📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম নবীগণের মিরাস

📄 ইলম নবীগণের মিরাস


عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ : كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ جِئْتُكَ مِنْ مَدِينَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي حَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ حَدَّثْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : مَا جِئْتَ لِتِجَارَةٍ وَلَا لِحَاجَةٍ وَلَا جِئْتَ إِلَّا لِهُذَا؟ قَالَ: مَا جِئْتَ إِلَّا لِهَذَا. قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ بِهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْرِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَصْنَعُ، وَإِنَّ الْعَالِمَ يَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ، وَمَنْ فِي الْأَرْضِ، وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ، وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ، كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ، وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِرْهَمًا وَلَا دِينَارًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَهُ فَقَدْ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ.

কাসীর ইবনু কায়স রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেস্কের মসজিদে আবূ দারদা রাযি.-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আবু দারদা! আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শহর মদিনা থেকে আপনার নিকট একটি হাদীস শোনার জন্য এসেছি। আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি নবী ﷺ থেকে তা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তুমি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আসোনি তো? সে বলল, না। তিনি বললেন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তো আসোনি? সে বলল, না। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি পথ সুগম করে দেন। ফেরেশতাগণ জ্ঞান-অন্বেষীর সন্তুষ্টির জন্য তাঁদের পাখাসমূহ অবনমিত করেন। আর জ্ঞান অন্বেষীর জন্য আসমান ও জমিনবাসী আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির মাছও। নিশ্চয় (দ্বীনি জ্ঞানশূন্য) ইবাদাতকারীর উপর আলিমের মর্যাদা তারকারাজির উপর চাঁদের মর্যাদার সমতুল্য। আলিমগণ নবীগণের ওয়ারিস। আর নবীগণ দীনার ও দিরহাম (নগদ অর্থ) ওয়ারিসী স্বত্ব হিসাবে রেখে যান না, বরং তাঁরা ওয়ারিসী স্বত্বরূপে রেখে যান ইলম (দ্বীনি জ্ঞান)। যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে যেন একটি পূর্ণ অংশ লাভ করল।

টিকাঃ
২৩৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৬৮২; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৬৪১; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অতৃপ্ত লোভী

📄 অতৃপ্ত লোভী


عَنِ الْقَاسِمِ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ طَالِبُ الْعِلْمِ، وَطَالِبُ الدُّنْيَا، وَهُمَا لَا يَسْتَوِيَانِ، أَمَّا طَالِبُ الْعِلْمِ فَيَزْدَادُ رِضًا مِنَ الرَّحْمَنِ، وَأَمَّا طَالِبُ الدُّنْيَا فَيَزْدَادُ فِي الطُّغْيَانِ. ثُمَّ قَرَأَ : إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ وَقَرَأَ : كَلَّا إِنَّ الإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই পিপাসার্ত কখনো তৃপ্ত হয় না। ইলমের অনুসন্ধানী এবং দুনিয়ার অনুসন্ধানী। তবে তাদের পরিণতি ভিন্ন ভিন্ন। ইলমের অনুসন্ধানীর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি বাড়তে থাকে। আর দুনিয়ার অনুসন্ধানীর জন্য আল্লাহর অবাধ্যতা বাড়তে থাকে। তারপর তিনি পাঠ করলেন إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করেন। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন- كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى অর্থ : মোটেই নয়, নিশ্চয়ই মানুষ অবাধ্যতা করে। কারণ, সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।

টিকাঃ
২৩৮. সূরা ফাতির: আয়াত-২৮। হাদীস: মুস্তাদরাকে হাকেম হাদীস-৩১২; শুআবুল ঈমান হাদীস-১০২৭৯; হাদীসটি সহীহ [কাশফুল খফা ২/৩৮০; তাখরীজুল মিশকাত, আলবানী হাদীস-২৫২]।
২৩৯. সূরা আলাক: আয়াত-৬-৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলমী মজলিসের ফযীলত

