📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আমলহীন আলেম কারো উপকারের নয়

📄 আমলহীন আলেম কারো উপকারের নয়


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا لَمْ يَعْمَلِ الْعَالِمُ بِعِلْمِهِ اسْتَنكِفَ الْجَاهِلُ أَنْ يَتَعَلَّمَ مِنْهُ، لِأَنَّ الْعَالِمَ إِذَا لَمْ يَعْمَلْ بِالْعِلْمِ لَا يَنْفَعُ الْعِلْمُ إِيَّاهُ وَلَا غَيْرَهُ، وَإِنْ جَمَعَ الْعِلْمَ بِالْأَوْقَارِ

হযরত আলী ইবনে আবী তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। আলেম যখন ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তখন মূর্খ লোকেরা তার থেকে ইলম অর্জন করা থেকে বিরত থাকে। কারণ, আলেম ইলম অনুযায়ী আমল না করলে ইলম তার নিজেরও উপকার করে না এবং অন্যদেরও উপকার করে না। যদিও সে ইলমের বোঝা নিয়ে থাকে।

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহ. বলেন- لَيْسَ يَحْسُنُ عَلَى النَّاسِ الْجَهْلُ، مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمُ فَهُوَ مِنْ أَعْلَمِ النَّاسِ، وَمَنْ تَرَكَ الْعَمَلَ بِمَا يَعْلَمُ، فَهُوَ الْجَاهِلُ قَالَ: وَقَدْ كَانَ يُقَالُ : يُغْفَرُ لِلْجَاهِلِ سَبْعُونَ ذَنْبًا مَا لَا يُغْفَرُ لِلْعَالِمِ وَاحِدَةٌ.

অজ্ঞতা মানুষের জন্য শোভনীয় নয়। যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে, (তাকে জাহেল বলা শোভনীয় নয়, বরং) সে তো বড় আলেম। আর যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, সে জাহেল মূর্খ। তিনি বলেন, জাহেলের এমন সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হবে, যার একটিও আলেমের জন্য মাফ করা হবে না।

বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি ইলমী কিতাবের আশিটা সিন্দুক জমা করেছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা সে যুগের নবীর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন, তুমি এই দার্শনিককে বলে দাও যে, তিনটি আমল করা ছাড়া যদি এর সমপরিমাণ আরও জ্ঞান-হেকমত একত্রিত কর, তাহলেও তা তোমার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনবে না। যথা-
১. দুনিয়াকে ভালোবাসবে না। কারণ, তা মুমিনের আবাস নয়।
২. শয়তানের সঙ্গী হবে না। কারণ, সে মুমিনের বন্ধু নয়।
৩. মুমিনকে কষ্ট দেবে না। কারণ, তা মুমিনদের চরিত্র নয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিনটি আশ্চর্য বিষয়

📄 তিনটি আশ্চর্য বিষয়


বর্ণিত আছে, তিন ব্যক্তির ব্যাপারে ফেরেশতাগণ বিস্মিত হয়। যথা-
১. عَالِمٍ فَاسِقٍ يُحَدِّثُ النَّاسَ بِمَا لَا يَعْمَلُ بِهِ অর্থাৎ, ফেরেশতাগণ বিস্মিত হয় ওই গুনাহগার আলেমের উপর, যে নিজে যা করে না, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করে।
২. وَقَبْرُ الْفَاجِرِ يُبْنَى بِالْحَقِّ وَالْآجُرِ অর্থাৎ, গুনাহগারের কবর যা ইট সুরকী দ্বারা তৈরি করা হয়।
৩. وَالنَّقْشِ عَلَى جِنَازَةِ الْفَاجِرِ অর্থাৎ, গুনাহগারের কাফন যা বিভিন্ন নকশা দ্বারা শোভামণ্ডিত করা হয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিনের আক্ষেপ

