📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম সম্পর্কে বিদ্বানদের ভাষ্য

📄 ইলম সম্পর্কে বিদ্বানদের ভাষ্য


عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قِيلَ لَهُ: لَوْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَيْكَ أَنَّكَ مَيِّتُ الْعَشِيَّةَ مَا أَنْتَ صَانِعُ الْيَوْمَ؟ قَالَ: أَطْلُبُ فِيهِ الْعِلْمَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ.-কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, যদি আল্লাহ তা'আলা আপনার নিকট এই ওহী প্রেরণ করেন যে, আজ সন্ধ্যায় আপনার মৃত্যু হবে, তাহলে সারাদিন আপনি কী করবেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি ইলম অর্জন করবো।

عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، قَالَ: لَا يَسْتَاكُ الْفَقِيهُ فِي الصَّلَاةِ قِيلَ: وَكَيْفَ ذَلِكَ؟ قَالَ: لِأَنَّكَ لَا تَلْقَاهُ إِلَّا وَذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى لِسَانِهِ، يَحِلُّ حَلَالًا وَيُحَرِّمُ حَرَامًا.
হযরত ইবরাহিম নাখাঈ রহ. বলেন, ফকীহ সবসময় নামাযে থাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তা কীভাবে? তিনি বললেন, তুমি যখন তার সাক্ষাতে যাবে, দেখবে তার মুখ আল্লাহর যিকির করছে, হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম বলছে। বলা হয়, আলিমগণ স্বীয় যামানার জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ। তার থেকে অন্যরা আলো গ্রহণ করে।

হযরত সালেম বিন আবুল জাঁদ রহ. বলেন, আমার মনিব আমাকে আযাদ করে দেওয়ার পর আমি মনে মনে ভাবলাম, কোন পেশা গ্রহণ করবো? অবশেষে ইলম অর্জনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিলাম। এর কিছুদিন পর খলিফা আমার দরবারে আসলে, তাকে আমি প্রবেশের অনুমতি দেইনি।

সালেহ মুররি রহ. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি আমিরুল মুমিনের নিকট গেলেন। আমিরুল মুমিনীন তাকে নিজ আসনে বসালেন। তিনি বললেন, হাসান সত্যিই বলেছিলেন। আমিরুল মুমিনীন জিজ্ঞেস করলেন, হাসান কী বলেছিলেন? তিনি বললেন, হাসান বলেছিলেন, ইলম অভিজাত লোকদের আভিজাত্য বৃদ্ধি করে, আর গোলামদেরকে আজাদ ব্যক্তির মর্যাদায় উপনীত করে। তা নাহলে, সালেহ মুররির ইলম ছাড়া কিইবা আছে যে, খলিফা তাকে স্বীয় আসনে বসাবেন?

হযরত আনাস রাযি. বলেন, ইলম অর্জন কর, যদিও চিনে গিয়ে হয়। কারণ, ইলম তলব করা প্রত্যেকের উপর ফরয।

হযরত আওন ইবনে আব্দুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি হযরত আবূ যর রাযি.-এর নিকট এসে বলল, আমি ইলম অর্জন করতে চাই। তবে ভয় হয় যে, আমি তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারবো না এবং ইলম মোতাবেক আমল করতে পারব না। আবু যর গিফারী রাযি. তাকে বললেন, বেটা! মূর্খ ও জাহেল থাকার চেয়ে আলেম হওয়া অনেক ভালো। অতঃপর সে ব্যক্তি হযরত আবূ দারদা রাযি.-এর নিকট গেল এবং অনুরূপ কথাই বলল। আবু দারদা রাযি. তাকে বললেন, মানুষ যে অবস্থায় মারা যাবে সে অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হবে। আলিম ব্যক্তি আলিম অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে, আর জাহেল ব্যক্তি জাহেল অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর লোকটি হযরত আবূ হুরায়রা রাযি.-এর নিকট গিয়ে অনুরূপ বলল। আবূ হুরায়রা রাযি. তাকে বললেন ইলম বর্জন করার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর আর কিছুই পাবে না।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করার চেয়ে আল্লাহর নিকট উত্তম কিছু নেই। একজন ফিকাহবিদ শয়তানের সামনে হাজার আবেদের চেয়ে শক্তিশালী। প্রত্যেক বস্তুর একটি স্তম্ভ রয়েছে। দীনের স্তম্ভ হলো, ফিকাহ অর্থাৎ, দীনী বিধি-বিধানের স্তম্ভ হলো, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা।

