📄 ইলমের উদ্দেশ্য হলো তদানুযায়ী আমল করা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لَأَرْبَعِ دَخَلَ النَّارَ أَوْ نَحْوَ هَذِهِ الْكَلِمَةِ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ لِيَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَوْ لِيَأْخُذَ بِهِ مِنَ الأَمَرَاءِ .
হযরত আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি চার কারণে ইলম অর্জন করবে, সে জাহান্নামী। যথা- ১. আহলে ইলমের সাথে তর্ক করা। ২. মূর্খদের সাথে তর্ক করা। ৩. মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা। ৪. আমিরদের থেকে সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ করা।
সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন, ইলমের কয়েকটি স্তর রয়েছে। যথা- ১. প্রথম স্তর হলো, নীরবতা অবলম্বন করা। ২. দ্বিতীয় স্তর হলো, মনোযোগ দিয়ে শোনা। ৩. তৃতীয় স্তর হলো, হিফজ করা। ৪. চতুর্থ স্তর হলো, তদানুযায়ী আমল করা। ৫. পঞ্চম স্তর হলো, তার প্রচার-প্রসার করা।
হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন- كُنْ عَالِمًا، أَوْ مُتَعَلِّمًا، أَوْ مُسْتَمِعًا، وَلَا تَكُنِ الرَّابِعَ فَتَهْلِكُ
আলেম হও বা তালেবে ইলম হও, কিংবা ইলম শ্রবণকারী হও। এই তিনটির একটিও না হতে পারলে তুমি ধ্বংস হলে।
টিকাঃ
২৫২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬৫৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২৫৩; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৬১; হাদীসটি সহীহ।
📄 আলেমের প্রকারভেদ
আলেম তিন ধরনের। যথা-
১. عَالِمٌ بِاللَّهِ وَعَالَمُ بِأَمْرِ اللَّهِ অর্থাৎ, যারা আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে জানে।
২. عَالِمٌ بِاللَّهِ وَلَيْسَ عَالِمًا بِأَمْرِ اللَّهِ অর্থাৎ, যারা আল্লাহকে ভয় করে কিন্তু তাঁর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে জানে না।
৩. عَالَمُ بِأَمْرِ اللَّهِ وَلَيْسَ بِعَالِمٍ بِاللَّهِ অর্থাৎ, যারা আদেশ নিষেধ সম্পর্কে জানে কিন্তু অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই।
📄 আলেমের দশটি আবশ্যকীয় গুণ
ফকীহ সমরকন্দী রহ. স্বীয় পিতার বরাত দিয়ে বলেন, আবূ হাফস রহ. বলেন, আলেমের মধ্যে দশটি গুণ থাকা চাই। যথা-
১. الْخَشْيَةُ অর্থাৎ, আল্লাহর ভয়।
২. وَالنَّصِيحَةُ অর্থাৎ, মঙ্গলকামনা।
৩. وَالشَّفَقَةُ অর্থাৎ, স্নেহ পরায়ণতা।
৪. وَالإِحْتِمَالُ অর্থাৎ, সহনশীলতা।
৫. وَالصَّبُرُ অর্থাৎ, সবর।
৬. وَالتَّوَاضُعُ অর্থাৎ, বিনয়।
৭. وَالْعِقَّةُ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ অর্থাৎ, দুনিয়া বিমুখতা।
৮. وَالدَّوَامُ عَلَى النَّظَرِ فِي الْكُتُبِ অর্থাৎ, সর্বদা অধ্যয়ন।
৯. وَقِلَّةُ الْحِجَابِ অর্থাৎ, স্বল্প পানাহার করা।
১০. وَأَنْ يَكُونَ بَابُهُ مَفْتُوحًا لِلْوَضِيعِ وَالشَّرِيفِ অর্থাৎ, সবার জন্য দরবার উন্মুক্ত রাখা।
বর্ণিত আছে, দাউদ আ.-এর পরীক্ষা ছিল পানাহারের ব্যাপারে কঠোরতা।
📄 দশটি নিন্দনীয় গুণ
দশ প্রকার লোকের জন্য দশটি মন্দ গুণ। যথা-
১. বাদশাহর জন্য তীক্ষ্ণতা।
২. ধনীর জন্য কার্পণ্য।
৩. আলেমের জন্য লোভ।
৪. ফকিরের জন্য দীর্ঘ আশা।
৫. অভিজাত ব্যক্তির জন্য অভাব।
৬. বৃদ্ধের জন্য যৌবনের চালচলন।
৭. পুরুষের জন্য মহিলার সাদৃশ্য।
৮. মহিলার জন্য পুরুষের সাদৃশ্য।
৯. দুনিয়া বিমুখদের জন্য দুনিয়াদারদের নিকট গমন।
১০. আবেদের জন্য অজ্ঞতা।
হযরত ফুযাইল বিন আয়াস রহ. বলেন- إِذَا كَانَ الْعَالِمُ رَاغِبًا فِي الدُّنْيَا حَرِيصًا عَلَيْهَا، فَإِنَّ مُجَالَسَتَهُ تَزِيدُ الْجَاهِلَ جَهْلًا وَالْفَاجِرَ فُجُورًا، وَتُقْسِي قَلْبَ الْمُؤْمِنِ.
যখন কোনো আলেম দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন তার অজ্ঞ সাথীদের মধ্যে অজ্ঞতা এবং গুনাহগারদের মধ্যে গুনাহ বৃদ্ধি পায়। আর মুমিনের অন্তর কঠোর হয়ে যায়।
كَلَامُ الْحُكَمَاءِ لَهُمُ السُّفَهَاءِ، وَكَلَامُ السُّفَهَاءِ عِبْرَةُ الْحُكَمَاءِ ।
অর্থাৎ, অজ্ঞদের জন্য জ্ঞানীর উক্তি খেলনার মতো। আর অজ্ঞদের কথা জ্ঞানীর জন্য শিক্ষণীয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, উক্ত কথার মর্মার্থ হলো, অজ্ঞরা যখন জ্ঞানীর কথা শোনে, তারা তা নিয়ে হাসি তামাশা করে, যা তাদের মনোরঞ্জনের খোরাক হয়। আর জ্ঞানীরা যখন অজ্ঞদের কথা শোনে এবং তাদের দোষণীয় বিষয় দেখে, তখন তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং বেঁচে থাকে। বলা হয়, অজ্ঞরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে শোনে, আর আলেমগণ শেখা বিষয় বর্ণনা করে, আর যাহেদরা তা নিয়ে ভাবে এবং তদানুসারে আমল করে।