📄 কিয়ামতের দিনের আক্ষেপ


কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ হবে তিন ব্যক্তির। যথা-
১. রেশুলিন লাহূ মাসলূকুন সালিহুন ইয়াদখুলুল জান্নাতা, ওয়া মাওলানা ইয়াদখুলুন নারা অর্থাৎ, ঐ মুনিব, যার সৎকর্মপরায়ণ গোলাম জান্নাতে যাবে আর সে জাহান্নামে যাবে।
২. সে ব্যক্তি, যে সম্পদ পুঞ্জিভূত করল কিন্তু আল্লাহর হক আদায় না করে মৃত্যুবরণ করল। তার উত্তরাধিকারীরা সে সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে নাজাত পেয়ে গেল, আর সম্পদ জমাকারী ব্যক্তি জাহান্নামে গেল।
৩. ঐ অসৎ আলেম, যার কথায় আমল করে অন্যান্য মানুষ মুক্তি পেয়ে গেল, আর সে জাহান্নামে গেল।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রকৃত ফকীহ

📄 প্রকৃত ফকীহ


এক ব্যক্তি হাসান বসরী রহ. কে বললেন, আমাদের ফেকাহবিদগণ তো এ বিষয়ে এমন এমন বলেন। তখন হাসান বসরী রহ. বললেন, তুমি ফেকাহবিদ দেখেছ?

إِنَّمَا الْفَقِيهُ الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ الْبَصِيرُ بِذَنْبِهِ ، الدَّوَّامُ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ.
ফকীহ সে ব্যক্তি, যে দুনিয়া ত্যাগী, আখেরাত প্রত্যাশী এবং নিজের পরকাল সম্পর্কে চিন্তা করে রবের ইবাদতকারী।

প্রসিদ্ধ উক্তি আছে- إِذَا اشْتَغَلَ الْعُلَمَاءُ بِجَمْعِ الْحَلَالِ صَارَ الْعَوَامُ أَكَلَةَ الشُّبْهَةِ، وَإِذَا صَارَ الْعُلَمَاءُ أَكَلَةَ الشُّبْهَةِ، صَارَ الْعَوَامُ أَكَلَةَ الْحَرَامِ، وَإِذَا صَارَ الْعُلَمَاءُ أَكَلَةَ الْحَرَامِ صَارَ الْعَوَامُ كُفَّارًا.

আলেমগণ যখন হালাল সম্পদ জমা করতে থাকবে, সাধারণ মানুষ তখন সন্দেহযুক্ত খাবারে লিপ্ত হবে। আর আলেমগণ যখন সন্দেহযুক্ত খাবারে লিপ্ত হবে, সাধারণ মানুষ তখন হারামে লিপ্ত হবে। আর আলেমগণ যখন হারামে লিপ্ত হবে, সাধারণ মানুষ তখন কাফের হয়ে যাবে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, কারণ যখন আলেমগণ হালাল সম্পদ সঞ্চয় করতে থাকবে, তখন সাধারণ মানুষ তাদের অনুসরণ করবে। কিন্তু পুরোপুরি ইলম না থাকার কারণে সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বাঁচতে পারবে না। আর আলেমগণ যখন সন্দেহযুক্ত মাল খেতে থাকবে, তখন সাধারণ মানুষ তার অনুসরণ করবে। কিন্তু পূর্ণ জ্ঞান না থাকার কারণে সে হারামেও লিপ্ত হবে। আর আলেমগণ যখন হারামে লিপ্ত হবে, সাধারণ মানুষ তখন তাতে জড়িয়ে পড়বে। আর সেটাকে হালাল মনে করে গ্রহণ করার কারণে সে কাফের হয়ে যাবে।

বলা হয়, কিয়ামতের দিন জাহেলরা আলেমদের আস্তিন ধরে বলবে, তোমরা আলেম ছিলে, কিন্তু আমাদেরকে বাধা দিলে না কেন? আমাদেরকে পথ দেখালে না কেন? আজ আমরা বিপদগ্রস্থ!

কথিত আছে, রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, أَيُّ النَّاسِ شَرٌّ অর্থাৎ, নিকৃষ্ট ব্যক্তি কারা? তিনি বললেন, إِذَا فَسَدَ الْعَالِمُ অর্থাৎ, আলেমগণ, যখন তারা নষ্ট হয়ে যায়। বলা হয়, একজন আলেম নষ্ট হয়ে যাওয়া, আর আলম (জগত) নষ্ট হয়ে যাওয়া সমান।

টিকাঃ
২৫১. সুনানে দারেমী: ১/৮২ [কাছাকাছি অর্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px