْمَعِيشَةِ ، وَوَاحِدَةُ فِي الْعِبَادَةِ

হযরত সাবিত বুনানী রহ. বলেন, আমার নিকট এই মর্মে একটি রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, শান্তির দশটি ভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে নয়টিই হলো নীরব থাকার মধ্যে; আর এক ভাগ হলো মানুষ থেকে দূরে থাকার মধ্যে। আর ইবাদতেরও দশটি ভাগ রয়েছে। তন্মধ্যে নয় ভাগ হলো জীবিকা অর্জনে, আর এক ভাগ হলো খালেস ইবাদতের মধ্যে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَا فَتَحَ الرَّجُلُ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ بَابَ الْفَقْرِ ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ ، لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلًا فَيَعْمِدَ إِلى هُذَا الْوَادِي فَيَحْتَطِبَ فِيهِ ، ثُمَّ يَأْتِي سُوقَكُمْ هَذَا ، فَيَبِيعَهُ بِمُدَّ مِنْ تَمْرٍ لَكَانَ خَيْرًا لَهُ مِنْ অَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ.

হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের জন্য হাত পাতার দরজা খুলে নেয়, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য দারিদ্র্যের দরজা খুলে দেন। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বাঁচতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে বাঁচিয়ে নেন। যে ব্যক্তি ধনী হতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে ধনী করে দেন। কেউ একটি রশি নিয়ে উপত্যকায় গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে এক মুদ্দ খেজুরের বিনিময়ে বাজারে বিক্রয় করল। এটা লোকদের নিকট হাতপাতা থেকে উত্তম, যারা তাকে দিতেও পারে, আবার নিষেধও করতে পারে।

রাসূল ইরশাদ করেছেন, তোমরা কাপড়ের ব্যবসা কর। কারণ, তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম কাপড়ের ব্যবসা করেছেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ زَكَرِيَّا عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كَانَ نَجَارًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস্ সালাম কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ يَخْطُبُ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَإِنَّ فِي يَدِهِ لَخُوصًا يَعْمَلُ بِهِ الْقَفَّةَ أَوْ بَعْضَ مَا يَعْمَلُ، فَإِذَا فَرَغَ تَاوَ لَهُ إِنْسَانًا، وَقَالَ : اذْহَبْ بِهِ وَبِعْهُ.
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম যখন খুতবা দিতেন, তখন তার হাতে খেজুরের পাতা থাকত। তা দিয়ে তিনি ঝুড়ি ইত্যাদি বানাতেন। বানানো শেষে কাউকে দিয়ে বলতেন, এটা বিক্রয় করে এসো।

টিকাঃ
২৮৫. সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৩৩৮৭; মুসনাদে উমার, ত্ববারানী ১/১৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৯৪২১; সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪৮০; সনদ শক্তিশালী [শুয়াইব আরনাউত]।।
২৮৬. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৯/৬৩।
২৮৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২১৫০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত উমর রাযি.-এর উক্তি

📄 হযরত উমর রাযি.-এর উক্তি


وَلَوْ بَسَطَ اللهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لَبَغَوْا فِي الْأَرْضِ ইবরাহিম রহ. বলেন, যদি কামাই ছাড়াই আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের রিজিক দিয়ে দিতেন, তা হলে তারা অবসর সময় পেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে রিজিকের কাজে ব্যস্ত রেখেছেন, যার ফলে তারা বিশৃঙ্খলার সময় পায় না। হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব রহ. বলেন, সে ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে হালাল উপায়ে মাল উপার্জন করে মালের হক আদায় করে না এবং তা দিয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করে না।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا مَعْشَرَ الْفُقَرَاءِ ارْفَعُوا رُؤُوسَكُمْ، وَاتَّجِرُوا فَقَدْ وَضَحَ الطَّرِيقُ، وَلَا تَكُونُوا عِيَالًا عَلَى النَّাসِ وَرَوَى الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ عُمَرُ يَأْمُرُنَا أَنْ نَشْتَرِكَ ثَلَاثَةً فَيَجْلِبَ وَاحِدٌ، وَيَبِيعَ الْآخَرُ، وَيَغْزُوَ الثَّالِثُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى.

হযরত উমর রাযি. বলতেন, গরিব ও নিঃস্ব লোকেরা! তোমরা মাথা তুলে দাঁড়াও, ব্যবসায় লেগে যাও। কারণ, এটা একটি সহজ পথ। কারো ওপর বোঝা হয়ে থেকো না। আবু সালেহ রহ. বলেন, হযরত উমর রাযি. আমাদের পরামর্শ দিতেন, তিন ব্যক্তি মিলে যেন ব্যবসা করি। একজন পণ্য নিয়ে আসবে; একজন বিক্রয় করবে এবং আরেকজন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যাবে। আওয়াম বিন হাওশাব রহ. বলেন, আবূ সালেহ আমার নিকট এই কথাটি তখন বলেছেন যখন আমি সীমান্তে পাহারায় ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, আমরা তিন অংশীদার। আর এখন আমার জিহাদে আসার পালা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px