📄 আলেমগণ নবী ও রাসূলগণের আমীন
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْعُلَمَاءُ أُمَنَاءُ الرُّسُلِ مَا لَمْ يُخَالِطُوا السُّلْطَانَ، وَيَدْخُلُوا فِي الدُّنْيَا، فَإِذَا دَخَلُوا فِي الدُّنْيَا، فَقَدْ خَانُوا الرُّسُلَ فَاعْتَزِلُوهُمْ، وَاحْذَرُوهُمْ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, আলেমগণ বান্দাদের ক্ষেত্রে নবী ও রাসূলগণের আমীন তথা বিশ্বস্ত ব্যক্তিরূপে থাকে যতক্ষণ তারা আমীর-উমারা ও শাসকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে এবং দুনিয়ার পিছনে না পড়ে। যদি তারা দুনিয়ায় নিমজ্জিত হয়, তাহলে তারা রাসূলগণের সঙ্গে খেয়ানতকারী সাব্যস্ত হয়। তখন তোমরা তাদেরকে এড়িয়ে চলবে এবং তাদের থেকে দূরে থাকবে।
টিকাঃ
২৪৮. আল-ফিরদাউস হাদীস-৪২১০; হাফেজ সুয়ূতী ও ইবনে আররাক হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আল-লাআলী আল-মাসনুয়াহ: ১/২১৯; আত-তানযীহ: ১/২৬৭]।
📄 ইলম অনুসারে আমল না করা
عَنِ الْفَوَّاتِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ : قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : لَا يَكُونُ الرَّجُلُ عَالِمًا حَتَّى يَكُونَ مُتَعَلَّمًا، وَلَا يَكُونُ عَالِمًا حَتَّى يَكُونَ بِالْعِلْمِ عَامِلًا.
ফাওয়াত ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত। হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন, মানুষ তালিবে ইলম হওয়া ছাড়া আলেম হতে পারে না এবং ইলম অনুযায়ী আমল করা ছাড়া আলিম হতে পারে না।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: وَيْلٌ لِلَّذِي لَا يَعْلَمُ مَرَّةً، وَوَيْلٌ لِلَّذِي يَعْلَمُ وَلَا يَعْمَلُ سَبْعَ مَرَّاتٍ.
অন্যত্র আবু দারদা রাযি. বলেন, যে জানে না সে ধ্বংস হোক। তার ধ্বংস একবার। আর যে জানে কিন্তু আমল করে না, তার ধ্বংস সাতবার।
وَعَنْهُ أَيْضًا، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: إِنِّي لَا أَخَافُ أَنْ يُقَالَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ : يَا عُوَيْمِرُ مَاذَا عَلِمْتَ؟ لَكինِي أَخَافُ أَنْ يُقَالَ لِي يَوْমَ الْقِيَامَةِ: يَا عُوَيْمِرُ مَاذَا عَمِلْتَ فِيمَا عَلِمْتَ؟
অন্যত্র তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে ভয় করি না যে, আমাকে কিয়ামতের দিনে বলা হবে, হে উমাইমির! তুমি কী শিখেছ? কিন্তু আমার ভয় হয় যে, আমাকে বলা হবে, হে উমাইমির! তুমি যা শিখেছিলে, তার কতটুকু আমল করেছ?
عَنْ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ عَلِمَ، وَعَمِلَ، وَعَلَّمَ فَذَلِكَ الَّذِي يُدْعَى فِي مَلَكُوتِ السَّمَوَاتِ عَظِيمًا.
হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর উক্তি: তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করল, তদানুযায়ী আমল করল এবং অন্যকে তা শিক্ষা দান করল, আসমানে তাকে আযীম তথা 'মহান' বলে ডাকা হয়।
তিনি আরো বলেন, কী উপকারে আসবে অন্ধের জন্য চেরাগ বহন করা, যাতে অন্যেরা আলো পায়? আর কী উপকারে আসবে অন্ধকার ঘরের ছাদে প্রদীপ রাখা? আর তোমাদের কী উপকারে আসবে হেকমতের কথা বলা, যখন তোমরা তদানুযায়ী আমল না করবে?
অন্যত্র তিনি বলেছেন, গাছ তো কতই আছে, কিন্তু সব গাছ ফল দেয় না। আলেম তো অনেকেই আছে, কিন্তু সব আলেম হেদায়াতের পথ দেখায় না। ফল তো অনেক আছে, কিন্তু সব ফল সুস্বাদু হয় না। ইলম তো অনেকই আছে, কিন্তু সব ইলম উপকারী হয় না।
عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ : مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمُ وُفِّقَ لِمَا لَا يَعْلَمُ.
হযরত ইমাম আওযাঈ রহ. বলেন, যে ইলম অনুযায়ী আমল করে, তাকে ঐ বিষয়ে জ্ঞান লাভের তাওফীক দেওয়া হয়, যা সে জানে না।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ؟ قَالَ: الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِهِ. قَالَ: فَمَا يَنْفِي الْعِلْمُ مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ؟ قَالَ : الطَّمَعَ.