📄 ইলমী মজলিসের ফযীলত


عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: دَخَلْتُ مَسْجِدَ الْبَصْرَةِ، وَالْأَسْوَدُ بْنُ سَرِيعٍ يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ، وَقَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْمَسْجِدِ، وَخَلْفَهُ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ جُلُوسٌ فِي نَاحِيَةٍ أُخْرى يَتَحَدَّثُونَ الْفِقْهَ وَيَتَذَاكَرُونَ فَرَكَعْتُ بَيْنَ الْحَلْقَةِ وَالذَّكْرِ، فَلَمَّا فَرَغْتُ قُلْتُ : لَوْ أَتَيْتُ إِلَى الْأَسْوَدِ، فَعَسَى أَنْ تُصِيبَهُمْ إِجَابَةٌ وَرَحْمَةٌ تُصِيبُنِي مَعَهُمْ، ثُمَّ قُلْتُ: لَوْ أَتَيْتُ حَلْقَةَ الْفَقِيهِ لَعَلِّي أَسْمَعُ كَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا، فَأَعْمَلَ بِهَا. فَلَمْ أَزَلْ أُخَيِّرُ نَفْسِي فِي ذَلِكَ حَتَّى جَاوَزْتُهُمْ، فَلَمْ أَقْعُدْ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ، فَلَمَّا كَانَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةُ أَتَانِي آتٍ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ: أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَ الْحَلْقَةَ الَّتِي كَانَ يُذْكَرُ فِيهَا الْفِقْهُ، لَوَجَدْتَ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَعَهُمْ جَالِسًا.

হযরত মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহ. বলেন, আমি বসরার মসজিদে গেলাম। সেখানে তখন আসওয়াদ ইবনে সারী বয়ান করছিলেন। মসজিদে উপস্থিত লোকেরা তাঁকে ঘিরে বসা ছিলেন। তাঁদের পিছনে একপার্শ্বে কয়েকজন ফকীহ বসে বসে ফিকাহ সংক্রান্ত আলোচনা করছিলেন। আমি উভয় মজলিসের মাঝে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলাম। নামায শেষে ভাবলাম, যদি আসওয়াদের মজলিসে বসি, হয়তো তাদের দোয়া কবুল হবে, ফলে তাদের উপর রহমত নাযিল হলে আমার উপরও নাযিল হবে। অতঃপর ভাবলাম, যদি ফিকহের মজলিসে বসি, হয়তো নতুন কোনো মাসআলা জানতে পাব এবং তদানুযায়ী আমল করতে পারব। এমন ভাবতে ভাবতে আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে এলাম। সে রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমার নিকট এক আগন্তুক এসে বলল, তুমি যদি ফিকহের মজলিসে বসতে, তাহলে জিবরাঈল আ. কেও তাঁদের সঙ্গে বসা পেতে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম অর্জনের বরকত

📄 ইলম অর্জনের বরকত


হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেন, যে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চায়, যাকে আল্লাহ তা'আলা দোযখ থেকে মুক্তি দিয়েছেন, সে যেন ইলম অর্জনকারীদেরকে দেখে। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে যে আলেমের দরজায় যাওয়া আসা করে, তার প্রতি কদম এবং প্রতি হরফের বিনিময়ে এক বছর ইবাদতের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়, প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি শহর নির্মাণ করা হয়, সে যখন জমিনে চলে, জমিন তার জন্য ইস্তিগফার করতে থাকে, মাগফেরাত লাভের মাধ্যমে তার সকাল সন্ধ্যা হয়, ফেরেশতাগণ তার জন্য সাক্ষি দিতে থাকেন আর বলতে থাকেন, এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা আগুন থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى مَجْلِسَيْنِ، أَحَدُهُمَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، وَالْآخَرُ يَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ، وَيَدْعُونَ اللهَ، وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ فَقَالَ: كِلَا الْمَجْلِسَيْنِ عَلَى خَيْرٍ، وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنَ الْآخَرِ، أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللهَ، فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ، وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ، وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ وَيُعَلِّمُونَ الْجَاهِلَ، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلَّمًا، فَهَؤُلَاءِ أَفْضَلُ، ثُمَّ جَلَسَ مَعَهُمْ।

ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা নবী মসজিদে প্রবেশ করে দু'টি মজলিস দেখতে পেলেন। একটি মজলিস আল্লাহর যিকিরের। আরেকটি ফিকহের। তখন নবী বললেন, উভয় মজলিসই ভালো। তবে একটি আরেকটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এরা আল্লাহর যিকির করছে, দোয়া করছে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে দিতেও পারেন, আবার নাও পারেন। আর এরা নিজেরা শিখছে ও অন্যদেরকে শিখাচ্ছে। আর আমাকে শিক্ষকরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং এরাই শ্রেষ্ঠ। এই বলে তিনি তাদের মজলিসে বসে গেলেন।

টিকাঃ
২৪০. হাদীসটি জাল যেমনটি ইবনে হাজার ও সুয়ূতী বলেছেন [কাশফুল খাফা: ২/৩০৮]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px