📄 অতৃপ্ত লোভী
عَنِ الْقَاسِمِ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ طَالِبُ الْعِلْمِ، وَطَالِبُ الدُّنْيَا، وَهُمَا لَا يَسْتَوِيَانِ، أَمَّا طَالِبُ الْعِلْمِ فَيَزْدَادُ رِضًا مِنَ الرَّحْمَنِ، وَأَمَّا طَالِبُ الدُّنْيَا فَيَزْدَادُ فِي الطُّغْيَانِ. ثُمَّ قَرَأَ : إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ وَقَرَأَ : كَلَّا إِنَّ الإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই পিপাসার্ত কখনো তৃপ্ত হয় না। ইলমের অনুসন্ধানী এবং দুনিয়ার অনুসন্ধানী। তবে তাদের পরিণতি ভিন্ন ভিন্ন। ইলমের অনুসন্ধানীর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি বাড়তে থাকে। আর দুনিয়ার অনুসন্ধানীর জন্য আল্লাহর অবাধ্যতা বাড়তে থাকে। তারপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করেন। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন- كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى অর্থ : মোটেই নয়, নিশ্চয়ই মানুষ অবাধ্যতা করে। কারণ, সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।
টিকাঃ
২৩৮. সূরা ফাতির: আয়াত-২৮। হাদীস: মুস্তাদরাকে হাকেম হাদীস-৩১২; শুআবুল ঈমান হাদীস-১০২৭৯; হাদীসটি সহীহ [কাশফুল খফা ২/৩৮০; তাখরীজুল মিশকাত, আলবানী হাদীস-২৫২]।
২৩৯. সূরা আলাক: আয়াত-৬-৭।
📄 ইলমী মজলিসের ফযীলত
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: دَخَلْتُ مَسْجِدَ الْبَصْرَةِ، وَالْأَسْوَدُ بْنُ سَرِيعٍ يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ، وَقَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْمَسْجِدِ، وَخَلْفَهُ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ جُلُوسٌ فِي نَاحِيَةٍ أُخْرى يَتَحَدَّثُونَ الْفِقْهَ وَيَتَذَاكَرُونَ فَرَكَعْتُ بَيْنَ الْحَلْقَةِ وَالذَّكْرِ، فَلَمَّا فَرَغْتُ قُلْتُ : لَوْ أَتَيْتُ إِلَى الْأَسْوَدِ، فَعَسَى أَنْ تُصِيبَهُمْ إِجَابَةٌ وَرَحْمَةٌ تُصِيبُنِي مَعَهُمْ، ثُمَّ قُلْتُ: لَوْ أَتَيْتُ حَلْقَةَ الْفَقِيهِ لَعَلِّي أَسْمَعُ كَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا، فَأَعْمَلَ بِهَا. فَلَمْ أَزَلْ أُخَيِّرُ نَفْسِي فِي ذَلِكَ حَتَّى جَاوَزْتُهُمْ، فَلَمْ أَقْعُدْ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ، فَلَمَّا كَانَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةُ أَتَانِي آتٍ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ: أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَ الْحَلْقَةَ الَّتِي كَانَ يُذْكَرُ فِيهَا الْفِقْهُ، لَوَجَدْتَ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَعَهُمْ جَالِسًا.