বলা হয়, একদা বসরার লোকেরা মতবিরোধে লিপ্ত হলো। একদল বলল, ধন- সম্পদের চেয়ে ইলম উত্তম। আরেক দল বলল, ইলমের চেয়ে ধন-সম্পদ উত্তম। তারা ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট একজন প্রতিনিধি প্রেরণ করল। প্রতিনিধি এসে ইবনে আব্বাস রাযি.-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, ইলমই উত্তম। প্রতিনিধি বলল, তারা আমার নিকট প্রমাণ চাইলে আমি কী বলব? ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, তাদের বলে দাও, এর প্রমাণ হলো- ১. ইলম নবীদের উত্তরাধিকার, আর ধন-সম্পদ ফেরআউনের উত্তরাধিকার। ২. ইলম তোমাকে হেফাজত করে আর ধন-সম্পদ তোমাকে হেফাজত করতে হয়। ৩. আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকেই ইলম দান করেন। আর ধন-সম্পদ যাকে ভালোবাসেন তাকেও দেন আর যাকে ভালোবাসেন না তাকেও দান করেন। বরং যাকে ভালোবাসেন না তাকে বেশি দান করেন। তুমি কি আল্লাহর সে কথাটি চিন্তা করেছ, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন- وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ অর্থ: যদি সব মানুষ একই জাতিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে যারা পরম করুণাময়ের প্রতি কুফরী করে আমি তাদের গৃহসমূহের জন্য রৌপ্যনির্মিত ছাদ ও ঊর্ধ্বে আরোহণের সিঁড়ি তৈরি করে দিতাম। ৪. জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে কমে না। পক্ষান্তরে ধন-সম্পদ বিতরণ করার দ্বারা কমে যায়। ৫. সম্পদশালী ব্যক্তি মারা গেলে সবাই তাকে ভুলে যায়। পক্ষান্তরে কোনো আলিম মারা গেলে মানুষ তাকে কখনো বিস্মৃত হয় না। ৬. সম্পদশালী ব্যক্তি হলো, মৃত পক্ষান্তরে আলিম জীবন্ত ও প্রাণবন্ত। ৭. সম্পদশালীকে তার প্রত্যেকটি সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে- সে কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় খরচ করেছে। পক্ষান্তরে আলিমের প্রত্যেকটি হাদীসের বিনিময়ে জান্নাতে একটি মর্যাদা রয়েছে।

টিকাঃ
২৪৫. চীন সংক্রান্ত হাদীসটি জাল। যা রাসূল সা. এর বাণী হিসেবে বলা কোনভাবেই জায়েয নেই। ইবনে হিব্বান বলেন, এই হাদীসটি বাতিল যার কোন ভিত্তি নেই [আয-যুয়াফা লিল-উকাইলী: ২/২৩০; তানযীহুশ শারীয়াহ লি-ইবনে আররাক: ১/২৫৮]।
২৪৬. হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নেই। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে জয়ীফ সনদে হাদীসটি তার বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে [ত্ববারানী আওসাত: হাদীস-৬১৬৬; হিলইয়া: ২/১৯২; শুআবুল ঈমান ৪/৩৪১; আল-ইলালুল মুতানাহিয়া: ১/১২৭; আলমিফতাহ লি-ইবনেল কায়্যিম হাদীস-৬৯; তাখরীজুল এহইয়া হাদীস-২৯]।
২৪৭. সূরা যুখরুফ: আয়াত-৩৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মানুষের প্রকারভেদ

📄 মানুষের প্রকারভেদ


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ: النَّاسُ ثَلَاثَةٌ عَالِمٌ رَبَّانِيُّ، وَمُتَعَلَّمٌ عَلَى سَبِيلِ النَّجَاةِ، وَسَائِرُ النَّاسِ هَمَجٌ رِعَاعٌ أَتْبَاعُ كُلِّ نَاعِقٍ، يَمِيلُونَ مَعَ كُلِّ رِيحٍ.

হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রাযি. বলেন, মানুষ তিন প্রকারে বিভক্ত। যথা- ১. আল্লাহভীরু আলেম। ২. নাজাত প্রত্যাশী তালিবে ইলম। এ দু'জন নাজাতের পথে আছে। ৩. এই দুই প্রকার ব্যতীত তৃতীয় পক্ষ। এরা সকলে ক্ষুধার্ত। সর্বদা নিম্নমানের দ্রব্য আহরণের প্রতি ছুটে চলেছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম ও সম্পদ হতে উত্তম

📄 ইলম ও সম্পদ হতে উত্তম


হযরত আলী রাযি. আরো বলেন, ইলম সম্পদের চেয়ে উত্তম। কারণ, ইলম তোমাকে পাহারা দেবে আর তুমি সম্পদকে পাহারা দিবে। ইলম দান করলে বৃদ্ধি পায় আর সম্পদ খরচ করলে কমে যায়। আর আলিমগণ মরেও অমর থাকে।

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : الْعَالِمُ وَالْمُتَعَلَّمُ فِي الْأَجْرِ سَوَاءُ، وَإِنَّمَا النَّاسُ رَجُلَانِ : عَالِمٌ وَمُتَعَلَّمُ وَلَا خَيْرَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ.

হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলিম আর তালিবে ইলম প্রতিদান লাভ ও সওয়াবের ক্ষেত্রে বরাবর। আর পৃথিবীতে ভালো মানুষ তো কেবল এ দুই শ্রেণীর মানুষ। এ ছাড়া বাকীদের মধ্যে কল্যাণ নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px