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. কে জিজ্ঞেস করলেন, আলিম কে? আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বললেন, যে ইলম অনুযায়ী আমল করে। উমর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, কোন দোষ ইলমকে মানুষের হৃদয় থেকে বিলীন করে দেয়? আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বলেন, লোভ-লালসা।
সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ রহ. বলেন- النَّاسُ كُلُّهُمْ مَوْتَى إِلَّا الْعُلَمَاءَ، وَالْعُلَمَاءُ كُلُّهُمْ سَكْرَى، إِلَّا الْعَامِلِينَ بِالْعِلْمِ، وَالْعَامِلُونَ مَغْرُورُونَ إِلَّا الْمُخْلِصِينَ، وَالْمُخْلِصُونَ عَلَى الْخَطَرِ.
আলেমগণ ছাড়া সকল মানুষই ধ্বংসের মুখোমুখি। আর সকল আলেমই ধ্বংসের মুখোমুখি, তবে যারা ইলম অনুযায়ী আমল করে তারা ব্যতীত। আর আমলকারীরাও ধোঁকায় আছে, তবে যারা নিষ্ঠার সাথে আমল করে তারা ব্যতীত। আর নিষ্ঠাবান লোকেরা ভীষণ বিপদের সম্মুখে আছেন।
টিকাঃ
২৪৯. হিলইয়াতুল আউলিয়া হাদীস-৭২১৮; ইকতিযায়ুল ইলম ওয়াল আমল, খতীব বাগদাদী: হাদীস-২৯; আল্লামা সাগানী ও শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে জাল বলেছেন [মাওযুয়াতে সাগানী : হাদীস-৩৮; তাখরীজুল মিনহাজ: ২৫০]।
📄 আলেমের সাহচর্য লাভ করা
এক হাদীসে এসেছে, সব আলেমের মজলিসে হাজির হয়ো না। তবে যিনি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয় থেকে পাঁচটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান করেন (তাদের মজলিসে হাজির হয়ো)। যথা-
১. সন্দেহ থেকে একীনের দিকে।
২. অহঙ্কার থেকে বিনয়ের দিকে।
৩. শত্রুতা থেকে সহমর্মিতার দিকে।
৪. লৌকিকতা থেকে এখলাসের দিকে।
৫. উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে দুনিয়াবিমুখতার দিকে।
টিকাঃ
২৫০. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৮/৭২; রাসূল সা.-এর বক্তব্য হিসেবে হাদীসটি জাল। কেউ কেউ এটিকে শারিকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন [তারতীবুল মাওযুয়াত লিয-যাহাবী: হাদীস-৬৭; মাওয়ায়েযে ইবনুল জাওযী ১/২৫৭; আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমুয়াহ হাদীস-২৭৮]।
📄 আমলহীন আলেম কারো উপকারের নয়
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا لَمْ يَعْمَلِ الْعَالِمُ بِعِلْمِهِ اسْتَنكِفَ الْجَاهِلُ أَنْ يَتَعَلَّمَ مِنْهُ، لِأَنَّ الْعَالِمَ إِذَا لَمْ يَعْمَلْ بِالْعِلْمِ لَا يَنْفَعُ الْعِلْمُ إِيَّاهُ وَلَا غَيْرَهُ، وَإِنْ جَمَعَ الْعِلْمَ بِالْأَوْقَارِ
হযরত আলী ইবনে আবী তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। আলেম যখন ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তখন মূর্খ লোকেরা তার থেকে ইলম অর্জন করা থেকে বিরত থাকে। কারণ, আলেম ইলম অনুযায়ী আমল না করলে ইলম তার নিজেরও উপকার করে না এবং অন্যদেরও উপকার করে না। যদিও সে ইলমের বোঝা নিয়ে থাকে।
সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহ. বলেন- لَيْسَ يَحْسُنُ عَلَى النَّاسِ الْجَهْلُ، مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمُ فَهُوَ مِنْ أَعْلَمِ النَّاسِ، وَمَنْ تَرَكَ الْعَمَلَ بِمَا يَعْلَمُ، فَهُوَ الْجَاهِلُ قَالَ: وَقَدْ كَانَ يُقَالُ : يُغْفَرُ لِلْجَاهِلِ سَبْعُونَ ذَنْبًا مَا لَا يُغْفَرُ لِلْعَالِمِ وَاحِدَةٌ.
অজ্ঞতা মানুষের জন্য শোভনীয় নয়। যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে, (তাকে জাহেল বলা শোভনীয় নয়, বরং) সে তো বড় আলেম। আর যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, সে জাহেল মূর্খ। তিনি বলেন, জাহেলের এমন সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হবে, যার একটিও আলেমের জন্য মাফ করা হবে না।
বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈলের জনৈক ব্যক্তি ইলমী কিতাবের আশিটা সিন্দুক জমা করেছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা সে যুগের নবীর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন, তুমি এই দার্শনিককে বলে দাও যে, তিনটি আমল করা ছাড়া যদি এর সমপরিমাণ আরও জ্ঞান-হেকমত একত্রিত কর, তাহলেও তা তোমার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনবে না। যথা-
১. দুনিয়াকে ভালোবাসবে না। কারণ, তা মুমিনের আবাস নয়।
২. শয়তানের সঙ্গী হবে না। কারণ, সে মুমিনের বন্ধু নয়।
৩. মুমিনকে কষ্ট দেবে না। কারণ, তা মুমিনদের চরিত্র নয়।