হযরত মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহ. বলেন, আমি বসরার মসজিদে গেলাম। সেখানে তখন আসওয়াদ ইবনে সারী বয়ান করছিলেন। মসজিদে উপস্থিত লোকেরা তাঁকে ঘিরে বসা ছিলেন। তাঁদের পিছনে একপার্শ্বে কয়েকজন ফকীহ বসে বসে ফিকাহ সংক্রান্ত আলোচনা করছিলেন। আমি উভয় মজলিসের মাঝে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলাম। নামায শেষে ভাবলাম, যদি আসওয়াদের মজলিসে বসি, হয়তো তাদের দোয়া কবুল হবে, ফলে তাদের উপর রহমত নাযিল হলে আমার উপরও নাযিল হবে। অতঃপর ভাবলাম, যদি ফিকহের মজলিসে বসি, হয়তো নতুন কোনো মাসআলা জানতে পাব এবং তদানুযায়ী আমল করতে পারব। এমন ভাবতে ভাবতে আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে এলাম। সে রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমার নিকট এক আগন্তুক এসে বলল, তুমি যদি ফিকহের মজলিসে বসতে, তাহলে জিবরাঈল আ. কেও তাঁদের সঙ্গে বসা পেতে।
📄 ইলম অর্জনের বরকত
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, যে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চায়, যাকে আল্লাহ তা'আলা দোযখ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, সে যেন ইলম অর্জনকারীদেরকে দেখে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে যে আলেমের দরজায় যাওয়া আসা করে, তার প্রতি কদম এবং প্রতি হরফের বিনিময়ে এক বছর ইবাদতের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়, প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি শহর নির্মাণ করা হয়, সে যখন জমিনে চলে, জমিন তার জন্য ইস্তিগফার করতে থাকে, মাগফেরাত লাভের মাধ্যমে তার সকাল সন্ধ্যা হয়, ফেরেশতাগণ তার জন্য সাক্ষি দিতে থাকেন আর বলতে থাকেন, এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা আগুন থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى مَجْلِسَيْنِ، أَحَدُهُمَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، وَالْآخَرُ يَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ، وَيَدْعُونَ اللهَ، وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ فَقَالَ: كِلَا الْمَجْلِسَيْنِ عَلَى خَيْرٍ، وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنَ الْآخَرِ، أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللهَ، فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ، وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ، وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ الْجَاهِلَ، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلَّمًا، فَهَؤُلَاءِ أَفْضَلُ، ثُمَّ جَلَسَ مَعَهُمْ।
ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা নবী মসজিদে প্রবেশ করে দু'টি মজলিস দেখতে পেলেন। একটি মজলিস আল্লাহর যিকিরের। আরেকটি ফিকহের। তখন নবী বললেন, উভয় মজলিসই ভালো। তবে একটি আরেকটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এরা আল্লাহর যিকির করছে, দোয়া করছে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে দিতেও পারেন, আবার নাও পারেন। আর এরা নিজেরা শিখছে ও অন্যদেরকে শিখাচ্ছে। আর আমাকে শিক্ষকরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং এরাই শ্রেষ্ঠ। এই বলে তিনি তাদের মজলিসে বসে গেলেন।
টিকাঃ
২৪০. হাদীসটি জাল যেমনটি ইবনে হাজার ও সুয়ূতী বলেছেন [কাশফুল খাফা: ২/৩০৮]।
📄 আবু দারদা ও ইবনে মাসউদ রাযি.-এর ভাষ্য
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لَأَنْ أَتَعَلَّمَ مَسْأَلَةً أَحَبُّ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةٍ.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট একটি মাসআলা শিক্ষা করা রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : أَنْتُمْ فِي زَمَنِ الْعَمَلُ فِيهِ خَيْرٌ مِنَ الْعِلْمِ وَسَيَأْتِي زَمَنٌ الْعِلْمُ فِيهِ خَيْرٌ مِنَ الْعَمَلِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এমন যুগে রয়েছো, যখন ইলমের চেয়ে আমল উত্তম। আর অচিরেই এমন যুগ আসবে, যখন আমলের চেয়ে ইল্ম হবে উত্তম।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ ثَلَاثَةٌ : طَلَبُ الْعِلْمِ، وَالْجِهَادُ، وَالْكَسْبُ، لِأَنَّ طالِبَ الْعِلْمِ حَبِيبُ اللهِ، وَالْغَازِي وَلِيُّ اللَّهِ، وَالْكَাসِبُ صَدِيقُ اللهِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, পৃথিবীতে তিনটি আমল সর্বশ্রেষ্ঠ। ১. ইলম অর্জন করা। ২. জিহাদ করা। ৩. হালাল উপার্জন করা। কারণ, তালিবে ইলম আল্লাহ তা'আলার প্রিয় ব্যক্তি। মুজাহিদ আল্লাহ তা'আলার ওলী। আর হালাল উপার্জনকারী আল্লাহ তা'আলার বন্ধু।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَمْ يَخْرُجْ مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى يَأْتِيَ عَلَيْهِ الْعِلْمُ، فَيَكُونَ لِلَّهِ، وَمَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِلَّهِ، فَهُوَ كَالصَّائِمِ نَهَارِهِ وَالْقَائِمِ لَيْلِهِ، وَإِنَّ بَابًا مِنَ الْعِلْمِ يَتَعَلَّمُهُ الرَّجُلُ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَبُو قُبَيْسٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ইলম শিখবে, মৃত্যুর পূর্বেই ইলম তার প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে। তারপর তা আল্লাহর জন্য হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ইলম শিখবে, সে দিনে রোযা রাখা আর রাতে নামায পড়ার ফযীলত লাভ করবে। আর ইলমের একটি অধ্যায় শিখা, আবূ কুবাইস পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় দান করার চেয়ে উত্তম।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মানুষের জন্য কতক্ষণ পর্যন্ত ইলম অর্জন করা উচিত? তিনি বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অজ্ঞ থাকাকে অপছন্দ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য ইলম অর্জন করা উচিত। বর্ণিত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। তখন তাঁর পাশে বসে এক ব্যক্তি তাকে কিছু ইলমী কথা লিখে দিচ্ছিল। তাঁকে বলা হলো, এই অবস্থায়ও ইলমী আলোচনা? তিনি বললেন, হয়তো যে কথাটি আমার উপকার করবে, তা এখনো আমার নিকট পৌঁছেনি।
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা ইলম অর্জন কর। ইলম শিক্ষা করা নেক কাজ, অন্বেষণ করা ইবাদত, আলোচনা করা তাসবীহ, গবেষণা করা জিহাদ, মূর্খকে শিক্ষা দেওয়া সদকা। আর আলিমের নিকট আলোচনা করা আল্লাহর নৈকট্যলাভ। শুনে রাখ, ইলম জান্নাতীদের জান্নাতের পথ, নির্জনতার বন্ধু, সফরের সাথী, মানবহীন স্থানে আলাপকারী, সুখ শান্তির পথপ্রদর্শক, বিপদে সহায়ক, বন্ধুদের নিকট অলঙ্কার, আর শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা বহু জাতিকে উন্নত করেছেন, কল্যাণের পথে তাদেরকে ইমাম বানিয়েছেন, নেতৃত্ব দান করেছেন। তারা অনুসৃত, অনুসারী নয়। তাদের কার্যাবলির অনুকরণ করা হয়। ফেরেশতাগণ তাদের সহায়তা করেন, তাদের জন্য পাখা মেলে ধরেন। শুকনো ও আর্দ্র সকল বস্তুই তাদের জন্য দোয়া করে। এমনকি সমুদ্রর মাছ, পৃথিবীর পোকা-মাকড়, জল ও স্থলের হিংস্র প্রাণী, গৃহপালিত পশু সব কিছু তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কারণ, ইলম হলো হৃদয়ের প্রাণ, আঁধারের আলো, শরীরের শক্তি। ইলম দ্বারা মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে মহান ব্যক্তিদের স্তরে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ইলমী চিন্তা ফিকির করা, রোযা রাখার সমতুল্য, ইলমী আলোচনা রাতের ইবাদতের সমান। ইলমের মাধ্যমেই আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয়, আর এর দ্বারাই হালাল-হারাম চেনা যায়। ইলম হলো, ইমাম আর আমল হলো, মুক্তাদী। যারা সৌভাগ্যবান তারাই এর তাওফীক লাভ করে। আর যারা হতভাগা তারাই এর থেকে বঞ্চিত হয়।
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, আমার জানা মতে ইলম অর্জন ছাড়া জিহাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো আমল নেই। যে ইলম অর্জনের জন্য আল্লাহর পথে বের হয়, ফেরেশতাগণ তাকে তাদের পাখা দ্বারা ঘিরে রাখেন। আকাশের পাখি, স্থলের হিংস্র প্রাণী, সমুদ্রের মাছেরা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বাহাত্তর জন সিদ্দীকের সওয়াব দান করেন। সুতরাং তোমরা ইলম অর্জন কর। আর ইলমের জন্য ধ্যানমগ্নতা, সহনশীলতা ও গাম্ভীর্য ভাব অর্জন কর। যার থেকে ইলম শিখবে, আর যাকে ইলম শিক্ষা দান করবে, তাদের সাথে বিনম্র ব্যবহার কর। ইলম নিয়ে আলেমদের সাথে গর্ব কর না। ইলম দ্বারা নির্বোধ লোকদের সাথে ঝগড়া কর না। ইলমকে আমীর-উমারার নিকট গমনের হাতিয়ার বানিয়ো না। আল্লাহর বান্দাদের সাথে এ নিয়ে বড়াই কর না। তাহলে অহঙ্কারী আলিমদের মধ্যে গণ্য হবে। এ ধরনের আলেমদেরকে আল্লাহর গজব পাকড়াও করবে এবং তাদেরকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা এমন ইলম অর্জন কর যা আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের ক্ষেত্রে ক্ষতি করবে না। আল্লাহ তা'আলার এমন ইবাদত কর যা তোমাদের ইলম অর্জনে ক্ষতি করবে না। কারণ, ইলমহীন ইবাদত দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না। তোমরা ঐসব লোকের মতো হয়ো না, যারা ইলম অর্জন না করে ইবাদতে মগ্ন থাকে। তারপর তারা যখন শুকিয়ে হাড্ডিসার হয়ে যায়, তখন তরবারী নিয়ে মানুষের উপর আক্রমণ করে। যদি তারা ইলম অর্জন করত, তাহলে ইলম তাদেরকে তাদের এ কাজ থেকে বাধা প্রদান করত। ইলমহীন আমলকারী আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী। সে যতই সাধনা করে, ততই দূরে সরে যায়। সে যা সংশোধন করে, তার চেয়ে বেশি নষ্ট করে। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, হে আবূ সাঈদ! আপনি এগুলো কার নিকট থেকে শুনে বলছেন? তিনি বললেন, আমি সত্তর জন বদরী সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছি এবং চল্লিশ বছরে এ কথাগুলো অর্জন করেছি।
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে লোক সকল! কী হল? আমি দেখছি তোমাদের আলিমগণ দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছে অথচ অজ্ঞরা তার ইলম অর্জন করছে না। ইলম উঠে যাওয়ার পূর্বেই তোমরা তা অর্জন কর। কারণ, আলিমগণ চলে যাওয়া মানেই ইলম উঠে যাওয়া।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ لَا يَرْفَعُ الْعِلْمَ بِقَبْضٍ يَقْبِضُهُ، وَلَكِنِ الْعُلَمَاءَ بِعِلْمِهِمْ، حَتَّى إِذَا لَمْ يَبْقَ عَالِمُ اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤَسَاءَ جُهَّالًا، فَيُسْأَلُونَ فَيُحَدِّثُونَ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, "নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা লোকদের নিকট থেকে ইলম ছিনিয়ে নেয়ার মাধ্যমে তা তুলে নিবেন না; বরং আলিম সম্প্রদায়কে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম তুলে নিবেন (অর্থাৎ, আলিম দুনিয়া থেকে শেষ হয়ে যাবে।) অবশেষে যখন কোনো আলিম বাকি থাকবে না, তখন জনগণ মূর্খ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নেতা বানিয়ে নেবে এবং তাদেরকে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা না জেনে ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অপরকেও পথভ্রষ্ট করবে।"
টিকাঃ
২৪১. হাফেজ ইরাকী বলেন, হাদীসটির সনদ জয়ীফ তবে শক্তিশালী শাওয়াহেদ বিদ্যমান [তাখরীজুল এহইয়া; আল-বায়েস হাদীস-২৭; আল-ইতহাফ: ১/২০৫]।
২৪২. হাদীসটির সনদ জয়ীফ।
২৪৩. জামে' বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহী ১/৫৪; আত-তারগীব লি-মুনযিরী হাদীস-১০৭; হাদীসটিকে হাফেয মুনযিরী গরীব জিদ্দান ও শায়েখ আলবানী জাল বলেছেন।
২৪৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-১০০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৭৩।